প্রিয় বটগাছ, অনেকদিন তোমার ছায়ায় এসে দুদন্ড বসিনি, তোমায় আমার মনের কথা বলিনি। তুমি কি রাগ করেছো? অভিমান? ইশশ তুমি এতো বিশাল এতো বড়, তুমি রাগ অভিমান করে থাকতে পারো? মোটেও না।
শেষবার যখন তোমার কাছে এসে বসে কথা বলেছিলাম অনেক একান্ত কথা বলেছিলাম কিছু না বলা রয়ে গেছে। মানুষের জীবন কতো বৈচিত্রময়। গতবার বেশ হতাশভাবে কথা শেষ করলাম আর যখন আজ আবার কথা বলছি আমার জীবনে কতো কিছু ঘটে গেছে নতুন, আজ আমি আর হতাশার দোলাচালে দুলতে দুলতে ভেসে যাচ্ছি না।
- আমার পুনর্জনম
আমার জীবনের একটি বড় মোড় বাস্তবে নয়, অন্তর্জালের বর্ণমালার বেড়াজালে নিঃশব্দে ঘটে গেছে। যখন আমি হতাশায় ভুগছিলাম অনলাইন জগতে কিছু অসাধারন ব্যক্তিবিশেষের সাথে পরিচয় হলো প্রজন্ম ফোরাম, আমাদের প্রযুক্তির বদৌলতে। অন্তর্জালের অনেক ব্যক্তিকেই কোনদিন আমি দেখিনি হয়তো দেখবোও না তবুও তাদের সাথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা আমার বাস্তব জীবনে কখনই হয়নি। আলোকিত, সেভারাস, শিপলুদা, স্বপ্নচারী ভাই, শামীম ভাই, মুন ম্যাডাম, তারুণ্যদা, মুহাহাহা মানচুদা এদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও বন্ধু হিসেবে, পরিচিত আপনজন হিসেবে কতো গল্প/ঝগড়া/কান্নাকাটি/আবদার করেছি। এদের অনেকেই বড় ভাই হিসেবে ছায়া দিয়ে এসেছে অনেককেই আমি ব্যক্তিগতভাবে আদর্শ মনে করেছি। তাদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি নতুনভাবে কিছু নিয়ে বেঁচে থাকার রশদ দেয়ার জন্য। যে অল্প সময়টুকুও একসাথে সবাই ছিলাম/আছি তা আলাদাভাবে মনে থাকবে সারা জীবন। কারণ বন্ধুবান্ধবের মাঝে যেনো এ আমার নতুন জীবন।
- নিজেকে ফিরে পাওয়া
একই সাথে আমি আবার নিজেকে খুঁজে পেলাম সবার জন্য কিছু করার মাঝে। বাংলাদেশের ফ্রি সফটওয়্যার বা ওপেনসোর্স কমিউনিটির সাছে জরিত হয়ে। সেখানেও রাসেল জন, এঞ্জেলের মতো ভালো বন্ধু শুভাকাঙ্খী পেলাম। ওপেনসোর্স কমিউনিটি আমার সামনে নতুন একটি পৃথিবীর দরজা খুলে দিলো, সেখানে শুধু স্বপ্ন ছোট ছোট পদক্ষেপে পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দেয়ার, পৃথিবীকে আরও সুন্দর নির্মল করে তোলার। জানি এই কাজ সহজ নয়, জানি বহু বাধা বিপত্তি আসবে তবুও ইচ্ছে হয় লড়ে যাই। স্রোতের বিপরীতে আমরা কয়েকজন হাতে হাত রেখে স্রোতের দিকপ্রবাহ পরিবর্তন না করতে পারি, কিছুটা স্লথ তো করতে পারি? বড় আশা নিয়ে কাজে হাত দেই। কিছু ছোটখাটো লেখা লিখেছি, কয়েকটি অনুষ্ঠান করলাম, নতুন মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাত হলো। এতে আমার আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও বেড়েছে, নিজেকে নিয়ে এখন আর অতো হতাশা জাগে না। জানি সামান্য কিছু হলেও তো আমার মতো করে সাহায্য করছি। তাই নিজেকে আরও কিছুটা ব্যস্ত রাখতে চাই কাজের মাঝে, আরও বড় কিছু করার আশা করি।
এছাড়াও নির্ঝর, নাসেফ, মাহদী, লেনিন ভাইদের সাথে যোগাযোগ টুইটার, ফেসবুকের বদৌলতে। যারা ফেসবুককে গালমন্দ করেন তাদের জানা উচিত ফেসবুক অনেকের জীবন পরিবর্তনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে (তবে আমি মানি সবকিছুরই মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি খারাপ তাই ফেসবুক আসক্তিও খারাপ)।
- জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া
নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়া, কাজের মাঝে থাকার পরও জীবনে কিসের যেনো অভাব ছিলো। জীবনে নিজের জন্য বড় কোন স্বপ্ন আকাঙ্খা ছিলো না, ছিলো না কোন লক্ষ্য। জীবন চলে যাচ্ছে তাই কাটিয়ে যাচ্ছিলাম জীবন, একই তালে একই লয়ে, নেই উত্তেজনা নেই আবেগের আতিশয্য। হুট করে তা আমার জীবনে এসে গেলো। আমার জীবনে হারিয়া যাওয়া পরিচিত একটি মূহুর্ত যেনো ফিরে এসেছিলো আর তাতেই আমার জীবনের অর্থ বদলে গেলো। জুলাই ৪, ২০০৯ সন্ধ্যাবেলা আমি প্রেমে পড়িলাম।
উহু প্রথমেই মেয়েটার প্রেমে পড়িনি, পড়েছি তার আবেগের প্রেমে তার কথার প্রেমে। মেয়েটি আর কেউ ছিলো না আমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধু, কলেজে যার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি একসাথে। হঠাৎ করে সেই সন্ধ্যার পর থেকে অসম্ভব ভালো লাগা শুরু হলো, মনে হতো এমন ভালো সুন্দর আবেগ দিয়ে আমায় যদি কেউ ভালোবাসতো। বেশ কিছুদিন মনের মধ্যেই রেখে দেয়া লাগলো আমার ইচ্ছের কথা ভালো লাগার কথা পরে রাযিকে বলি। রাযি কিছুদিন ধরে চাপাচাপি করার পর মেয়েটাকে কিছুটা আভাস দিলাম। আমার আভাস মেয়েটা কতোখানি বুঝতো জানি না। দুই মাস পর সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ রাযি মেয়েটিকে বলে আমার ভালো লাগার কথাটা। মেয়েটি সেদিন রাত্রে ফোন দেয়, বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় এরপর দুজনের পথ চলা। প্রথমেই ভালোবাসি বলতে পারিনি, কিছুদিন সময় লেগেছে বলতে, কিন্তু বলার পর যেনো ভেসে চলছি। এখন নিত্য নতুন স্বপ্ন দেখে যাওয়া আর সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটি দিন (রাত) কাটে।
- কিছু বেদনার ফোঁটা
জীবনে সুখ আনন্দ যেমন আছে তেমনই আছে দুঃখ কষ্ট বেদনা। অসম্ভব সুখের জোয়াড়ে যখন মাত্র ভাসতে শুরু করেছি তখনই আমার জীবনে আরেকটি ধাক্কা। আমার বাবাকে হারালাম। মাথার উপর দিয়ে একটি ছায়া সরে গেলো। পৃথিবী কতোখানি কঠিন তা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। মানুষের সরুপও তখন ভালোভাবে বোঝা যায় কে আপন আর কে পর।
এরপরও দুঃখটা অনেকখানি কাটিয়ে উঠতে পারছি কারণ আমার পাশে সবসময় আমার ভালোবাসার মানুষকে পেয়েছি। সেই মানুষটিই অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে ভালো কিছু করার জন্য।
- রঙীন দিনের পূর্বাভাস
এদিকে বিবিএ কোর্স প্রায় শেষ, ইন্টার্নশীপ খুঁজছিলাম এতোদিন। চারপাচ জায়গায় আবেদন করে ইন্টারভিউ দেই। সবখানেই বলে ভালো হয়েছে পরে যোগাযোগ করবে, কেউ কেউ যোগাযোগ করেছে কিন্তু যে পজিশনে করে সেটা সুবিধাজনক না। মাঝে একটি ফার্মে জয়েন করেছিলাম ভালোই লাগছিলো কাজ করতে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করার জন্য সেক্রেটারী পোস্টে। কিন্তু বাধ সাধলো পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব যেটা এড়ানো সম্ভব ছিলো না। নতুন অফিসে জয়েন করেই দুই তিনদিন পরপর ছুটির আবেদন মানায় না তাই ছেড়ে দিতে হলো।
এখন সামনে আরেকটি ফার্মে জয়েন করছি (খুব সম্ভবত) ১৫ তারিখে। এরা আমাকে ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দিবে তিন/চার মাসের জন্য। তবে সমস্যা এরা স্থায়ী চাকরী দিচ্ছে না কেবল প্রজেক্ট পিরিয়ডেই নিযুক্ত করছে।
হুমম জীবনটা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে এখন, এখন আর হতাশায় বেড়াজালে ঢাকা নয়। অনেক রঙীন স্বপ্নও দেখতে শিখেছি। আশা করি আমার জীবনটা যেনো এমন রঙীনই হয়।
(উৎসর্গ আমার ভালোবাসার মানুষটাকে। তাকে ছাড়া আমার জীবনটা অন্ধকার, দিশাহীন)।
Excellent article, I will take note. Many thanks for the story!
You rocked Mouyoukh vai. Excellent writing. Would be the best if you could be a bit sincere to your spelling. Never mind, 9/10.
ধন্যবাদ, তবে কি বানান ভুল হয়েছে আমি জানি না, উল্লেখ করলে হয়তো ভবিষ্যতে ভুলগুলো করা থেকে বিরত থাকতাম।
” তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান—-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়…
ভালোবাসাহীন জীবন মানেই গতিহীন দিশাহীন
সবার জীবন ই ভালোবাসাবাসি তে ভরে থাকুক