পরিচয় ও সম্পর্কের অগ্রসর তাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কলেজে থাকতে। না কোন নাটকীয়তা নেই, নেই কোন ঝনঝনানি। খুবই স্বাভাবিকভাবে পরিচয়। এমন কতোজনের সাথেই তো পরিচয় হয়, এরপরও কিছু কিছু পরিচয় জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। তার সাথে পরিচয় এমনই…. রাযি, মিঠু, আমি এই তিনজন তখন কম্পিউটার কোচিং করতে যাবো আমাদের কলেজের ‘কম্পিউটার শিক্ষা’র শিক্ষকের কাছে। তো তখন পুরো ব্যাচ না হলে শিক্ষকরা পড়াতে চাইতেন না। আমরা ব্যাচমেট খুঁজছি, এমন সময় একদিন রাযি বললো তার পরিচিত এক মেয়ে আছে নিউটন বি-তে সেও পড়তে চাচ্ছে কম্পিউটার কোচিং-এ। তো ভালোই হলো একদিন কলেজ ছুটির পর দেখা করার কথা হলো। সেদিন ছুটির পর সে এলো, না বলবো না তাকে দেখে হৃদয়খানি ছলকে উঠেছে, বলবো না মনের ভিতর কুহুকুহু রব উঠেছে। ওকে আগেও কয়েকবার দেখেছিলাম আফরিনের সাথে তবে সেভাবে খেয়াল করা হয়নি (আমি মেয়েদের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাতাম কম)। সত্যি বললে প্রথমেই ভালো লেগেছে তাকে, বেশ ভালো লেগেছে। আময়িক, মিষ্টভাষী এক মেয়েকে কার না ভালো লাগবে। তবে আমি নিজেও অনেক চাপা স্বভাবের ছিলাম তাই বেশি কথা তার সাথে বলা হয়নি। কোচিং বিষয়ে যা কথা বলার রাযি আর মিঠুই বললো আমি শুধু শুনে গেলাম (আসলে ঠিক শুনি নাই, এক কান দিয়ে ঢুকলে আরেক কান দিয়ে বের হয়ে গেছে। কারণ আমার মনোযোগ কোনদিনই পড়ালেখার দিকে ছিলো না)। যাই হোক কিছুদিন পর কোচিং শুরু হলো। কলেজের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, স্যার বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার পর আমরা যেতাম। এই অপেক্ষার সময়টা আমরা শাহীন কমপ্লেক্সে অপেক্ষা করতাম। মিঠু ‘আনন্দ’-এর সিঙ্গারা খুবই পছন্দ করতো। প্রায়ই আমরা সেখানে সিঙ্গারা খেতাম। মিঠু, রাযি, আমি একসাথে থাকলেও সে আসতো না, আমাদের সাথে খেতোও না (আসলে এভাবে খাওয়াটা তার পছন্দের ছিলো না, কারণ বিল পে করার সময় একজনই তা করতো সবাই শেয়ার করতো না, অধিকাংশ সময় দেখা যেতো সে আমাদের গেস্ট হিসেবে থাকতো, হোস্ট হিসেবে নয়)। সে অনেক পরে আসতো যখন সময় হতো তার কিছুক্ষণ আগে। আমরা গল্প করতে করতে হাঁটতাম। আমরা বলতে আসলে মিঠু রাযি আর সেই কথা বলতো, আমি সেভাবে কথা বলতাম না। এর কারণ আমি কিছুটা চাপা আবার কখনও কখনও তাদের কথা বুঝতে পারতাম না। আমি হাঁটতাম একটু দূরে দূরে, ওদের দেখতাম ওদের কথা শুনতাম, ওকে ছলখল করতে দেখেছি অনেকদিন ধরেই। এভাবে ধীরে ধীরে সম্পর্ক বাড়ে আমাদের মাঝে। ভালো লাগাও বাড়ে। উহু এই ভালো লাগাকে প্রেম বলা যায় না। কেবলই নিছক আকর্ষণ পছন্দ করা, বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক প্রগাঢ় হওয়া। সেই মনে হয় প্রথম মেয়ে যার সামনে কথা বলার সময় আমাদের আলাদা অসংকোচ থাকেনি, কেবল নিছক বন্ধুই মনে হয়েছে মেয়ে বন্ধু বা বান্ধবী নয়। তার সঙ্গে কৌতুক করা, হাহাহিহি করা, শয়তানী করা, সিগারেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করা, ডাব খাওয়া, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা, কোনকিছুই বন্ধ হয়নি। মেয়েটি আমাদের কর্মকান্ড বিস্ময়ভরা চোখ দিয়ে দেখতো, আমাদের কথা মন দিয়ে শুনতো, মিষ্টি করে হাসতো। কোচিং শেষে আবার অনেকদিন কলেজ শেষেও আমরা ভলবোতে চড়ে ফিরতাম। সুযোগ হলেই দোতলায় উঠে যেতাম আর পাশাপাশি সিট দখল করে চিল্লাচিল্লি হাহাহিহি। মিঠু মাতিয়ে রাখতো মজার কথা বলে, রাযি নতুন নতুন ভাবগম্ভীর কথা বলতো, আর আমি রাযি সাথে অথবা মিঠুর পিছে লাগতাম। সে মিঠুর কথা শুনে হাসতো, আমাদের ঝগড়া থামাতো। হাসিখুশি থাকতাম আমরা সবাই। তাকে দেখে দেখে তার প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে ওঠে কিন্তু তারপরও আলাদা কিছু মনে হয়নি। কলেজে আমাদের বয়স এমন থাকে যে কিছুদিন হয়েছে মাত্র ছেলেমেয়ের মাঝে যে আলাদা সম্পর্ক হতে পারে, ভালোবাসা বলে কিছু আছে তা নিয়ে বন্ধুবান্ধবের মধ্যে আলোচনা চলে। কখনও কখনও আমারও মনে হয়েছে ‘যদি কাউকে ভালোবাসতে পারতাম, কেউ আমাকে ভালোবাসতো’। কিন্তু তারপরও আমি ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিলাম না, একসময় আমার মনে হয়েছে ভালোবাসা কিছুই নয়, কিছু তীব্র অনুভূতি যা একজন আরেকজনকে কাছে টেনে নেয়। তাই ভালোবাসবো কাউকে, বিয়ে করবো, ঘর সংসার করবো এসব মনে হয়নি, মনে হবার বয়সও ছিলো না। আর তাই তাকে কেবল ভালো লাগে এটাই জানতাম। এই ভালো লাগাটা বেড়ে যায় আরও বহুগুন এক বর্ষার দিনে। বৃষ্টি আমার অসম্ভব পছন্দের জিনিস। যখনই বৃষ্টি হয় যদি বাইরে থাকি আমি অবশ্যই ভিজবো, তাতে জামাকাপড় কাগজপাতি ভিজে গেলে যাবে। স্কুলে কলেজে তো এই জিনিসটা আরও বেশি ছিলো। যাই হোক যা বলছিলাম। কলেজ ছুটি হয়েছে বাসায় ফিরবো আমরা, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু। আমি সাথে সাথে ভেজার জন্য ছটফট, রাযি মিঠুকে বলায় রাজি ওরা, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ভিজবে নাকি। কিছুক্ষণ ভেবে আমাকে অবাক করে দিয়ে রাজি হয়ে গেলো সে। এরপর কি? ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা, কাঁদায় লাফালাফি, হাহাহিহি করা, একজন আরেকজনকে ধাক্কা দেয়া। হঠাৎই লক্ষ্য করলাম তাকে কতো সুন্দর লাগছে। মনে হলো মেয়েরা সহজে ভিজে না কারণ তাদের দিকে অনেকে খারাপ ভাবে তাকায়। কিন্তু যদি কেউ সাদা চোখে দেখে তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটাই দেখতে পারবে, মানুষ কতোটা সুন্দর হতে পারে তা বুঝতে পারবে। আমিও তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমার ইচ্ছে করেছে জড়িয়ে ধরি, একটু গালে হাত বুলিয়ে দেই। কিন্তু এরপরই লজ্জা লেগেছে এমন উদ্ভট চিন্তার জন্য। এরপর সারা রাস্তা সেভাবে কথা বলা হয়নি, বাসে সুযোগ হয়েছিলো তারপাশে বসার। না বসে রাযিকে বলি বসার জন্য। সেই দিনটির স্মৃতি অনেকদিন ধরে রয়ে গেছে, পরে অনেককিছু ঝাপসা হয়ে গেলেও তার বৃষ্টিতে নামা এবং বৃষ্টিতে ভিজে মুচকি হাসাটা এখনও মনে আছে এখনও চোখ বুজলে দেখতে পারি। সেইদিনের পর তার পাশে যেতে ভালো লাগতো বেশ। আমরা সবাই রিক্সায় উঠলে আমি অথবা মিঠু উপরে উঠতাম।আমি উপরে উঠলে সে মাঝে বসতো আর তার চুলের ঘ্রাণ কখনও কখনও মাতিয়ে তুলতো। কিন্তু এগুলোকে হেসেই উড়িয়ে দিতাম। এরপর আমরা টেস্ট পরীক্ষা দিলাম, দেয়ার পর সবাই উপলব্ধি করলো বাংলায় আমরা সবাই কাঁচা, ইন্টারে ভালো করতে হলে বাংলা কোচিং দরকার। আমরা আমাদের বাংলা শিক্ষিকার সাথে কথা বললাম। এবারও আমাদের গ্রুপে রাযি, মিঠু, সে ও আমি। সাথে মনে হয় আরও দুইএকজন ছিলো মনে নেই ঠিক। যাই হোক রাযি মিঠু সে ও আমি এক কাকলী মোড়ে আসতাম এসে হেঁটে হেঁটে শিক্ষিকার বাসায় যেতাম। ওনার বাসা খুব সুন্দর এলাকায় ছিলো, গাছগাছালি আর ছায়া ঘেরা। সেখান দিয়ে হাঁটতাম আমরা আর গল্প করতাম নানাবিষয় নিয়ে। একসময় পরীক্ষা ঘনিয়ে আসলো। পরীক্ষা নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো। পরীক্ষাও দিলাম। কিন্তু কেনো জানি দূরত্ব তৈরি হলো। পরীক্ষা দিয়ে রাযি, মিঠু আমি বের হয়ে কথা বলতাম তার দেখা পেলেও তার সাথে কথা হতো না বেশি। সে চলে যেতো। পরীক্ষা শেষ হলো, রাযি মিঠু আমি একসাথে আসলেও তার সাথে যোগাযোগ ক্ষীন হতে থাকলো। পরীক্ষার ফলাফল দিলো, রাযি মিঠুর সাথে দেখা হলেও তার সাথে দেখা হয়নি। পরীক্ষার সময়ের আর পরের ক্ষীন যোগাযোগ আর ফলাফলের সময় না থাকায় মন খারাপ হলো। অভিমানও সৃষ্টি হলো। (পরে জেনেছি তার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় কষ্ট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে গিয়েছিলো)। ফলাফলের পর যোগাযোগ নাই হয়ে গেলো। আমরা যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম। রাযি আর আমি এআইইউবিতে গেলাম, মিঠু প্রথমে তিতুমীর এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলো। জীবনে নানা ঘটনা ঘটে গেলো। কেবল তার বিষয়ে কিছুই জানা হতো না। কেবল তার জন্মদিন ঘনিয়ে আসলেই মিঠু ফোন দিতো, বলতো তার জন্মদিনে যেনো আমরা শুভেচ্ছা জানাই তাকে। শুভেচ্ছা জানানো হতো, কিন্তু তারপরও তেমন কোন নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। হঠাৎ একদিন উত্তরায় দেখা, ব্রীজের উপর মা আর বোনের সাথে যাচ্ছিলো কোথাও। সামান্য কথা হলেও ভালো লাগলো। এরপর এক ঈদে তার বাসায় গেলাম রাযি, মিঠু সাথে। এক বছরের নিরামিষি ব্রত ভাঙ্গলাম কেবল তার হাতের রান্না মাংস খাওয়ার জন্য। গল্প হলো নতুন করে সেতুবন্ধন হলো। কালেভাদ্রে তার সাথে ফোনে কথা হতো। মাঝে মধ্যে রাতে ফোন দিতো জানতে চাইতো কি করি কিন্তু বেশি কথা বলতো না রেখে দিতো (আসলে সে মন খারাপ করে ফোন দিতো বন্ধুদের গলা শুনে মন হালকা করার জন্য, যদি এটা জানতাম তাহলে কখনই মন খারাপ নিয়ে ফোন রাখতে দিতাম না তাকে)। ভালোবাসার শুরু গত বছরের জুলাইয়ে আমি রাযির সাথে দেখা করতে যাই। রাযি আর আমি নানা বিষয়ে গল্প করছিলাম একসময় বের হলাম উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটতে। রাস্তায় তাকে রিক্সা করে যেতে দেখলাম বোনের সাথে। আমি ফোন দিতে বললাম রাযিকে, রাযি প্রথমে বললো ধরবে না, আমিও পরে ভাবলাম ধরলেও হয়তো ফিরবে না। এরপরও আশা নিয়ে ফোন দিলো রাযি। আমাদের আনন্দে ভাসিয়ে দিয়ে সে হাজির। অনেক সময় ধরে গল্প করা হাঁটা, নিজেদের জীবনের নানা কথা ভাগ করে নেয়া। সে তার দুঃখের কথা বলছিলো, তার অতীতের এক সম্পর্কের কথা বলছিলো তারই মাঝে হঠাৎ সে বলে উঠে “দ্যাখ, আমরা এতো বড় হয়ে গেছি, ২৪/২৫ বছর আমাদের। দুদিন পর বুড়াবুড়ি হয়ে যাবো। কিন্তু এখনও কেউ আমাদের হাত নিয়ে বললো না ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এটাতে খুব খারাপ লাগেরে। আমার খুব ইচ্ছে কেউ আমাকে বলুক ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। কেউ আমাকে ভালোবাসে এই অনুভূতিটা আমি পেতে চাই!” জানি না তার এই কথাটা খুব নাড়া দিলো। খুব ইচ্ছে করলো তাকে জড়িয়ে ধরে বলি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। অনেকক্ষন হাঁটা হলো। রাযি আর সে অনেক বিষয়ে কথা বললো। আমি আপন মনে তার বোনের সাথে হাঁটলাম (পরে শুনেছিলাম তার বোন নাকি বলেছিলো আমাকে তার ভালো লেগেছে, আমি খুব শান্ত এবং ভাবুক প্রকৃতির)। এরপর আমরা তার বাসায় গেলাম রাযি তাকে অনেক কথা বললো কিভাবে শক্ত হতে হবে এগিয়ে যেতে হবে জীবন নিয়ে তা পরামর্শ দিলো। আমি কেবল দেখলাম তাকে, নিজের ভিতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি অনুভব করছিলাম যা আগে কখনও হয়নি, কেমন জানি কষ্টকর, কিছু বুক থেকে উঠে আসতে চাইছে কিন্তু মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। মনে তোলপাড় চললেও মুখে হাসি নিয়েই ফিরি। সেদিন রাত্রে রাযির বাসায় ছিলাম কিন্তু একটুও ঘুমাতে পারিনি। কেবল তার দুঃখের কথাই ভাবছিলাম, ভাবছিলাম সে যেভাবে ভালোবাসা চেয়েছে আমি যদি সেভাবে তাকে ভালোবাসা দিতে পারতাম তাহলে কেমন হতো? সারারাত জেগে থাকার পর সকালে তাকে একটা রাইম লিখি “while she waited for prince charming to fall for her she overlooked the humble peasant (who always loved her) was standing near I never had any clue, how to tell her “I Love You”. Words that I could not say were in my eyes, she looked at me but could not hear my cries” এতে আমার আকুতি আর ভালো লাগাটাই প্রকাশ করতে চেয়েছি। এরপর একদুই মাস কেঁটে গেলো, একদিন রাযি, জাহিদ, বাপ্পী আর আমি দেখা করলাম জাহিদের বাসায়। গল্প করে একসময় আমরা ‘ক্যাপ্টেনস’-এ কফি খাবো বলে অনেক্ষণ হেঁটে গেলাম নানা বিষয়ে কথা বলতে বলতে ভালোবাসা নিয়ে কথা উঠলো, সবাই তাদের মতামত দিচ্ছিলো আমিও দিলাম। কফি অর্ডার দিয়ে বসেও কমবেশি একই বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আমার কথাবার্তায় হঠাৎ রাযি জিজ্ঞাসা করলো “কিরে কি হয়েছে তুই কাউকে ভালোবাসিস নাকি”। আমি বলি “ওরকম কিছু না”। তখন সবাই চেপে ধরে। হু হা করি। একসময় রাযি অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ে “আমি মনে হয় জানি কাকে ভালোবাসিস”। রাযি তার নাম বলায় আমি বললাম “হুমম কি করে বুঝলি?” রাযি “বুঝা যায় বুঝা যায়, তো সমস্যা কি তাকে বলে ফ্যাল?”। আমি “ধুর, ওকে ভালো লাগে সেটা ঠিক আছে, প্রচন্ড ভালো লাগে। কিন্তু ওকে যে ভালোবাসি সেটা বলতে পারি না।” রাযি “তাহলে আর কি যদি তুই শিওর না হস, তাহলে তাকে তুই ভালোবাসিস বলে লাভ নাই। আগে শিওর হ”। কথা সেখানে সেদিনের মতো শেষ হলেও রাযি পিছন ছাড়েনি। পরে নানা সময়ে কথা হয়েছে রাযির সাথে। রাযি আমাকে গুঁতাতে থাকে তাকে বলার জন্য। এরপর তার সাথে আবার দেখা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কোন একদিন। সেদিন সে জানায় তার আগের সম্পর্কের সব স্মৃতি সে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। সে কিছুদিন মুক্ত থাকতে চায়। রাযি আবারও গুতায় তাকে বলার জন্য। সরাসরি বলার মতো অবস্থা বা ভাষা আমার ছিলো না। তাই সে যখন চলে যেতে থাকে তাকে বলি “তোমার জীবনে তো এখন কেউ নেই, তোমার খালি হৃদয়ে কি একটু জায়গা পেতে পারি?” সে আমার হেয়ালীপূর্ণ কথা বুঝতে পারেনি, রাযিকে জিজ্ঞাসা করে আমি কি বলছি। রাযি তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলে আমি তাকে ভালোবাসি কলেজ থেকে কখনও বলে ওঠা হয়নি। জানি না তার মনে কি চলে। আমার মন যেনো নির্ভার হলো। কি হবে সে কি বলবে এই নিয়ে মনে সামান্য চিন্তা থাকলেও ফুরফুরে মেজাজেই বাসায় যাওয়া। রাতে সে ফোন দেয়। জিজ্ঞাসা করে আমি সন্ধ্যায় কি বলতে চেয়েছি আসলে। লাইনে সমস্যা হতে থাকায় তার কথা বুঝতে পারছিলাম না, সে রেখে দেয়। আমি আবার তাকে ফোন দেই। এরপর দীর্ঘ সময় আমাদের মাঝে কথা হয়। সে জানতে চায় আমি কেনো আগে তাকে বলিনি, আমি তার সম্পর্কে আসলেই সিরিয়াস কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকক্ষণ কথা শেষে সে বলে সে রাজি। আমার জীবনটাই বদলে যায় সেই সময় থেকে। ভালোবাসার দিনগুলো ভালোবাসা মানুষের জীবনকে রঙীন করে দেয়। কথাটা মিথ্যে নয়। তাকে ভালোবাসার পর আমার জীবনে নতুন রঙ লাগলো, পালে যেনো নতুন হাওয়া। তাকে শুরুতেই বলিনি ভালোবাসি, কেবল বলেছি ভালো লাগে। তাকে সেই কথাগুলো বলার পর থেকে নিয়মিত ফোনে কথা হতো, এরপর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তার সাথে দেখা করি। প্রথমবারের মতো ডেটিং, হুমমম কখনও মনে হয়েছি কী ডেটিং-এ যাচ্ছি? কেবল মনে হচ্ছিলো জীবন নামক নাটকের নতুন একটা অধ্যায়ের পর্দা উঠছে। তার সাথে দেখা হলো কোন এক ফাস্টফুড জয়েন্টে। নানা উদ্ভট কথা হলো। তাকে আমি ভরকে দিলাম এই কথা বলে, “শুনো একটা কথা পরিস্কার করে বলি, আমি তোমাকে ভালোবাসি আর যাই করি না কেনো ১০ বছরের আগে বিয়ে করতে পারবো না। আমার নিজের কিছু উপার্জনের ব্যবস্থা করতে হবে, আমার কিছু করার ইচ্ছে আছে সেগুলো পূরণ করতে হবে, এরপর কিছু টাকা জমাতে হবে তারপর বিয়ে করতে পারবো। তোমাকে সুখী করতে পারবো কিনা জানি না তবে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো তোমার মনের মতো হতে।” মনে আছে প্রথম ডেট-এ বিল পে করেছিলো সে (হুমমম এখনও আমি কিছু খাওয়াতে চাইলে সহজে খেতে চায় না বা তাকে কিছু কিনে দিতে পারি না সহজে, অনেক তালবাহানা করে। কয়জন প্রেমিক আমার মতো সৌভাগ্যবান(!!) হয়??) এরপর দুইজনে হাঁটলাম রাস্তা ধরে এলোমেলোভাবে। হাঁটতে খুবই খুবই ভালো লাগছিলো, অনেকটা পুরোনো কলেজের দিনগুলোর মতো। হাঁটতে হাঁটতে ইচ্ছে হলো তাকে জড়িয়ে ধরি বুকের মাঝে শক্ত করে। যেই ভাবা সেই তাকে বলা। শুনে সে আঁতকে উঠে একটু ধীর হয়ে গেলো হাঁটায়, বললো “পরে কোন একসময় হবে কিন্তু এভাবে রাস্তাঘাটে না কখনই”। এরপর বিদায়। মজার বিষয় এই পুরোটা সময়ের কোন মূহুর্তেই আমরা একে অপরকে বলিনি ভালোবাসি। তাকে প্রথম ‘ভালোবাসি’ কথাটি বলি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। মনের ভিতর একরাশ আবেগ নিয়ে বলেছিলাম “আমি এতোদিন বলিনি ‘তোমাকে ভালোবাসি’, কেবল বলেছি ‘তোমাকে ভালো লাগে’। আজ আমি বলতে পারি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, প্রচন্ডভাবে ভালোবাসি! ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি’”। এরপর কতো দিন কতো রাতই না কেটে গেছে মুগ্ধতায় ভালোবাসায়। এই বছরের জানুয়ারী অন্যরকম একটা ঘটনা ঘটে যা আমার জীবনে নতুন মোড় এনে দেয় ভালোবাসায় আনে নতুন মাত্রা। তাকে প্রথমবারের মতো চুম্বন করি। ঘটনাটা বেশ আকস্মিক, আমি নিজেও ভেবেচিন্তে কিছু করিনি। আমরা দুজনে যথারীতি বাসায় ফিরার পথে হাঁটছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে হাহাহিহি করার এক সময় তার কানে কানে বলি “তোমাকে ভালোবাসি, প্রচন্ড ভালোবাসি!” সে বললো, “প্রমাণ কি”। কি জানি কি ভেবে অথবা কিছু না ভেবেই তার দিকে ঝুঁকে এসে তার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুইয়ে চুমু খাই। সারা শরীরে অসাধারণ একটি অনুভূতি ছড়িয়ে গেলো। আমি নিজেও বিব্রত সেও বিব্রত, কিন্তু তার মাঝেও হলো অন্য রকম এক সম্পর্কের সেতুবন্ধন। সে প্রায়ই তার বাসার ছাদ নিয়ে গল্প করতো, তাই একদিন সন্ধ্যায় তাকে বাসায় দিয়ে আসার সময় ছাদে যাই। আধো অন্ধকার মায়াময় সেই সন্ধ্যায় আবার নতুন করে তার প্রেমে পড়ি, তার সৌন্দর্যে মোহিত হই। এরপর বহুবার আমি তাকে আমার বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করেছি, বহুবার আমার ভালোবাসা নিবেদন করেছি। কিন্তু কখনই সেই অনুভূতি, সেই ভালো লাগা, সেই ঘোর কাটে না। আজও যখন তার সাথে দেখা করতে যাই তাকে দেখে হৃদয়ে দোলা লাগে, আবার যখন একান্ত একলা থাকি তখন প্রার্থনা করি যেনো এই ভালো লাগা, এই অনুভূতি, এই ঘোর কখনও কেটে না যায়। বিয়ের পর যতো ঝগড়াই হোক, যতো মনোমালিন্যই হোক না কেনো দিন শেষে যেনো আমরা একে অপরের বুকে শান্তি খুঁজে পাই। ভবিষ্যতের স্বপ্ন আমরা বলি ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত, কিন্তু মজার বিষয় ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত জেনেও আমরা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করি না। আর সব প্রেমিক/প্রেমিকার মতোই আমরা স্বপ্ন দেখি বিয়ে করার, ঘর সংসার করার, ঝগড়া করার, একে অন্যের রাগ ভাঙ্গানোর, অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন করার। আমরা আরও স্বপ্ন দেখি সুন্দর ফুটফুটে ছেলেমেয়ের। সেই সুন্দর স্বপ্নে আমাদের ছেলে মেয়ের নাম ঠিক করা হয়, তাদের কোথায় পড়াবো তা নিয়ে ঝগড়া হয়, দোষ করলে কে কিভাবে বকা দিবে, সান্তনা দিবে তা নিয়ে তর্ক হয়। কিন্তু এসব স্বপ্ন দেখার সময়ও আমি মাটিতে পা রাখি। সবার আগে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমি তার বাবা মায়ের সামনে যোগ্য পাত্র হিসেবে মেয়ের হাত চেতে পারি। যাতে আমি তাকে নিরাপত্তা দিতে পারি, আশ্রয় দিতে পারি। জানি না কতোটা সফল হবো তারপরও আশা করতে দোষ নেই স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। স্বপ্ন দেখি রঙীন দিনের, আশা করি সুন্দর ভবিষ্যতের।
ভালোবাসার কিছু কথা
Leave a comment ?
জটিল!
খালি জটিল? এতো বড় একখান প্রেম উপাখ্যান লিখে ফেললাম আর কিনা এক শব্দের মন্তব্য জটিল!! যাও মিয়া এই পোস্ট থাইকা দূরে গিয়া মরো।
(মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ, আর জটিল লাগার জন্য আরও বেশি ধন্যবাদ
)
Absolutely awesome, tremendous, hilarious, marvelous and what not! Not one the very bests, it’s the BEST writing of you I can swear it. Keep it up and let me be proud for being a brother of such artist!
Hail Mouyoukh vai. Hail api. Hail your love. I envy you guys. Will do always.
ধন্যবাদ ধন্যবাদ ধন্যবাদ এতো এতো উপমা দিয়ে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য। তবে অনেক কিছু বলা বাকি রয়ে গেছে সেগুলো পরবর্তীতে সংযোজন করে দিবো, তখন পড়ে বলো কি মনে হচ্ছে
(তবে ইংরেজীতে মন্তব্য করায় কিছুটা ব্যথিত হইলাম
)
পড়লাম। অবশ্য দুই বারে অর্ধেক করে করে। খুবই সুন্দর লিখেছেন। (উপমা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। নির্ঝর আমাকে “ইট” বলেছে নিরস’তার জন্য।
)
ওপেনসোর্স পাবলিকের মনে হচ্ছে এইটাই বৈশিষ্ট্য। প্রেম কাহিনীও পুরা ওপেন সোর্স করে দিয়েছেন। কিছু কিছু কোড অর্থাৎ কাহিনী মনে হয় আপু (নাকি ভাবি?) এর প্রপারেটরি, অনুমতি নিয়ে প্রকাশ করেছেন তো ?
কি উল্টাবাল্টা লিখলাম কে জানে। মাইন্ড খাইয়েন না আবার।
ওদিকে আপনার লেখা পড়ে সৌগতদা বলছে, আপনি লাইফ জ্যাকেট না পরে সমুদ্রে নেমেছেন।
জীবনের আসল মজাই তো সবার সাথে ভাগ করে আনন্দ ফুর্তি করায়। যদি জীবনটা বেশি ক্লোস্ড সোর্স করে নিজের ভিতরে সব রেখে দেই তো লাভ কি? আর সোস্যাল মিডিয়ার সময় ফেসবুক, টুইটার এগুলোতে তো অনেক কথাই ভেসে ভেসে আসে, তাহলে আর ব্যক্তিগত ব্লগই বাদ যাবে কেনো বলো? আর এই লেখাটা লিখেছি এই ভেবে কতো বিখ্যাত মানুষই না তাদের আত্মজীবনী লিখেন, প্রেম উপাখ্যান লিখেন, মানুষ আগ্রহ নিয়ে সেগুলো পড়ে। আমি হয়তো বিখ্যাত কেউ নই, তবুও যদি কারও পড়ে ভালো লাগে তাহলে আমার নিজেরও ভালো লাগবে। আর এখন লেখা থাকলে ভালো তো, ছেলেমেয়েদের কষ্ট করে আবার নতুন করে বলতে হবে না ওরা পড়ে নিতে পারবে
সব কোড আগে জিপিএল৩ লাইসেন্সে কনভার্ট করেই দেয়া হয়েছে চিন্তা করো না, সেও পড়েছে লেখাটা
ইয়ে সৌগতদাকে বলবে মন্তব্য করতে ব্লগে, ভালো মন্দ যাই উনি ভাবুক না কেনো। আর ওনাকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সমুদ্রে নামার কথাটাও একটু ব্যাখ্যা করতে বলবে তো। ভয় পাচ্ছি :S
ভাল লিখেছেন
প্রেমে পড়লেই মানুষ বুঝতে পারে, তার আসলে কী হওয়া উচিত। – আন্তন চেখভ (রুশ কথাসাহিত্যক)
ওরেব্বাস, কি কাহিনী রে ভাই। সব গোপন কথাই তো বলে ফেল্লেন, হে হে হে। সামনের দিন গুলো যেন অনেক অনেক সুন্দর হয় এবং আরো বেশী রোমান্টিক
হয় সেই প্রত্যাশা করছি। আর আমাদের মত পাবলিকের জন্য দোয়া কইরেন
গল্প মনে হচ্ছে , Happy Ending টাইপের . মন খারাপ থাকলে এখানে এসে অাবার পড়ে যাব
কেমন লেগেছে বলে কোনো লিমিট দিতে চাই না , বানানো গল্পে দেয়া যায় , কারো মধুর memory নিয়ে নয় .
ভাইরে!! এইটা কি সত্য ঘটনা??
এইরকম পয়েন্ট কইরা লিখসেন দেইখা ডাউট করতে ধরসিলাম… মনটা কেমন যেন নরম হয়ে গেলো কিছুক্ষণের জন্য… আহারে!!! (গালে হাত দিয়ে চোখে স্বপ্ন নিয়ে বসে থাকার ইমো হবে), আমার যে কবে এরকম হবে!
তাই ত বলি, মিটিং এ আসেনা, ফোন ধরেনা, অনলাইনে দেখি না, ঘটনা কি? এখন বুঝলাম।
ভাই খোঁচাটা কি ভুল জায়গায় হয়ে গেলো না??? ফোন ধরেনা, ম্যাসেজের জবাব দেয় না, অনলাইনে দেখি না, মিটিং এ আসেনা, গ্রুপ মেইলের জবাব দেয় না এইটা যেনো কার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পরে গেলো?
ভাই, আমার ওপর রাগ করেন না। আপনার লেখাটা পড়তে পড়তে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল। নিজের ক্ষতগুলোর ব্যথা যেন আবার ফিরে আসছিল। ভালবাসা শব্দটার ভার এত বেশী যে অনেকেরই মাঝ পথে কাঁধ নুয়ে পড়ে। তাই হয়ত একে আগুনের সমুদ্রের সাথে তুলনা করা হয় আর বলা হয়:
” ইশক কা সফর নেহি আশান
ব্যস, ইতনা সমঝ লিজিয়ে
আগ কা দরিয়া হ্যয়
অউর ডুব কে জানা হ্যয়”
আর ডিফল্টভাবে এতে কোন লাইফজ্যাকেট নেই। তাই ওই কথাটা বলেছিলাম। আমার মতো লোকেদের সমস্যা হল আমরা ক্ষতিটা আগে চিন্তা করি। নিজের জীবনে বহুবার দেখেছি, স্বপ্ন ভাঙলে শব্দ হয়না, কিন্তু তার ব্যথা সহ্য করা খুব কঠিন।
করুণাময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন কোন দিনও আপনাদের স্বপ্নভঙ্গ না করেন। কারণ প্রতক্ষ্যভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে সেই স্বপ্নভঙ্গের ব্যাথা আমাদেরকেও তো ছোঁবে। আপনার ভালবাসার দীর্ঘ জীবন কামনা করি।
আমি তো দাদা আপনার উপর রাগ করিনি
। বলছিলাম লেখা যদি পড়ে থাকেন তাহলে ভালো মন্দ যাই মনে হোক না কেনো মন্তব্য করলে লেখকের ভালো লাগে।
ভালো দিক মন্দ দিক সবকিছুরই থাকে। আর জীবনে সুখ দুঃখ দুইই আছে, দুঃখের ভয়ে তো পিছ পা হওয়া যায় না। আর স্বপ্নভঙ্গের বিষয়ে সেও মাঝে মাঝে মিইয়ে যায় তখন যা তাকে যা বলি তাই আপনাকে বলি। স্বপ্ন ভাঙ্গতে পারে তাই বলে স্বপ্ন দেখা ছাড়তে পারি না, একটা স্বপ্ন যদি ভাঙ্গে তবে নতুন আরেকটি স্বপ্ন বোনা শুরু করবো।
এখন আর কোন মন্তব্য নয়। চুপচাপ বসে ভাবছি আপনার কথা, আপনাদের কথা। পৃথিবীটা এখনো এতো সুন্দর!! এতো আনন্দ আর ভালোবাসার অজস্র রঙে রঙিন!! তাহলে, আমার আকাশে কখনো সূর্য উঠেনা কেনো? রাতের জ্যোৎস্না আমি কেনো কখনোই দেখতে পাই না? আমি কেনো আপনার মতো করে বলতে পারি না, তারপরও আশা করতে দোষ নেই স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। স্বপ্ন দেখি রঙীন দিনের, আশা করি সুন্দর ভবিষ্যতের।ভালো থাকার শুভ কামনা রইলো আপনাদের জন্য। অনেক সুখ আর আনন্দের বাঁধভাঙা প্রবাহে ভেসে যাক আপনাদের প্রতিটি অনাগত আগামী। আবারো শুভ কামনা রাখছি। সুখে থাকুন অহর্ণীশ।
সুন্দর দিনের স্বপ্ন আশা আমরা সবাই প্রতিনিয়ত দেখে চলছি তাই না আগামীদিন সূর্যোদয় দেখার আশা নিয়ে ঘুমোতে যাই। জীবনে কিছু এখনও হয়নি বলে হবে না এমন নয়। আপনার আকাশেও হয়তো শীঘ্রই মেঘ কেঁটে গিয়ে জ্যোৎস্না উঁকি দিবে।
আপনার শুভ কামনার জন্য ধন্যবাদ