চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি পারী শুনছো
এখন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না
সমন্ধটা এইবার তুমি পাকা করতে পারো
মাকে বলে দাও শীঘ্রই বিয়ে তুমি করছো
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি পারী সত্যি
আর মাত্র কয়েকটা বছর ব্যাস
স্টার্টিং-এ ওরা ভালোই দিবে দুই বছর পর কনফার্ম
চুপ করে কেনো পারী কিছু বলো
এটা কি _ _ _ _ _ _ _
পারী তুমি পারছো কি শুনতে?
২বার এ্যানগেজ টোন পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
দেবনা কিছুতেই আর রাখতে
হ্যালো _ _ _ _ _ _ _
এসো না পারী দেখা করো একটি বার
বিল যাচ্ছে বেড়ে এই হতচ্ছাড়া মোবাইলে
জরুরী খুব জরুরী দরকার
স্বপ্ন এবার হয়ে যাবে পারী সত্যি
এতদিন ধরে এতো অপেক্ষা
রাস্তার মোড়ে মোড়ে ধুলাবালি মাখা দুজনে
রোদবৃষ্টিতে কতো প্রতীক্ষা
আর কিছুদিন তারপর পারী বন্দি
ডিওএইচএসের এই সাদা দেয়ালের ঘর
সাদাকালো এই গাড়িতে ভরা অন্যায়ের শহরে
তোমার আমার রঙীন সংসার
চুপ করে কেনো একি পারী তুমি হাসছো?
চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় গেছে পেরিয়ে
হ্যালো লাইনটা কেটে গেলো কি?………………
নব্বই এর দশকের শেষ দিকে অঞ্জন দত্তের “হ্যালো ২৪৪ ১১ ৩৯” গান ঝড় তুলেছিলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে। এই গান এখনও বহ মানুষের পছন্দের তালিকায় আছে। আমারও পছন্দের তালিকায়। কিন্তু এতোদিন আমার জীবনের সাথে সমন্বয় করে গেতে পারতাম না। আজ সত্যি যখন গাইবার সুযোগ এসেছে এমনি একটু দুস্টুমি করার লোভ সামলাতে পারলাম না।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করেছি জুন-এ। তার পর পাঁচ মাস বেকারত্ব জীবন। সবাই জিজ্ঞাসা করে কি করতে চাও কোথায় যোগ দিবে, চাকরী খুঁজছো নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি। তার উপর প্রিয় মানুষের কান্না মনোমালিন্য হওয়া কেনো আমি কিছু করছি না, কেনো জীবন নিয়ে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে আমি উদাসীন। মাঝে তো দুই তিনদিন কথা বলাও বন্ধ।
তারপরই বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো একটা সুযোগ। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক তাদের কালেকশন ডিপার্টমেন্টের এমআইএস টিমে একজন যোগ্য প্রার্থী খুঁজছিলো। যদিও আমি জানতাম না কোন পোস্টে কি দায়িত্ব তারপরও সিভি দেয়া হলো ঝোঁকের বশে। গত মঙ্গলবার ইন্টারভিউ হলো তাদের অফিসে বেলা ৫টায়। পৌনে এক ঘন্টার ইন্টারভিউ-এ কি বললাম না বললাম ঠিক নাই, যেহেতু আমার জব ডেসক্রিপশন জানা ছিলো না তাই ধরেই নিয়েছিলাম চাকরী হবে না। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বুধবার ফোন দিয়ে জানায় তারা আমাকে নির্বাচন করেছে এবং বৃহঃস্পতিবার সকালে যেনো রিপোর্ট করি। বৃহঃস্পতিবার সকাল ১০টায় রিপোর্ট করলাম। অমিতদা আমাকে সামান্য ব্রিফিং করে সুমন ভাই এবং মাজহার ভাইয়ের হাতে ছেড়ে দিলেন। তারা দুজনে আমাকে দেখালেন কি কি কাজ তারা কিভাবে করছেন। কিছু মকআপ টেস্ট দিলেন দেখার জন্য কিছু বুঝেছি নাকি। শেষ করে তারপর সারাদিন বসে থাকা। প্রথমদিন বলে তারা কোন কাজ তেমন দেননি হয়তো ভবিষ্যতে এমন কাজের চাপ আসবে যে জান বের হয়ে যাবে। তারপরও বসে থাকার চেয়ে কিছু করা তো ভালো?
আশা করি আমার চাকরী জীবন দীর্ঘস্থায়ী ও সুখের হবে।
==
শাহরিয়ার তারিক মুনিম বিন মঞ্জুর
রিসার্চ এন্ড স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট
বাসা নং ২১, রোড নং ৮, ধানমন্ডি, ঢাকা
পুনশ্চ: যারা গানটা শুনতে চান তাদের জন্য। তবে আশা করি গানটা শুনে ভালো লাগলে অবশ্যই সিডিটি কিনে গান শুনবেন, গায়ক/শিল্পীদের উৎসাহ দিবেন এমন অসাধারণ গান যেনো তারা আমাদের দিয়ে আসতে থাকেন।
|
Recent Comments