আমার এই গল্পের শুরু আজ থেকে তিন বছর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে।
খুব বেশিদিন হয়নি আমি লিনাক্সের ভুবনে পদার্পন করেছি, সেটাও আরও অনেকের মতো উবুন্টু লিনাক্স দিয়ে। আমি যখন লিনাক্সের ভুবনে আসি লিনাক্স ওপেনসোর্স নিয়ে ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে, প্রবল আগ্রহ থেকেই আমার পথ চলা। তখনও ওপেনসোর্স বা লিনাক্স নিয়ে এতো মাতামাতি শুরু হয়নি, ওপেনসোর্স বা লিনাক্সের উপর বাংলা লেখাও অপ্রতুল। লিনাক্স নিয়ে গুতাই, প্রতিদিন এর শক্তি/ফিচার/সৌন্দর্য নিয়ে আপন মনে পুলকিত হই। আমার চাহিদা খুবই সাধারণ থাকায় খুব বেশি সমস্যায় পরিনি, আবার যেসব সাধারণ সমস্যায় পরেছিলাম তার সমাধান করে নিয়েছি বিভিন্ন বিদেশী সাইট/ফোরামের সহায়তায়। এরপর কিছুদিন উবুন্টু বাংলা অনুবাদও করলাম।
এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন উবুন্টু উইকি-তে লোকো টিম সম্পর্কে জানতে পারি। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লোকো টিমের মাধ্যমে একটি বড় উবুন্টু সম্প্রদায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে পুলকিত হই। সেখানেই একটু খুঁজতে পেয়ে যাই উবুন্টু বাংলাদেশ টিম প্রোফাইল। বাংলাদেশে আরও উবুন্টু ব্যবহারকারীদের সাথে পরিচিত হবো এই আশায় উবুন্টু বাংলাদেশ ওয়েবপোর্টালে যাই। সেখানে পুরাতন কিছু খবর ও সহায়িকা দেখি। মনে হয় আর সবক্ষেত্রের মতো এই ওয়েবপোর্টালও অবহেলিত।
মনে হলো যদি তাদের কোনভাবে সহযোগীতা করা যায়। যেমন ভাবা তেমন কাজ। তাদের যোগাযোগ পাতায় জানিয়ে দিলাম তাদের পোর্টাল আপডেট ও নতুন সহায়িকা লেখার কাজে সহযোগীতা করতে ইচ্ছুক।
কিছুদিন পরই একজন ইমেইল করলেন আমার আগ্রহকে উৎসাহ দিয়ে জানতে চাইলেন কিভাবে আমি সাহায্য করতে চাই। এই একজন আর কেউ নন উবুন্টু বাংলাদেশ টিমের লিডার রাসেল জন। আমি আবারও তাকে জানালাম নতুন খবর আপডেট ও কিছু লেখা দিতে আগ্রহী আছি। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি অনুবাদে আগ্রহী কিনা, এবং এরপর আমাকে পরখ করার জন্য তিনটি আর্টিকেল পাঠায় অনুবাদ করতে। আর্টিকেল দেখে কিছুটা হতাশ হই, কারণ সেগুলোর প্রত্যেকটিই তিন মাসের বেশি পুরাতন। যাই হোক যথাসময়ে অনুবাদ করে দিলাম তাকে। তখন তিনি আমাকে বললেন তিনি আমাকে উবুন্টু বাংলাদেশ সাইটে এক্সেস দিচ্ছেন আমি যেনো নিজেই পোস্টগুলো দিয়ে দেই। যদিও আমি কখনও জুমলায় কাজ করিনি, একটু ঘেটে দেখে নিলাম কোথায় কি আছে এরপর পোস্ট দিলাম। সেই থেকে শুরু এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখা ও খবর সাইটে দিয়েছি।
একদিন রাসেল ভাই দেখা করতে বলেন তার সাথে। বনানীতে বুমার্সে দেখা করলাম তার সাথে। দীর্ঘ সময় ধরে এটা ওটা আলোচনার পর রাসেল ভাই আমাকে উবুন্টু বাংলাদেশ টিমের কন্টেন্টস ও মার্কেটিং অফিসার হবার প্রস্তাব দেন। তখন থেকেই প্রতি নিয়ত সুযোগ মতো সাহায্য করে গেছি উবুন্টু বাংলাদেশ টিমকে। উবুন্টু বাংলাদেশের কন্টেন্টস ও মার্কেটিং অফিসার হিসেবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লেখা দিয়েছি, কখনও কখনও শখের সহায়িকা লিখেছি।
এরপর প্রজন্ম ফোরামে পরিচয় হয় স্বপ্নচারী ভাই, শামীম ভাই, শিপলু ভাই, আলোকিত-র মতো লিনাক্স/ওপেনসোর্স নিবেদিত মানুষ। কিছুদিন পর আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে দেখা মেলে শাবাব ভাইয়ের। তাদের সকলের সহযোগীতায়ই লিনাক্সের প্রচার প্রসার পায়। রাসেল ভাই, এঞ্জেল, রুবন ভাই, শামীম ভাই, শাবাব ভাই, হাসিন ভাই, লেনিন ভাই, ডার্কলর্ড, অমি ভাই এমন অনেক মানুষের সহযোগীতায় আয়োজন করতে পারি বেশ কয়েকটি রিলিজ পার্টি। এরপর দেখতে দেখতে যেভাবেই হোক লিনাক্সের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে ওপেনসোর্স ও লিনাক্সের উপর বাংলা লেখা ও সহায়িকা।
এখন লিনাক্স আর ভীতির নামান্তর নয়, এখন অনেকেই খুব গর্বের সাথে লিনাক্স ব্যবহার করে। নিজেকে বন্টু বা মিন্টু হিসেবে পরিচয় দেয়। এসবেরই ধারাবাহিকতায় এই তো গত শুক্রবার হয়ে গেলো “বন্টু মিন্টুর আড্ডা”।
অনুষ্ঠান শেষে রাসেল ভাইয়ের ফোন। অনেকদিন ধরে আলোচনার টেবিলে যা ছিলো তা তিনি চূড়ান্ত করলেন। অবশেষে শাবাব ভাই ও আমাকে উবুন্টু বাংলাদেশের টিম কন্ট্যাক্ট ও লিডার হবার জন্য অনুরোধ জানান। মৌখিকভাবে সম্মতি প্রদানের পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উবুন্টু বাংলাদেশ টিমের লিডার হিসেবে শাবাব ভাই ও আমার নাম প্রকাশ করা হলো।
শাবাব ভাই খুবই উদ্যোমী একজন মানুষ। তারই প্ররোচনায়, উদ্যোগে ও সহযোগীতায় “বন্টু মিন্টুর আড্ডা” সফল বাস্তবায়ন। আশা করি তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশের ওপেনসোর্স ও লিনাক্স অঙ্গনে আরও কিছু অবদান রাখতে পারবো।
বর্তমানে টিম লিডার হিসেবে যেসব পরিকল্পনা আমি ব্যক্তিগতভাবে পোষন করি:
১) উবুন্টু বাংলাদেশ ওয়েবপোর্টালটিকে নতুন করে ইউজারফ্রেন্ডলি হিসেবে সাজিয়ে তৈরি
২) অনলাইনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মান সম্পন্ন সহায়িকা ও লেখাগুলো এক স্থানে নিয়ে আসা
৩) আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবকদের এককাট্টা করে দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া
৪) আরও সুসংগঠিতভাবে ওপেনসোর্স/লিনাক্স/উবুন্টু-র প্রচারণা চালানো
৫) বাংলাদেশের অন্যান্য লিনাক্স কমিউনিটির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন, প্রয়োজনে সাহায্য সহযোগীতা নিশ্চিত করতে হবে
আপাতত এই কাজগুলোই গুছিয়ে করতে আগ্রহী। জানি না কতোদূর সফল হবো, সময়ই বলে দিবে। সুন্দর দিনের প্রতিক্ষায়…….
বাহ অনেক কঠিন কঠিন কথা অনেক সুন্দর আর সহজ করে বলেছো। নিঃসন্দেহে তোমার কাজ প্রশংসার যোগ্য।
একটা ভালো কাজের মুল্যায়ন হয়তো সঠিক সময়ে হয় না কিন্তু তা বৃথা ও যায় না। তাই প্রার্থনা করি তোমার সুন্দর দিনের প্রতিক্ষা যেনো সত্যি ই সুন্দর কিছু বয়ে আনে আর সবার জন্য
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল আর শুভ কামনা তো থাকবেই……
নতুন পদ পাবার জন্য আপনার এবং শাবাব ভাইয়ের জন্য রইল শুভকামনা। আর আমরা তো আছিই সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে
ধন্যবাদ তারেক ভাই উৎসাহ দেয়ার জন্য। তবে ভাই পদ দিয়ে কি হবে বলুন? আপনি আমি সবাইই তো চাই বাংলাদেশে ওপেনসোর্স ও লিনাক্সের প্রসার ঘটুক। তাই পদ পেয়েছি এটা খুশির নয় বরং দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো। বরাবরের মতো আপনাদের সহযোগীতায় কাম্য হবে।