Monthly Archives: February 2012

আমার নতুন মোবাইল HTC Wildfire S

আমার নতুন মোবাইল HTC Wildfire S

কিছুদিন আগে এক দুর্ঘটনায় আমার বহু ব্যবহৃত Nokia 5233 হ্যান্ডসেটটি জলাঞ্জলি দিলাম, এরপর সুযোগ আসলো নতুন একটা সেট নেয়ার। আমার ব্যক্তিগত মতে নোকিয়া মোবাইল কোম্পানিগুলোর মাঝে সেরা হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক পণ্যের মানের দিক দিয়ে, আর যেভাবে আমি অপব্যবহার করি অন্য কোন ব্র্যান্ডের সেট ১ বছর দূরের কথা ৬ মাস টিকতো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কিন্তু নোকিয়া ওপেনসোর্স সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেম ত্যাগ করে প্রোপাইটরী উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে সাথেই ঠিক করে ফেললাম আমার পরবর্তী ফোন আর নোকিয়া হবে না।

আমার অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিলো এ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার তো শেষ পর্যন্ত যখন সুযোগ পেলাম সুযোগের সত ব্যবহার করতে কোন কসুর করবো এমন পাগল আমি নই। আমার বাজেট বেশি ছিলো না, ইচ্ছে ছিলো ১৫ হাজার টাকার মধ্যেই সেট কিনবো। এই বাজেটে একটাই মাত্র ফোন নজরে পড়লো সেটা হচ্ছে স্যামসং এর Galaxy Y। অনলাইনে গ্যালাক্সি ওয়াই নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে চোখে পড়লো HTC Wildfire Sযার কারিগরী দিক গ্যালাক্সি ওয়াই এর তুলনায় উন্নত এবং দামও বলা হচ্ছে কাছাকাছি (যদিও জানি অনলাইনে যে দাম উল্লেখ থাকবে ডলারে এবং বাংলাদেশের বাজারে টাকায় একটু বেশি উল্লেখ থাকবে)। এইচটিসি ওয়াইল্ডফায়ার এস এর বিস্তারিত রিভিউপড়ে ভালো লাগলো ফোনটাকে, ঠিক করলাম যদি ওয়াইল্ড ফায়ার এস এর দাম হাতের নাগালে হয় তাহলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ফোন কেনার কোন তাড়া ছিলো না ভেবেছিলাম শুক্রবার ছুটির দিন ধীরেসুস্থে কিনবো। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিনই সুযোগ এসে গেলো সেট কেনার, আমার বোন একেবারে আমার অফিসে হাজির আমার সাথে ফিরবে বলে। তো বোনকে সাথে করে গেলাম বসুন্ধরা সিটিতে। নিচেই দেখি স্যামসং এর বড় শোরুম আর তাতে উপচে পরা ভিড়। তার মাঝে গ্যালাক্সি ওয়াই দেখলাম, বেশিরভাগ স্যামসং এর এ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসই একই রকম (এর আগে বন্ধুর গ্যালাক্সি এস এবং বোনের গ্যালাক্সি এইস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে)। অন্যদিকে এইচটিসি এর কোন শোরুম খুঁজে পাচ্ছিলাম না, এমনি মোবাইলের দোকানে এইচটিসি আছে কিন্তু তারা ডিলার নয়, ওয়ারেন্টি কভারেজ ঠিকভাবে দিতে পারবে না বলেই দিচ্ছে। বেশ কয়েকটা দোকান খোঁজাখোঁজির পর নিচ তলায় Source Trading এ গেলাম। তারা জানালো যে তারা ১ বছরের ভ্যালিড ওয়ারেন্টি প্রদান করতে পারবে। সেট অন করে দেখালো (কিন্তু সিম ছাড়া), কিছুক্ষণ হাতিয়ে দেখলাম (বরাবরের মতো অন্য সব এ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো ৭টি হোমস্ক্রিন আর মেনুতে এ্যাপ্লিকেশনের সমাহার দেখলাম)। কিছুক্ষণ ভেবে দেখলাম যে সবাই গ্যালাক্সি ফোন কিনছে, এইচটিসি কিনলে একটু ভিন্নতা আসবে আর হাতের মাঝেও খারাপ লাগে না। তাই শেষ পর্যন্ত কিনেই ফেললাম। দাম পড়লো ১৮ হাজার ৫০০ টাকা (আমার মূল বাজেটের চেয়ে একটু বেশি) কিন্তু ফিচার বিবেচনা করে খারাপ লাগছে না।

বিস্তারিত ফিচার সেট:

এন্ড্রয়েড ২.৩ (জিন্জারব্রেড)

এইচটিসি সেন্স ২.১

৩.২” কর্নিং গোরিলা গ্লাস

৬০০ মেগা হার্টজ এআরএম ১১ প্রসেসর

এ্যাডরেনো ২০০ গ্রাফিক্স প্রসেসর

৫১২ মেগাবাইট রম এবং ৫১২ মেগাবাইট র্‍যাম (৪১৮ মেগাবাইট ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারবে)

৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা

২ জি এবং ৩ জি কম্পেটিবল

জিপিআরএস এ্যাজ কম্পেটিবল

মাইক্রোইউএসবি ২ এবং ব্লুটুথ ৩

এ-জিপিএস সাপোর্ট



(সামনে কোন এক সময় বিস্তারিত একটা রিভিউ লিখে ফেলবো। আপাতত আপনাদের তুষ্টির জন্য Phone Arena এর একটি ভিডিও রিভিউ দেখুন)