<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা &#187; নিজের মনে কথা</title>
	<atom:link href="http://ashabadi.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://ashabadi.com</link>
	<description>অর্থহীন এই জগতে কিছু আশার ছটা</description>
	<lastBuildDate>Fri, 17 Feb 2012 12:00:48 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.3.1</generator>
		<item>
		<title>আমার লাটাইছেঁড়া ইচ্ছেঘুড়ি</title>
		<link>http://ashabadi.com/2011/11/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2011/11/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 03 Nov 2011 16:22:04 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[আবোল তাবোল]]></category>
		<category><![CDATA[ইচ্ছে ঘুড়ি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://ashabadi.com/?p=211</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2011/11/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c/" title="আমার লাটাইছেঁড়া ইচ্ছেঘুড়ি"></a>মানুষের নানা রকম ইচ্ছে থাকে, স্বপ্ন থাকে। ছোটবেলায় মানুষের একরকম ইচ্ছে থাকে, বড় হতে হতে সেই ইচ্ছে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়, তা কখনও ছোট খেলনা থেকে শুরু করে স্বপ্নের গ্যাজেট বা স্বপ্নের পেশা নানা দিকে ঘুরপাক খায়। ছোটবেলায় কোন খেলনার &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2011/11/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2011/11/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c/" title="আমার লাটাইছেঁড়া ইচ্ছেঘুড়ি"></a><p>মানুষের নানা রকম ইচ্ছে থাকে, স্বপ্ন থাকে। ছোটবেলায় মানুষের একরকম ইচ্ছে থাকে, বড় হতে হতে সেই ইচ্ছে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়, তা কখনও ছোট খেলনা থেকে শুরু করে স্বপ্নের গ্যাজেট বা স্বপ্নের পেশা নানা দিকে ঘুরপাক খায়।</p>
<p>ছোটবেলায় কোন খেলনার জন্য বায়না বা আবদার খুব বেশি করেছি এমন মনে পড়ে না।  অনেকেই এখন মনে করে যে আমরা অনেক বৈভব/প্রাচুর্য্যের মধ্যে বড় হয়েছি কিন্তু সত্যি হলো যে আমরা কোনকিছুর আবদার করে সহজে পেতাম না।</p>
<p><span id="more-211"></span></p>
<p>মনে পড়ে ছোটবেলায় আমার শখ ছিলো একটা ব্যাটারিচালিত ট্র্যাক সহ ট্রেনসেটের, জন্মদিনে উপহার হিসেবে চেয়েও ছিলাম। ট্রেনসেটের বদলে আমাকে মনোপলি কিনে দিয়েছিলো প্রথমে খুব মন খারাপ হলেও মনোপলি খেলে অনেক মজা পেয়েছি। (এখনও মনোপলি খেলা খুব মিস করি, ইশশ কারো যদি একটু সময় হতো খেলার)।</p>
<p>আমাকে একটা প্লেন কিনে দিয়েছিলো যেটার সামনের প্রপেলার ঘুড়িয়ে ছেড়ে দিলে উড়তো, কিন্তু &#8216;গুড ফর নাথিং&#8217; এই আমি প্লেনটা কোনভাবেই উড়াতে পারতাম না আমার বোনরাই চালাতো। এরপর আমার এক কাজিন এসে সেটা উড়াতে গিয়ে গাছে লাগিয়ে হত্যা করে আমার সখের খেলনাকে।</p>
<p>আমার মেঝবোনের একটা সাইকেল ছিলো সেটা আপু সাই সাই করে চালায় যেতো আর আমি হা করে দেখতাম নাহলে পিছন পিছন দৌড়াতাম। আমার চেয়ে সাইকেল বড় হওয়ায় আপুর সাইকেল তখনও চালানো হয়নি। একদিন সেই সাইকেল নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আপু ভুড়ু কাটলো আর সাইকেল গুরুতর আহত হয়ে গুদামঘরে ঠাঁই পেলো। আমাদের কোয়ার্টারের বারান্দাতে আরেকটা সাইকেল রাখা ছিলো আব্বুর। সেই সাইকেলে আমরা উঠে রিক্সা চালানোর মতো প্যাডেল মারতাম। আমাদের প্যাডেল মারতে দেখলেই আব্বু বলতো “ভালো করে শিখে রাখো পড়াশুনা না করলে তো এই রিক্সা চালাতেই হবে তোদেরকে”। যাই হোক এমন করেই বছরের পর বছর কেঁটে যায়। এরপর আমার বারো বছরের জন্মদিনে ঘুম থেকে টেনে উঠানো হলো, রাজ্যের ঘুম নিয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখি ছোটাপুর সাইকেলটা গুদামঘর থেকে বের করে পরিস্কার করা হয়েছে এবং ঠিকও করানো হয়েছে। আমার খুশি দেখে কে। কিন্তু যথারীতি &#8216;গুড ফর নাথিং&#8217; এই ছেলেটা সাইকেল চালাতে পারে না, কোনভাবেই সে তার ব্যালেন্স ঠিক করতে পারে না। বাইরে নিয়ে গিয়ে বোনরা কতো তাকে ঠেলে দিয়ে ছেড়ে দেয়, ছেড়ে দেয়ার দুই তিন সেকেন্ডের মধ্যেই ধপাশ। আমাকে তো কোয়ার্টারের ছেলেরা খ্যাঁপায় সাইকেল চালাতে পারিনা দেখে, আমার বোনরা কতো বুঝালো ওদের সাইকেল নাই তাই হিংসে করে তোমাকে খ্যাঁপাচ্ছে, কিন্তু বোঁকা আমি কোনভাবেই মানলাম না, আর বেরই হোলাম না সাইকেল চালানো শেখার জন্য। বাসার ভিতরই দুই পা দিয়ে ঠেলে ঠেলে কিছুদূর যেতাম আর পা দুই পাশে ছড়িয়ে দিয়ে ব্যালেন্স করতাম যাতে পরে না যাই। এভাবেই একদিন বাইরে নিয়ে চালাতে গিয়ে দেখি প্যাডেল মেরে সাইকেল চালাতে পারছি, কি মজা!! এরপর সেই সাইকেল অনেকদিন চালানো হয় পরে আরও একটি সাইকেল ছিলো। দুটোই অন্যকে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে, একদিন দুইদিন সাইকেল চালাতে ইচ্ছে করলেও খুব ক্লান্তিকর মনে হয় এখন সাইকেল চালানো যেটা অনেক আনন্দের আর এ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ দিতো।</p>
<p>তবে এমন বড় আবদারের জিনিস খুব কমই পেয়েছি। ছোটবেলায় আমাদের বাবার কাছ থেকে প্রায়ই শুনতে হয়েছে টাকা নাই, খেলনা দিয়ে খেলতে হবে না মাঠে গিয়ে দুইটা চক্কর দিয়ে আসুক, নাহলে কাপড় লাগবে না খালি গায়ে ন্যাংটা হয়ে ঘুরুক অথবা পেন্সিল কলম চাইলে শুনতে হয়েছে আঙ্গুল কেঁটে লিখুক কিনে দিতে পারবো না। এর মানে এটা না যে আমাদের বাবা মা ভালোবাসতেন না, খুব বেশিই ভালোবাসতেন। আমাদের বাস্তবতা সম্মন্ধে ধারণা দিতেই হয়তো আমাদের সব আবদার সাথে সাথে মিটাতেন না, রয়ে সয়ে সময় নিয়ে দিতেন। </p>
<p>ছোটবেলায় এমন কথা শুনে খুব রাগ হতো মনে হতো এমন বাবা মা&#8217;র সাথে থাকবো না, যখন বড় হবো যখন আমার অনেক টাকা হবে তখন আমি ইচ্ছে মতো জিনিস কিনবো আর অন্যদেরও কিনে দিবো। সেই সময় থেকে একটা শখ হয়েছিলো আমি অনেক বড় হবো হয়তো অনেক বড় ব্যবসায়ী হবো আমার অনেক টাকা থাকবে যে আমাকে কোন কাজই করতে হবে না, নিজে থেকেই টাকা আসবে আর আমি সেই টাকায় আরামে আছি। আমার একটা সুন্দর বাসা আছে, না পাঁকা বাড়ির আলিসান বাড়ি না; অনেকখানি জায়গা নিয়ে ছোট একতলা বা দোতলা বাড়ি। কখনও কল্পনা করেছি ছনের দেয়াল ছনের ছাঁদ, মাটির মেঝেতে গদি পেতে থাকা আর ঘরভর্তি গল্পের বই। বাইরে সবুজে ঘেরা বাগান, একপাশে একটা জলাশয় তার পাশে ছাউনি ঘেরা বসার জায়গা আরও কতো কি। সেসব জায়গার ছবি একে রাখতাম আর ঘন্টার পর ঘন্টা সুখস্বপ্নে মজে থাকতাম।</p>
<p>আবার অনেক সময় মনে হতো যে অনেক বড় ব্যবসায়ী হতে হলে অনেক বুদ্ধি আর টাকা থাকা লাগে, কোনটাই আমার নাই তাহলে ছোট একটা চাকরী নিবো যেটা দিয়ে আমার নিজের চলে যাবে। মনে আছে পড়াশুনা বাদ দিয়ে খাতায় শুধু হিসেব করতাম এক মাসে আমার কতো খরচ হতে পারে, একরুমের হোস্টেল রুমের চাঁদা কতো, চাল ডালের দাম কতো, গল্পের বইয়ের দাম কতো, কাপড় চোপড়ের দাম কতো এইসব করে নানা রকম হিসাব করতাম। কখনও ৫হাজার টাকা হিসাব হতো কখনও ১৫ হাজার টাকা। আর আমি শুধু ভাবতাম কবে বড় হবো।</p>
<p>তারপর আরেকটু বড় হলাম, কলেজে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় কৈশোরের এই ইচ্ছে বা সখের স্থান নিলো আরও বড় কিছু। চারপাশের অনিয়ম খুব কষ্ট দিতে শুরু করে মনে হয় মানুষ এমন করে কেনো? আমরা একটু চেষ্টা করে কি ভালো কিছু আনতে পারি না? তখন স্বপ্ন দেখা শুরু করি বড় কোন আন্দোলনে জড়িত আছি, ধীরে ধীরে হলেও মানুষ তাদের ব্যবহার বদলাচ্ছে, নিয়ম মানছে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। অনলাইনে যুক্ত হবার পর দেখলাম সশরীরে উপস্থিত না থেকেও কোন কাজে অবদান রাখা যায়। তখন কিছু একটা পরিবর্তনের আকাঙ্খা পেয়ে বসলো। ওপেনসোর্স লিনাক্স জগত আমার সামনে নতুন দোয়ার নিয়ে আসে। ওপেনসোর্স কমিউনিটিতে কিছুদিন কাজ করি কিছুটা হলেও আমাদের চারপাশ বদলানোর অঙ্গিকার নিয়ে। কিন্তু হায় এখানেও যে একই দলাদলি একই চরিত্রের প্রতিফলন। ত্যক্তবিরক্ত হয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম।</p>
<p>এদিকে বিবিএ পড়াশুনো শেষ করে ফেললাম, সবাই শুধু জিজ্ঞাসা করে কিছু করছি নাকি, ক্যারিয়ার নিয়ে কোন চিন্তাভাবনা আছে নাকি। গড়িমসি করে এক বছর কাটানো হয়ে গেলো, এরপর অনেক চোখ রাঙানী, জীবন সঙ্গীনীর চোখের জলের ফল হিসেবে একটা ছোট চাকরী জোগাড়। চাকরী হতে না হতেই নিজের ছোটবেলার অনেক অপূর্ণ আকাঙ্খা পূরণের ইচ্ছে জাগলো। এখন প্রতি মাসে বেতন পাওয়া আর কিছু টাকা জমানোর চেষ্টা। নতুন চাকরী নতুন স্বপ্ন বুনা, সাথে যোগ হয় আরও নিত্য নতুন আকাঙ্খা। যোগ হয়েছে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের শখ। একটা ল্যাপটপ কিনার শখ বহুদিনের, আর একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা বেসিক থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে শখের ফটোগ্রাফি করার জন্য। জীবন সঙ্গীনীকে পছন্দের আংটি দেয়া। ইচ্ছে একটা নিজের পছন্দ মতো ছোট গাড়ি কেনার। স্বপ্ননীড়কে সত্যি হিসেবে দেখতে চাই। নিজের সাজানো সংসার দেখতে চাই। আরও কতো কি। এসব সবকিছুর জন্য টাকা জমানোর চেষ্টা।</p>
<p>কিন্তু ছোটবেলায় করা পাটিগণিতের ফুটো জলাধারের সেই অঙ্কের মতো অবস্থা, একটা খাতে টাকা জমানোর চেষ্টা আর অন্য খাতগুলোতে কখন যে কিভাবে টাকা বেরিয়ে যায় আটকানোর যো নেই। গত তিন মাসের হিসাব নিকাস শেষে দেখা যাচ্ছে আমার আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশি। এক মাসের বেতন শেষ হয়ে যাবার কিছুদিনের মধ্যে আরেক মাসের বেতন পেয়ে যাই বলে এই বিষয়টা বুঝতে পারিনি, হিসাব রাখতে শুরু করার পর এটা লক্ষ্য করলাম। কিন্তু যেসব খাতে খরচ হয় সেগুলো কমানোর উপায় দেখি না। যখন হিসাব দেখি, মনে হয় তখন হায় হায় কমাতে হবে মনে হয় কিন্তু কমানো হয় না। আমি যেমন লাগামহীন জীবন চেয়েছিলাম তাতে তো কোন হিসাবের বিষয় ছিলো না তাতে ছিলো না খরচ কমাবার তাগিদা। এখনও কিছুটা লাগামহীন রয়েছি, হয়তো সারাজীবনই থাকবো। হয়তো চাকরী বদলাবো হয়তো বেতন বাড়ানোর জন্য বলবো। আমার লাটাইছেঁড়া ইচ্ছেঘুড়ি আপন খেয়ালে উড়তে থাকবে এলোমেলোভাবে ঠিক যেমন এলোমেলো আমার এই লেখাটা। যখন শুরু করেছিলাম তখন ইচ্ছে ছিলো আমার ছোট ছোট শখ আহ্লাদের কথা বলবো, ইচ্ছের কথা বলবো। কিন্তু তা না হয়ে আবোলতাবোল কিছু বাক্যের সমাহার। কিন্তু তারপরও তা আমার মনের কথা, আপন কথা।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2011/11/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভালোবাসার কিছু কথা</title>
		<link>http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 31 Jul 2010 16:17:55 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[আত্মকথা]]></category>
		<category><![CDATA[প্রিয় মানুষ]]></category>
		<category><![CDATA[ভালোবাসা]]></category>
		<category><![CDATA[ভালোবাসার কথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.ashabadi.com/?p=177</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/" title="ভালোবাসার কিছু কথা"></a>পরিচয় ও সম্পর্কের অগ্রসর তাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কলেজে থাকতে। না কোন নাটকীয়তা নেই, নেই কোন ঝনঝনানি। খুবই স্বাভাবিকভাবে পরিচয়। এমন কতোজনের সাথেই তো পরিচয় হয়, এরপরও কিছু কিছু পরিচয় জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। তার সাথে পরিচয় এমনই&#8230;. রাযি, মিঠু, &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/" title="ভালোবাসার কিছু কথা"></a><p><font size="4">
<p style="text-align:justify"><strong>পরিচয় ও সম্পর্কের অগ্রসর</strong></p>
<p>তাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কলেজে থাকতে। না কোন নাটকীয়তা নেই, নেই কোন ঝনঝনানি। খুবই স্বাভাবিকভাবে পরিচয়। এমন কতোজনের সাথেই তো পরিচয় হয়, এরপরও কিছু কিছু পরিচয় জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। তার সাথে পরিচয় এমনই&#8230;.<br />
<span id="more-177"></span></p>
<p>রাযি, মিঠু, আমি এই তিনজন তখন কম্পিউটার কোচিং করতে যাবো আমাদের কলেজের &#8216;কম্পিউটার শিক্ষা&#8217;র শিক্ষকের কাছে। তো তখন পুরো ব্যাচ না হলে শিক্ষকরা পড়াতে চাইতেন না। আমরা ব্যাচমেট খুঁজছি, এমন সময় একদিন রাযি বললো তার পরিচিত এক মেয়ে আছে নিউটন বি-তে সেও পড়তে চাচ্ছে কম্পিউটার কোচিং-এ। তো ভালোই হলো একদিন কলেজ ছুটির পর দেখা করার কথা হলো।</p>
<p>সেদিন ছুটির পর সে এলো, না বলবো না তাকে দেখে হৃদয়খানি ছলকে উঠেছে, বলবো না মনের ভিতর কুহুকুহু রব উঠেছে। ওকে আগেও কয়েকবার দেখেছিলাম আফরিনের সাথে তবে সেভাবে খেয়াল করা হয়নি (আমি মেয়েদের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাতাম কম)। সত্যি বললে প্রথমেই ভালো লেগেছে তাকে, বেশ ভালো লেগেছে। আময়িক, মিষ্টভাষী এক মেয়েকে কার না ভালো লাগবে। তবে আমি নিজেও অনেক চাপা স্বভাবের ছিলাম তাই বেশি কথা তার সাথে বলা হয়নি। কোচিং বিষয়ে যা কথা বলার রাযি আর মিঠুই বললো আমি শুধু শুনে গেলাম (আসলে ঠিক শুনি নাই, এক কান দিয়ে ঢুকলে আরেক কান দিয়ে বের হয়ে গেছে। কারণ আমার মনোযোগ কোনদিনই পড়ালেখার দিকে ছিলো না)।</p>
<p>যাই হোক কিছুদিন পর কোচিং শুরু হলো। কলেজের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, স্যার বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার পর আমরা যেতাম। এই অপেক্ষার সময়টা আমরা শাহীন কমপ্লেক্সে অপেক্ষা করতাম। মিঠু &#8216;আনন্দ&#8217;-এর সিঙ্গারা খুবই পছন্দ করতো। প্রায়ই আমরা সেখানে সিঙ্গারা খেতাম। মিঠু, রাযি, আমি একসাথে থাকলেও সে আসতো না, আমাদের সাথে খেতোও না (আসলে এভাবে খাওয়াটা তার পছন্দের ছিলো না, কারণ বিল পে করার সময় একজনই তা করতো সবাই শেয়ার করতো না, অধিকাংশ সময় দেখা যেতো সে আমাদের গেস্ট হিসেবে থাকতো, হোস্ট হিসেবে নয়)। সে অনেক পরে আসতো যখন সময় হতো তার কিছুক্ষণ আগে। আমরা গল্প করতে করতে হাঁটতাম। আমরা বলতে আসলে মিঠু রাযি আর সেই কথা বলতো, আমি সেভাবে কথা বলতাম না। এর কারণ আমি কিছুটা চাপা আবার কখনও কখনও তাদের কথা বুঝতে পারতাম না। আমি হাঁটতাম একটু দূরে দূরে, ওদের দেখতাম ওদের কথা শুনতাম, ওকে ছলখল করতে দেখেছি অনেকদিন ধরেই।</p>
<p>এভাবে ধীরে ধীরে সম্পর্ক বাড়ে আমাদের মাঝে। ভালো লাগাও বাড়ে। উহু এই ভালো লাগাকে প্রেম বলা যায় না। কেবলই নিছক আকর্ষণ পছন্দ করা, বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক প্রগাঢ় হওয়া। সেই মনে হয় প্রথম মেয়ে যার সামনে কথা বলার সময় আমাদের আলাদা অসংকোচ থাকেনি, কেবল নিছক বন্ধুই মনে হয়েছে মেয়ে বন্ধু বা বান্ধবী নয়। তার সঙ্গে কৌতুক করা, হাহাহিহি করা, শয়তানী করা, সিগারেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করা, ডাব খাওয়া, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা, কোনকিছুই বন্ধ হয়নি। মেয়েটি আমাদের কর্মকান্ড বিস্ময়ভরা চোখ দিয়ে দেখতো, আমাদের কথা মন দিয়ে শুনতো, মিষ্টি করে হাসতো। কোচিং শেষে আবার অনেকদিন কলেজ শেষেও আমরা ভলবোতে চড়ে ফিরতাম। সুযোগ হলেই দোতলায় উঠে যেতাম আর পাশাপাশি সিট দখল করে চিল্লাচিল্লি হাহাহিহি। মিঠু মাতিয়ে রাখতো মজার কথা বলে, রাযি নতুন নতুন ভাবগম্ভীর কথা বলতো, আর আমি রাযি সাথে অথবা মিঠুর পিছে লাগতাম। সে মিঠুর কথা শুনে হাসতো, আমাদের ঝগড়া থামাতো। হাসিখুশি থাকতাম আমরা সবাই।</p>
<p>তাকে দেখে দেখে তার প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে ওঠে কিন্তু তারপরও আলাদা কিছু মনে হয়নি। কলেজে আমাদের বয়স এমন থাকে যে কিছুদিন হয়েছে মাত্র ছেলেমেয়ের মাঝে যে আলাদা সম্পর্ক হতে পারে, ভালোবাসা বলে কিছু আছে তা নিয়ে বন্ধুবান্ধবের মধ্যে আলোচনা চলে। কখনও কখনও আমারও মনে হয়েছে &#8216;যদি কাউকে ভালোবাসতে পারতাম, কেউ আমাকে ভালোবাসতো&#8217;। কিন্তু তারপরও আমি ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিলাম না, একসময় আমার মনে হয়েছে ভালোবাসা কিছুই নয়, কিছু তীব্র অনুভূতি যা একজন আরেকজনকে কাছে টেনে নেয়। তাই ভালোবাসবো কাউকে, বিয়ে করবো, ঘর সংসার করবো এসব মনে হয়নি, মনে হবার বয়সও ছিলো না। আর তাই তাকে কেবল ভালো লাগে এটাই জানতাম।</p>
<p>এই ভালো লাগাটা বেড়ে যায় আরও বহুগুন এক বর্ষার দিনে। বৃষ্টি আমার অসম্ভব পছন্দের জিনিস। যখনই বৃষ্টি হয় যদি বাইরে থাকি আমি অবশ্যই ভিজবো, তাতে জামাকাপড় কাগজপাতি ভিজে গেলে যাবে। স্কুলে কলেজে তো এই জিনিসটা আরও বেশি ছিলো। যাই হোক যা বলছিলাম। কলেজ ছুটি হয়েছে বাসায় ফিরবো আমরা, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু। আমি সাথে সাথে ভেজার জন্য ছটফট, রাযি মিঠুকে বলায় রাজি ওরা, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ভিজবে নাকি। কিছুক্ষণ ভেবে আমাকে অবাক করে দিয়ে রাজি হয়ে গেলো সে। এরপর কি? ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা, কাঁদায় লাফালাফি, হাহাহিহি করা, একজন আরেকজনকে ধাক্কা দেয়া। হঠাৎই লক্ষ্য করলাম তাকে কতো সুন্দর লাগছে। মনে হলো মেয়েরা সহজে ভিজে না কারণ তাদের দিকে অনেকে খারাপ ভাবে তাকায়। কিন্তু যদি কেউ সাদা চোখে দেখে তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটাই দেখতে পারবে, মানুষ কতোটা সুন্দর হতে পারে তা বুঝতে পারবে। আমিও তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমার ইচ্ছে করেছে জড়িয়ে ধরি, একটু গালে হাত বুলিয়ে দেই। কিন্তু এরপরই লজ্জা লেগেছে এমন উদ্ভট চিন্তার জন্য। এরপর সারা রাস্তা সেভাবে কথা বলা হয়নি, বাসে সুযোগ হয়েছিলো তারপাশে বসার। না বসে রাযিকে বলি বসার জন্য। সেই দিনটির স্মৃতি অনেকদিন ধরে রয়ে গেছে, পরে অনেককিছু ঝাপসা হয়ে গেলেও তার বৃষ্টিতে নামা এবং বৃষ্টিতে ভিজে মুচকি হাসাটা এখনও মনে আছে এখনও চোখ বুজলে দেখতে পারি।</p>
<p>সেইদিনের পর তার পাশে যেতে ভালো লাগতো বেশ। আমরা সবাই রিক্সায় উঠলে আমি অথবা মিঠু উপরে উঠতাম।আমি উপরে উঠলে সে মাঝে বসতো আর তার চুলের ঘ্রাণ কখনও কখনও মাতিয়ে তুলতো। কিন্তু এগুলোকে হেসেই উড়িয়ে দিতাম।</p>
<p>এরপর আমরা টেস্ট পরীক্ষা দিলাম, দেয়ার পর সবাই উপলব্ধি করলো বাংলায় আমরা সবাই কাঁচা, ইন্টারে ভালো করতে হলে বাংলা কোচিং দরকার। আমরা আমাদের বাংলা শিক্ষিকার সাথে কথা বললাম। এবারও আমাদের গ্রুপে রাযি, মিঠু, সে ও আমি। সাথে মনে হয় আরও দুইএকজন ছিলো মনে নেই ঠিক। যাই হোক রাযি মিঠু সে ও আমি এক কাকলী মোড়ে আসতাম এসে হেঁটে হেঁটে শিক্ষিকার বাসায় যেতাম। ওনার বাসা খুব সুন্দর এলাকায় ছিলো, গাছগাছালি আর ছায়া ঘেরা। সেখান দিয়ে হাঁটতাম আমরা আর গল্প করতাম নানাবিষয় নিয়ে।</p>
<p>একসময় পরীক্ষা ঘনিয়ে আসলো। পরীক্ষা নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো। পরীক্ষাও দিলাম। কিন্তু কেনো জানি দূরত্ব তৈরি হলো। পরীক্ষা দিয়ে রাযি, মিঠু আমি বের হয়ে কথা বলতাম তার দেখা পেলেও তার সাথে কথা হতো না বেশি। সে চলে যেতো। পরীক্ষা শেষ হলো, রাযি মিঠু আমি একসাথে আসলেও তার সাথে যোগাযোগ ক্ষীন হতে থাকলো। পরীক্ষার ফলাফল দিলো, রাযি মিঠুর সাথে দেখা হলেও তার সাথে দেখা হয়নি। পরীক্ষার সময়ের আর পরের ক্ষীন যোগাযোগ আর ফলাফলের সময় না থাকায় মন খারাপ হলো। অভিমানও সৃষ্টি হলো। (পরে জেনেছি তার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় কষ্ট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে গিয়েছিলো)।</p>
<p>ফলাফলের পর যোগাযোগ নাই হয়ে গেলো। আমরা যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম। রাযি আর আমি এআইইউবিতে গেলাম, মিঠু প্রথমে তিতুমীর এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলো। জীবনে নানা ঘটনা ঘটে গেলো। কেবল তার বিষয়ে কিছুই জানা হতো না। কেবল তার জন্মদিন ঘনিয়ে আসলেই মিঠু ফোন দিতো, বলতো তার জন্মদিনে যেনো আমরা শুভেচ্ছা জানাই তাকে। শুভেচ্ছা জানানো হতো, কিন্তু তারপরও তেমন কোন নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। হঠাৎ একদিন উত্তরায় দেখা, ব্রীজের উপর মা আর বোনের সাথে যাচ্ছিলো কোথাও। সামান্য কথা হলেও ভালো লাগলো। এরপর এক ঈদে তার বাসায় গেলাম রাযি, মিঠু সাথে। এক বছরের নিরামিষি ব্রত ভাঙ্গলাম কেবল তার হাতের রান্না মাংস খাওয়ার জন্য। গল্প হলো নতুন করে সেতুবন্ধন হলো। কালেভাদ্রে তার সাথে ফোনে কথা হতো। মাঝে মধ্যে রাতে ফোন দিতো জানতে চাইতো কি করি কিন্তু বেশি কথা বলতো না রেখে দিতো (আসলে সে মন খারাপ করে ফোন দিতো বন্ধুদের গলা শুনে মন হালকা করার জন্য, যদি এটা জানতাম তাহলে কখনই মন খারাপ নিয়ে ফোন রাখতে দিতাম না তাকে)।</p>
<p><strong>ভালোবাসার শুরু</strong></p>
<p>গত বছরের জুলাইয়ে আমি রাযির সাথে দেখা করতে যাই। রাযি আর আমি নানা বিষয়ে গল্প করছিলাম একসময় বের হলাম উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটতে। রাস্তায় তাকে রিক্সা করে যেতে দেখলাম বোনের সাথে। আমি ফোন দিতে বললাম রাযিকে, রাযি প্রথমে বললো ধরবে না, আমিও পরে ভাবলাম ধরলেও হয়তো ফিরবে না। এরপরও আশা নিয়ে ফোন দিলো রাযি। আমাদের আনন্দে ভাসিয়ে দিয়ে সে হাজির। অনেক সময় ধরে গল্প করা হাঁটা, নিজেদের জীবনের নানা কথা ভাগ করে নেয়া। সে তার দুঃখের কথা বলছিলো, তার অতীতের এক সম্পর্কের কথা বলছিলো তারই মাঝে হঠাৎ সে বলে উঠে</p>
<blockquote><p>“দ্যাখ, আমরা এতো বড় হয়ে গেছি, ২৪/২৫ বছর আমাদের। দুদিন পর বুড়াবুড়ি হয়ে যাবো। কিন্তু এখনও কেউ আমাদের হাত নিয়ে বললো না &#8216;আমি তোমাকে ভালোবাসি&#8217; এটাতে খুব খারাপ লাগেরে। আমার খুব ইচ্ছে কেউ আমাকে বলুক &#8216;আমি তোমাকে ভালোবাসি&#8217;। কেউ আমাকে ভালোবাসে এই অনুভূতিটা আমি পেতে চাই!”</p></blockquote>
<p>জানি না তার এই কথাটা খুব নাড়া দিলো। খুব ইচ্ছে করলো তাকে জড়িয়ে ধরে বলি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। অনেকক্ষন হাঁটা হলো। রাযি আর সে অনেক বিষয়ে কথা বললো। আমি আপন মনে তার বোনের সাথে হাঁটলাম (পরে শুনেছিলাম তার বোন নাকি বলেছিলো আমাকে তার ভালো লেগেছে, আমি খুব শান্ত এবং ভাবুক প্রকৃতির)। এরপর আমরা তার বাসায় গেলাম রাযি তাকে অনেক কথা বললো কিভাবে শক্ত হতে হবে এগিয়ে যেতে হবে জীবন নিয়ে তা পরামর্শ দিলো। আমি কেবল দেখলাম তাকে, নিজের ভিতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি অনুভব করছিলাম যা আগে কখনও হয়নি, কেমন জানি কষ্টকর, কিছু বুক থেকে উঠে আসতে চাইছে কিন্তু মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। মনে তোলপাড় চললেও মুখে হাসি নিয়েই ফিরি। সেদিন রাত্রে রাযির বাসায় ছিলাম কিন্তু একটুও ঘুমাতে পারিনি। কেবল তার দুঃখের কথাই ভাবছিলাম, ভাবছিলাম সে যেভাবে ভালোবাসা চেয়েছে আমি যদি সেভাবে তাকে ভালোবাসা দিতে পারতাম তাহলে কেমন হতো? সারারাত জেগে থাকার পর সকালে তাকে একটা রাইম লিখি</p>
<blockquote><p>“while she waited for prince charming to fall for her</p>
<p>she overlooked the humble peasant (who always loved her) was standing near</p>
<p>I never had any clue,</p>
<p>how to tell her &#8220;I Love You&#8221;.</p>
<p>Words that I could not say were in my eyes,</p>
<p>she looked at me but could not hear my cries”</p></blockquote>
<p>এতে আমার আকুতি আর ভালো লাগাটাই প্রকাশ করতে চেয়েছি।</p>
<p>এরপর একদুই মাস কেঁটে গেলো, একদিন রাযি, জাহিদ, বাপ্পী আর আমি দেখা করলাম জাহিদের বাসায়। গল্প করে একসময় আমরা &#8216;ক্যাপ্টেনস&#8217;-এ কফি খাবো বলে অনেক্ষণ হেঁটে গেলাম নানা বিষয়ে কথা বলতে বলতে ভালোবাসা নিয়ে কথা উঠলো, সবাই তাদের মতামত দিচ্ছিলো আমিও দিলাম। কফি অর্ডার দিয়ে বসেও কমবেশি একই বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিলো।</p>
<p>আমার কথাবার্তায় হঠাৎ রাযি জিজ্ঞাসা করলো “কিরে কি হয়েছে তুই কাউকে ভালোবাসিস নাকি”।</p>
<p>আমি বলি “ওরকম কিছু না”।</p>
<p>তখন সবাই চেপে ধরে। হু হা করি।</p>
<p>একসময় রাযি অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ে “আমি মনে হয় জানি কাকে ভালোবাসিস”।</p>
<p>রাযি তার নাম বলায় আমি বললাম “হুমম কি করে বুঝলি?”</p>
<p>রাযি “বুঝা যায় বুঝা যায়, তো সমস্যা কি তাকে বলে ফ্যাল?”।</p>
<p>আমি “ধুর, ওকে ভালো লাগে সেটা ঠিক আছে, প্রচন্ড ভালো লাগে। কিন্তু ওকে যে ভালোবাসি সেটা বলতে পারি না।”</p>
<p>রাযি “তাহলে আর কি যদি তুই শিওর না হস, তাহলে তাকে তুই ভালোবাসিস বলে লাভ নাই। আগে শিওর হ”।</p>
<p>কথা সেখানে সেদিনের মতো শেষ হলেও রাযি পিছন ছাড়েনি। পরে নানা সময়ে কথা হয়েছে রাযির সাথে। রাযি আমাকে গুঁতাতে থাকে তাকে বলার জন্য।</p>
<p>এরপর তার সাথে আবার দেখা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কোন একদিন। সেদিন সে জানায় তার আগের সম্পর্কের সব স্মৃতি সে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। সে কিছুদিন মুক্ত থাকতে চায়। রাযি আবারও গুতায় তাকে বলার জন্য। সরাসরি বলার মতো অবস্থা বা ভাষা আমার ছিলো না। তাই সে যখন চলে যেতে থাকে তাকে বলি</p>
<blockquote><p>“তোমার জীবনে তো এখন কেউ নেই, তোমার খালি হৃদয়ে কি একটু জায়গা পেতে পারি?”</p></blockquote>
<p>সে আমার হেয়ালীপূর্ণ কথা বুঝতে পারেনি, রাযিকে জিজ্ঞাসা করে আমি কি বলছি। রাযি তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলে আমি তাকে ভালোবাসি কলেজ থেকে কখনও বলে ওঠা হয়নি।</p>
<p>জানি না তার মনে কি চলে। আমার মন যেনো নির্ভার হলো। কি হবে সে কি বলবে এই নিয়ে মনে সামান্য চিন্তা থাকলেও ফুরফুরে মেজাজেই বাসায় যাওয়া। রাতে সে ফোন দেয়। জিজ্ঞাসা করে আমি সন্ধ্যায় কি বলতে চেয়েছি আসলে। লাইনে সমস্যা হতে থাকায় তার কথা বুঝতে পারছিলাম না, সে রেখে দেয়। আমি আবার তাকে ফোন দেই। এরপর দীর্ঘ সময় আমাদের মাঝে কথা হয়। সে জানতে চায় আমি কেনো আগে তাকে বলিনি, আমি তার সম্পর্কে আসলেই সিরিয়াস কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকক্ষণ কথা শেষে সে বলে সে রাজি। আমার জীবনটাই বদলে যায় সেই সময় থেকে।</p>
<p><strong>ভালোবাসার দিনগুলো</strong></p>
<p>ভালোবাসা মানুষের জীবনকে রঙীন করে দেয়। কথাটা মিথ্যে নয়। তাকে ভালোবাসার পর আমার জীবনে নতুন রঙ লাগলো, পালে যেনো নতুন হাওয়া। তাকে শুরুতেই বলিনি ভালোবাসি, কেবল বলেছি ভালো লাগে। তাকে সেই কথাগুলো বলার পর থেকে নিয়মিত ফোনে কথা হতো, এরপর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তার সাথে দেখা করি। প্রথমবারের মতো ডেটিং, হুমমম কখনও মনে হয়েছি কী ডেটিং-এ যাচ্ছি? কেবল মনে হচ্ছিলো জীবন নামক নাটকের নতুন একটা অধ্যায়ের পর্দা উঠছে। তার সাথে দেখা হলো কোন এক ফাস্টফুড জয়েন্টে। নানা উদ্ভট কথা হলো। তাকে আমি ভরকে দিলাম এই কথা বলে,</p>
<blockquote><p>“শুনো একটা কথা পরিস্কার করে বলি, আমি তোমাকে ভালোবাসি আর যাই করি না কেনো ১০ বছরের আগে বিয়ে করতে পারবো না। আমার নিজের কিছু উপার্জনের ব্যবস্থা করতে হবে, আমার কিছু করার ইচ্ছে আছে সেগুলো পূরণ করতে হবে, এরপর কিছু টাকা জমাতে হবে তারপর বিয়ে করতে পারবো। তোমাকে সুখী করতে পারবো কিনা জানি না তবে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো তোমার মনের মতো হতে।”</p></blockquote>
<p>মনে আছে প্রথম ডেট-এ বিল পে করেছিলো সে (হুমমম এখনও আমি কিছু খাওয়াতে চাইলে সহজে খেতে চায় না বা তাকে কিছু কিনে দিতে পারি না সহজে, অনেক তালবাহানা করে। কয়জন প্রেমিক আমার মতো সৌভাগ্যবান(!!) হয়??)</p>
<p>এরপর দুইজনে হাঁটলাম রাস্তা ধরে এলোমেলোভাবে। হাঁটতে খুবই খুবই ভালো লাগছিলো, অনেকটা পুরোনো কলেজের দিনগুলোর মতো। হাঁটতে হাঁটতে ইচ্ছে হলো তাকে জড়িয়ে ধরি বুকের মাঝে শক্ত করে। যেই ভাবা সেই তাকে বলা। শুনে সে আঁতকে উঠে একটু ধীর হয়ে গেলো হাঁটায়, বললো “পরে কোন একসময় হবে কিন্তু এভাবে রাস্তাঘাটে না কখনই”।</p>
<p>এরপর বিদায়। মজার বিষয় এই পুরোটা সময়ের কোন মূহুর্তেই আমরা একে অপরকে বলিনি ভালোবাসি।</p>
<p>তাকে প্রথম &#8216;ভালোবাসি&#8217; কথাটি বলি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। মনের ভিতর একরাশ আবেগ নিয়ে বলেছিলাম</p>
<blockquote><p>“আমি এতোদিন বলিনি &#8216;তোমাকে ভালোবাসি&#8217;, কেবল বলেছি &#8216;তোমাকে ভালো লাগে&#8217;। আজ আমি বলতে পারি &#8216;আমি তোমাকে ভালোবাসি, প্রচন্ডভাবে ভালোবাসি! ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি&#8217;”।</p></blockquote>
<p>এরপর কতো দিন কতো রাতই না কেটে গেছে মুগ্ধতায় ভালোবাসায়।</p>
<p>এই বছরের জানুয়ারী অন্যরকম একটা ঘটনা ঘটে যা আমার জীবনে নতুন মোড় এনে দেয় ভালোবাসায় আনে নতুন মাত্রা। তাকে প্রথমবারের মতো চুম্বন করি। ঘটনাটা বেশ আকস্মিক, আমি নিজেও ভেবেচিন্তে কিছু করিনি।</p>
<p>আমরা দুজনে যথারীতি বাসায় ফিরার পথে হাঁটছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে হাহাহিহি করার এক সময় তার কানে কানে বলি “তোমাকে ভালোবাসি, প্রচন্ড ভালোবাসি!” সে বললো, “প্রমাণ কি”। কি জানি কি ভেবে অথবা কিছু না ভেবেই তার দিকে ঝুঁকে এসে তার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুইয়ে চুমু খাই। সারা শরীরে অসাধারণ একটি অনুভূতি ছড়িয়ে গেলো। আমি নিজেও বিব্রত সেও বিব্রত, কিন্তু তার মাঝেও হলো অন্য রকম এক সম্পর্কের সেতুবন্ধন।</p>
<p>সে প্রায়ই তার বাসার ছাদ নিয়ে গল্প করতো, তাই একদিন সন্ধ্যায় তাকে বাসায় দিয়ে আসার সময় ছাদে যাই। আধো অন্ধকার মায়াময় সেই সন্ধ্যায় আবার নতুন করে তার প্রেমে পড়ি, তার সৌন্দর্যে মোহিত হই।</p>
<p>এরপর বহুবার আমি তাকে আমার বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করেছি, বহুবার আমার ভালোবাসা নিবেদন করেছি। কিন্তু কখনই সেই অনুভূতি, সেই ভালো লাগা, সেই ঘোর কাটে না। আজও যখন তার সাথে দেখা করতে যাই তাকে দেখে হৃদয়ে দোলা লাগে, আবার যখন একান্ত একলা থাকি তখন প্রার্থনা করি যেনো এই ভালো লাগা, এই অনুভূতি, এই ঘোর কখনও কেটে না যায়। বিয়ের পর যতো ঝগড়াই হোক, যতো মনোমালিন্যই হোক না কেনো দিন শেষে যেনো আমরা একে অপরের বুকে শান্তি খুঁজে পাই।</p>
<p><strong>ভবিষ্যতের স্বপ্ন</strong></p>
<p>আমরা বলি ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত, কিন্তু মজার বিষয় ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত জেনেও আমরা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করি না। আর সব প্রেমিক/প্রেমিকার মতোই আমরা স্বপ্ন দেখি বিয়ে করার, ঘর সংসার করার, ঝগড়া করার, একে অন্যের রাগ ভাঙ্গানোর, অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন করার। আমরা আরও স্বপ্ন দেখি সুন্দর ফুটফুটে ছেলেমেয়ের। সেই সুন্দর স্বপ্নে আমাদের ছেলে মেয়ের নাম ঠিক করা হয়, তাদের কোথায় পড়াবো তা নিয়ে ঝগড়া হয়, দোষ করলে কে কিভাবে বকা দিবে, সান্তনা দিবে তা নিয়ে তর্ক হয়।</p>
<p>কিন্তু এসব স্বপ্ন দেখার সময়ও আমি মাটিতে পা রাখি। সবার আগে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমি তার বাবা মায়ের সামনে যোগ্য পাত্র হিসেবে মেয়ের হাত চেতে পারি। যাতে আমি তাকে নিরাপত্তা দিতে পারি, আশ্রয় দিতে পারি।</p>
<p>জানি না কতোটা সফল হবো তারপরও আশা করতে দোষ নেই স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। স্বপ্ন দেখি রঙীন দিনের, আশা করি সুন্দর ভবিষ্যতের।</p>
<p></font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>16</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>উবুন্টু বাংলাদেশ ও আমি- একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা</title>
		<link>http://ashabadi.com/2010/07/27/%e0%a6%89%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2010/07/27/%e0%a6%89%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 26 Jul 2010 19:57:15 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[উবুন্টু বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[উবুন্টু লিনাক্স]]></category>
		<category><![CDATA[ওপেনসোর্স]]></category>
		<category><![CDATA[কুবুন্টু লিনাক্স]]></category>
		<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[লিনাক্স]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.ashabadi.com/?p=164</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/07/27/%e0%a6%89%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf/" title="উবুন্টু বাংলাদেশ ও আমি- একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা"></a>আমার এই গল্পের শুরু আজ থেকে তিন বছর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে। খুব বেশিদিন হয়নি আমি লিনাক্সের ভুবনে পদার্পন করেছি, সেটাও আরও অনেকের মতো উবুন্টু লিনাক্স দিয়ে। আমি যখন লিনাক্সের ভুবনে আসি লিনাক্স ওপেনসোর্স নিয়ে ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে, প্রবল &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2010/07/27/%e0%a6%89%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/07/27/%e0%a6%89%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf/" title="উবুন্টু বাংলাদেশ ও আমি- একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা"></a><p style="text-align:justify"><font size=”4”>আমার এই গল্পের শুরু আজ থেকে তিন বছর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে।<br />
<br /></br><br />
খুব বেশিদিন হয়নি আমি লিনাক্সের ভুবনে পদার্পন করেছি, সেটাও আরও অনেকের মতো উবুন্টু লিনাক্স দিয়ে। আমি যখন লিনাক্সের ভুবনে আসি লিনাক্স ওপেনসোর্স নিয়ে ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে, প্রবল আগ্রহ থেকেই আমার পথ চলা। তখনও ওপেনসোর্স বা লিনাক্স নিয়ে এতো মাতামাতি শুরু হয়নি, ওপেনসোর্স বা লিনাক্সের উপর বাংলা লেখাও অপ্রতুল। লিনাক্স নিয়ে গুতাই, প্রতিদিন এর শক্তি/ফিচার/সৌন্দর্য নিয়ে আপন মনে পুলকিত হই। আমার চাহিদা খুবই সাধারণ থাকায় খুব বেশি সমস্যায় পরিনি, আবার যেসব সাধারণ সমস্যায় পরেছিলাম তার সমাধান করে নিয়েছি বিভিন্ন বিদেশী সাইট/ফোরামের সহায়তায়। এরপর কিছুদিন উবুন্টু বাংলা অনুবাদও করলাম।<br />
<br /></br><br />
এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন <a href="https://wiki.ubuntu.com/" target="_blank">উবুন্টু উইকি</a>-তে <a href="https://wiki.ubuntu.com/LoCoFAQ" target="_blank">লোকো টিম</a> সম্পর্কে জানতে পারি। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লোকো টিমের মাধ্যমে একটি বড় <a href="https://wiki.ubuntu.com/LoCoTeamList" target="_blank">উবুন্টু সম্প্রদায়</a> দাঁড়িয়ে আছে দেখে পুলকিত হই। সেখানেই একটু খুঁজতে পেয়ে যাই <a href="https://wiki.ubuntu.com/BangladeshiTeam" target="_blank">উবুন্টু বাংলাদেশ</a> টিম প্রোফাইল। বাংলাদেশে আরও উবুন্টু ব্যবহারকারীদের সাথে পরিচিত হবো এই আশায় উবুন্টু বাংলাদেশ <a href="http://www.ubuntu-bd.org" target="_blank">ওয়েবপোর্টালে</a> যাই। সেখানে পুরাতন কিছু খবর ও সহায়িকা দেখি। মনে হয় আর সবক্ষেত্রের মতো এই ওয়েবপোর্টালও অবহেলিত।<br />
<br /></br><br />
মনে হলো যদি তাদের কোনভাবে সহযোগীতা করা যায়। যেমন ভাবা তেমন কাজ। তাদের <a href="http://www.ubuntu-bd.org/index.php?option=com_contact&#038;Itemid=3" target="_blank">যোগাযোগ পাতায়</a> জানিয়ে দিলাম তাদের পোর্টাল আপডেট ও নতুন সহায়িকা লেখার কাজে সহযোগীতা করতে ইচ্ছুক।<br />
<br /></br><br />
কিছুদিন পরই একজন ইমেইল করলেন আমার আগ্রহকে উৎসাহ দিয়ে জানতে চাইলেন কিভাবে আমি সাহায্য করতে চাই। এই একজন আর কেউ নন উবুন্টু বাংলাদেশ টিমের লিডার <a href="http://russelljohn.net" target="_blank">রাসেল জন</a>। আমি আবারও তাকে জানালাম নতুন খবর আপডেট ও কিছু লেখা দিতে আগ্রহী আছি। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি অনুবাদে আগ্রহী কিনা, এবং এরপর আমাকে পরখ করার জন্য তিনটি আর্টিকেল পাঠায় অনুবাদ করতে। আর্টিকেল দেখে কিছুটা হতাশ হই, কারণ সেগুলোর প্রত্যেকটিই তিন মাসের বেশি পুরাতন। যাই হোক যথাসময়ে অনুবাদ করে দিলাম তাকে। তখন তিনি আমাকে বললেন তিনি আমাকে উবুন্টু বাংলাদেশ সাইটে এক্সেস দিচ্ছেন আমি যেনো নিজেই পোস্টগুলো দিয়ে দেই। যদিও আমি কখনও জুমলায় কাজ করিনি, একটু ঘেটে দেখে নিলাম কোথায় কি আছে এরপর পোস্ট দিলাম। সেই থেকে শুরু এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখা ও খবর সাইটে দিয়েছি।<span id="more-164"></span><br />
<br /></br><br />
একদিন রাসেল ভাই দেখা করতে বলেন তার সাথে। বনানীতে বুমার্সে দেখা করলাম তার সাথে। দীর্ঘ সময় ধরে এটা ওটা আলোচনার পর রাসেল ভাই আমাকে উবুন্টু বাংলাদেশ টিমের কন্টেন্টস ও মার্কেটিং অফিসার হবার প্রস্তাব দেন। তখন থেকেই প্রতি নিয়ত সুযোগ মতো সাহায্য করে গেছি উবুন্টু বাংলাদেশ টিমকে। উবুন্টু বাংলাদেশের কন্টেন্টস ও মার্কেটিং অফিসার হিসেবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লেখা দিয়েছি, কখনও কখনও শখের সহায়িকা লিখেছি।<br />
<br /></br><br />
এরপর <a href="http://forum.projanmo.com/index.php" target="_blank">প্রজন্ম ফোরামে</a> পরিচয় হয় স্বপ্নচারী ভাই, শামীম ভাই, শিপলু ভাই, আলোকিত-র মতো লিনাক্স/ওপেনসোর্স নিবেদিত মানুষ। কিছুদিন পর <a href="http://forum.amaderprojukti.com" target="_blank">আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে</a> দেখা মেলে শাবাব ভাইয়ের। তাদের সকলের সহযোগীতায়ই লিনাক্সের প্রচার প্রসার পায়। রাসেল ভাই, এঞ্জেল, রুবন ভাই, শামীম ভাই, শাবাব ভাই, হাসিন ভাই, লেনিন ভাই, ডার্কলর্ড, অমি ভাই এমন অনেক মানুষের সহযোগীতায় আয়োজন করতে পারি বেশ কয়েকটি রিলিজ পার্টি। এরপর দেখতে দেখতে যেভাবেই হোক লিনাক্সের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে ওপেনসোর্স ও লিনাক্সের উপর বাংলা লেখা ও সহায়িকা।<br />
<br /></br><br />
এখন লিনাক্স আর ভীতির নামান্তর নয়, এখন অনেকেই খুব গর্বের সাথে লিনাক্স ব্যবহার করে। নিজেকে বন্টু বা ‌মিন্টু হিসেবে পরিচয় দেয়। এসবেরই ধারাবাহিকতায় এই তো গত শুক্রবার হয়ে গেলো “বন্টু মিন্টুর আড্ডা”।<br />
<br /></br><br />
অনুষ্ঠান শেষে রাসেল ভাইয়ের ফোন। অনেকদিন ধরে আলোচনার টেবিলে যা ছিলো তা তিনি চূড়ান্ত করলেন। অবশেষে শাবাব ভাই ও আমাকে উবুন্টু বাংলাদেশের টিম কন্ট্যাক্ট ও লিডার হবার জন্য অনুরোধ জানান। মৌখিকভাবে সম্মতি প্রদানের পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উবুন্টু বাংলাদেশ টিমের লিডার হিসেবে শাবাব ভাই ও আমার নাম প্রকাশ করা হলো।<br />
<br /></br><br />
শাবাব ভাই খুবই উদ্যোমী একজন মানুষ। তারই প্ররোচনায়, উদ্যোগে ও সহযোগীতায় “বন্টু মিন্টুর আড্ডা” সফল বাস্তবায়ন। আশা করি তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশের ওপেনসোর্স ও লিনাক্স অঙ্গনে আরও কিছু অবদান রাখতে পারবো।<br />
<br /></br><br />
বর্তমানে টিম লিডার হিসেবে যেসব পরিকল্পনা আমি ব্যক্তিগতভাবে পোষন করি:<br />
<br /></br></p>
<blockquote><p>১) উবুন্টু বাংলাদেশ ওয়েবপোর্টালটিকে নতুন করে ইউজারফ্রেন্ডলি হিসেবে সাজিয়ে তৈরি<br />
<br /></br><br />
২) অনলাইনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মান সম্পন্ন সহায়িকা ও লেখাগুলো এক স্থানে নিয়ে আসা<br />
<br /></br><br />
৩) আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবকদের এককাট্টা করে দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া<br />
<br /></br><br />
৪) আরও সুসংগঠিতভাবে ওপেনসোর্স/লিনাক্স/উবুন্টু-র প্রচারণা চালানো<br />
<br /></br><br />
৫) বাংলাদেশের অন্যান্য লিনাক্স কমিউনিটির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন, প্রয়োজনে সাহায্য সহযোগীতা নিশ্চিত করতে হবে</p></blockquote>
<p></br><br />
আপাতত এই কাজগুলোই গুছিয়ে করতে আগ্রহী। জানি না কতোদূর সফল হবো, সময়ই বলে দিবে। সুন্দর দিনের প্রতিক্ষায়&#8230;&#8230;.<br />
</font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2010/07/27/%e0%a6%89%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো</title>
		<link>http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 03 May 2010 16:08:34 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[প্রিয় গান]]></category>
		<category><![CDATA[প্রিয় মানুষ]]></category>
		<category><![CDATA[ভালো লাগা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.ashabadi.com/?p=147</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/" title="ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"></a>অভিধানের ভাষায় “চিঠির” সংজ্ঞা, “কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে প্রেরিত লিখিত বার্তা” হলেও আমার কাছে চিঠির মানে ভিন্ন। সামনে বসে যেসব কথা বলা যায় না সেই কথাগুলো নিজের মনের ডালপালা মেলে দিয়ে রঙীন সাজে সাজিয়ে মনের ভাব অন্যকে জানানো হয় &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/" title="ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"></a><p><font size=”4”>অভিধানের ভাষায় “চিঠির” সংজ্ঞা, “কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে প্রেরিত লিখিত বার্তা” হলেও আমার কাছে চিঠির মানে ভিন্ন। সামনে বসে যেসব কথা বলা যায় না সেই কথাগুলো নিজের মনের ডালপালা মেলে দিয়ে রঙীন সাজে সাজিয়ে মনের ভাব অন্যকে জানানো হয় চিঠিতে। কখনও কখনও আবার চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ অনুযোগ মান অভিমানও প্রকাশ করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে চিঠি লেখা যেনো হারিয়েই যাচ্ছে সবাই মোবাইল টেক্সট ম্যাসেজ, ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার, ইমেইল ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত তাদের বার্তা প্রাপকের কাছে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চান। কিন্তু তারপরও হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ রয়ে গেছেন যারা এখনও হাতে চিঠি লিখতে অসম্ভব ভালোবাসেন। আমি তাদের মধ্যে একজন। নিয়মিত চিঠি লিখতে না পারলেও মাসে একবার চিঠি লেখা তো হয়ই।<br />
<br /></br><br />
ছোটবেলায় যখন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের জন্য “বাবার কাছ থেকে টাকা চেয়ে চিঠি” অথবা “বিদেশে অবস্থানরত পত্রমিতালীকে চিঠি” লিখতে হতো তখন চোখে অন্ধকার দেখতাম সাথে চিঠি লেখার উপর বড়ই বিরক্তির উদ্রেক হতো। কিন্তু আমি বরাবরই একটু ভাবুক প্রকৃতির তাই মনে মনে আকাশ কুসুম অনেক কিছু ভাবতে ভালো লাগতো, দেখা যেতো এরকম আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতেই চিঠি লিখে ফেলেছি কাউকে। মনে মনে চিঠি লেখাটা হতো বেশি যখন বাবা মা অথবা বোনদের কারো উপর প্রচন্ড রাগ উঠলে রাগারাগি কান্নাকাটির পর।<br />
<span id="more-147"></span><br /></br><br />
যতো বড় হয়েছি স্বাভাবিকভাবেই এমন ভাবুক হয়ে বসে থাকা এমন মনে মনে চিঠি লেখা ধীরে ধীরে কমে আসতে আসতে প্রায় নাই হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে আমার মাঝে আবারও চিঠি লেখার বাতিক জাগিয়ে দিলো আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ।</p>
<blockquote><p>একদিন হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সে আমাকে বললো<br />
“একটা জিনিস চাবো কিন্তু তুমি হাসতে পারবে না”, <br /></br><br />
আমি: “শুনি কি জিনিস চাও”<br /></br><br />
সে: “আগে বলো দিবে? আর শুনে হাসবে না?”<br /></br><br />
আমি বরাবরই একটু হেয়ালি করি এবারও হেয়ালি করে বললাম<br /></br><br />
“বারে দিবো না কেনো? তবে চাঁদ সূর্য তারা চেতে পারবা না আমি এখন মহাকাশে যেতে পারবো না। আমার দেয়ার সামর্থ আছে এমন জিনিস চেতে হবে?”<br /></br><br />
সে: “ধুর ফাইজলামী না, এটা তোমার দেয়ার সামর্থের মধ্যেই আছে তবে হাসবে না”<br /></br><br />
আমি: “আচ্ছা ঠিক আছে বলো হাসবো না”<br /></br><br />
সে: “তুমি কি আমাকে চিঠি লিখবে? আমার খুব ইচ্ছা যে আমাকে ভালোবাসবে সে আমাকে দেখা হলেই একটা করে চিঠি দিবে, বিয়ের পরও দিবে। জানি এসএমএস, ইমেইলে তাড়াতাড়ি আসবে কথা কিন্তু তারপরও চিঠির জন্য অপেক্ষা করতে যে আনন্দ তা আমি পেতে চাই। অপেক্ষা করতে চাই তোমার চিঠির, তোমার মতো তোমার চিঠিকে ভালোবাসতে চাই।”<br /></br><br />
আমি গম্ভীর হয়ে: “হুমম লিখবো”<br /></br><br />
সে: “তোমার লিখতে ভালো না লাগলে লেখার দরকার নেই, আমি বলছি বলেও লেখার দরকার নেই। তোমার মন চাইলেই কেবল লিখবে”<br /></br><br />
আমি: “আমার নিজেরই লিখতে ভালো লাগবে, আগে শখ ছিলো লেখার ছোটবেলায় ডায়েরী লিখতাম। বদলে এখন নাহয় তোমাকেই চিঠি লিখবো”<br /></br><br />
সে উচ্ছ্বসিত হয়ে: “সত্যি?”<br /></br><br />
আমি: “হুমম সত্যি”<br /></br><br />
সে: “উফফফ! তুমি অনেক ভালো”<br /></br>
</p></blockquote>
<p>তারপর কিছুক্ষণ আমরা কথা বলি কিভাবে চিঠি লিখবো কি লিখবো এসব নিয়ে। সেসব বলে পাঠকদের বিরক্তির উদ্রেক করবোনা।<br />
<br /></br><br />
যাই হোক সেই থেকে এখন পর্যন্ত যখনই সময় পাই তখনই চিঠি লিখি আমার প্রিয় মানুষটাকে। আমার প্রিয় মানুষটাও আমাকে চিঠি লেখে বরং আমার চেয়ে অনেক বেশিই লেকে বেশ বড় সড় করে। ও প্রায়ই আমার কাছে অভিযোগ করে যে আমি ওকে নিয়মিত চিঠি দেই না অথবা খুব অল্প কয়েকটা কথা লিখি। আমার খুব বেশি দোষ নেই বেশিরভাগ সময় কাগজ কলম নিয়ে লিখতে বসে দেখা যায় আমি মনে মনে বিশাল বড় চিঠি লিখে ফেলেছি কিন্তু বাস্তবে কাগজে কলমে খুব সামান্যই লেখা হয়েছে, একারণে আফসোস হয় কেনো এখনও মনের ভাষা বুঝে নিজে নিজে লিখে ফেলার প্রযুক্তি এখনও আবিস্কার হয়নি (অথবা বাজারে নেই কেনো)। থাকলে আমার খুব সুবিধা হতো।<br />
<br /></br><br />
(আবারও কেবল নিজের কথায় চলে যাচ্ছি)।<br />
<br /></br><br />
যারা কখনও চিঠি লিখেননি তারা অন্তত একবার চিঠি লিখুন প্রিয় কোন মানুষকে, যাদের ভালোবাসার মানুষ আছেন তারা ভালোবাসার মানুষকে চিঠি লিখুন। এটা বাধ্যতামূলক না যে আপনি ভালোবাসায় ভরা চিঠি লিখবেন, সারাদিনে অনেক কিছুই তো দেখেন তার থেকে একটা মজার জিনিস নিয়েই নাহয় লিখুন, অথবা মন খারাপের কথাই জানান প্রিয় মানুষটাকে। অনেক কথাই হয়তো সামনে বসে বলতে পারবেন না মনের কোণে  জমে থাকে, সেই কথাগুলোই নাহয় চিঠিতে জানান। ভালোবাসার মানুষের চিঠি হাতে পেলে কেমন লাগে তা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয় কেবল অনুভব করাই সম্ভব। হয়তো বলবেন এসএমএস, ইমেইল থাকতে কেনো চিঠি লিখবো? এসএমএসে সব কথা বলা যায় না, ইমেইল চিঠির মতো হলেও চিঠি লিখার সময় মনের ডালা যেমন মেলে দেয়া যায় কম্পিউটারের মনিটরের সামনে বসে মনের ডালাটা সেভাবে খুলে দেয়া যায় না। তাই অন্তত একবার হলেও চিঠি লিখুন।</p>
<p></br><br />
শেষ করার আগে আমার প্রিয় একটা গান তুলে দিলাম পাঠকদের জন্য, এই গানটা মনে গুনগুন করছিলো বলেই এই লেখার অবতারনা (সাথে আমার প্রিয় মানুষটার জন্যও লেখা)। গানের কথা রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্-র, বলা হয়ে থাকে মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীকে দেয়া এটাই তার শেষ চিঠি। গানটি ছোটবেলায় একটা নাটকে শুনেছিলাম নাটকের নাম এখন আর মনে নেই বিটিভিতে হতো, এই গানটা টাইটেল সং হিসেবে ছিলো।<br />
<br /></br><br />
গানটি শুনুন (খালি একোস্টিক গিটার বাজিয়ে গাওয়া, আর ভিডিওতে গায়ক কিন্তু আমি নই আমাকে দাবড়ানি দিয়েন না)<br />
<br /></br><br />
<object width="480" height="385"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/rzq1v7GCxKo&#038;hl=en_US&#038;fs=1&#038;"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/rzq1v7GCxKo&#038;hl=en_US&#038;fs=1&#038;" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="480" height="385"></embed></object><br />
<br /></br><br />
গানের কথা:<br />
<br /></br></p>
<blockquote><p>ভাল আছি, ভালো থেকো,<br />
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো॥<br />
দিও তোমার মালাখানি,<br />
বাউলের এই মনটা রে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে॥<br />
<br /></br><br />
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক,<br />
খোলসের আবরনে মুক্তর সুখ॥<br />
তেমনি তোমার নিবিড় ছোঁয়া॥<br />
হৃদয়ের নীল বন্দরে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে॥<br />
<br /></br><br />
ভাল আছি, ভালো থেকো,<br />
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো॥<br />
দিও তোমার মালাখানি,<br />
বাউলের এই মনটা রে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে॥<br />
<br /></br><br />
ঢেকে রাখে যেমন কুসুম,<br />
পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম॥<br />
তেমনি তোমার নিবিড় চলা<br />
মরমের মূল পথ ধরে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।<br />
<br /></br><br />
ভাল আছি, ভালো থেকো,<br />
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো॥<br />
দিও তোমার মালাখানি,<br />
বাউলের এই মনটা রে।
</p></blockquote>
<p></font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বটগাছের কাছে আমার উচ্ছ্বাস</title>
		<link>http://ashabadi.com/2010/02/21/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8d%e0%a6%ac/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2010/02/21/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 21 Feb 2010 07:35:41 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[ক্লাসের ফাঁকে লেখা]]></category>
		<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[আত্মকথা]]></category>
		<category><![CDATA[জীবন বৃত্তান্ত]]></category>
		<category><![CDATA[বটগাছ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.ashabadi.com/?p=113</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/02/21/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8d%e0%a6%ac/" title="বটগাছের কাছে আমার উচ্ছ্বাস"></a>প্রিয় বটগাছ, অনেকদিন তোমার ছায়ায় এসে দুদন্ড বসিনি, তোমায় আমার মনের কথা বলিনি। তুমি কি রাগ করেছো? অভিমান? ইশশ তুমি এতো বিশাল এতো বড়, তুমি রাগ অভিমান করে থাকতে পারো? মোটেও না। শেষবার যখন তোমার কাছে এসে বসে কথা বলেছিলাম &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2010/02/21/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8d%e0%a6%ac/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/02/21/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8d%e0%a6%ac/" title="বটগাছের কাছে আমার উচ্ছ্বাস"></a><p><font size="4"><br />
প্রিয় বটগাছ, অনেকদিন তোমার ছায়ায় এসে দুদন্ড বসিনি, তোমায় আমার মনের কথা বলিনি। তুমি কি রাগ করেছো? অভিমান? ইশশ তুমি এতো বিশাল এতো বড়, তুমি রাগ অভিমান করে থাকতে পারো? মোটেও না।<br />
<br /></br><br />
শেষবার যখন তোমার কাছে এসে বসে কথা বলেছিলাম অনেক একান্ত কথা বলেছিলাম কিছু না বলা রয়ে গেছে। মানুষের জীবন কতো বৈচিত্রময়। গতবার বেশ হতাশভাবে কথা শেষ করলাম আর যখন আজ আবার কথা বলছি আমার জীবনে কতো কিছু ঘটে গেছে নতুন, আজ আমি আর হতাশার দোলাচালে দুলতে দুলতে ভেসে যাচ্ছি না।<br />
<span id="more-113"></span><br /></br></p>
<ul>আমার পুনর্জনম</ul>
<p>আমার জীবনের একটি বড় মোড় বাস্তবে নয়, অন্তর্জালের বর্ণমালার বেড়াজালে নিঃশব্দে ঘটে গেছে। যখন আমি হতাশায় ভুগছিলাম অনলাইন জগতে কিছু অসাধারন ব্যক্তিবিশেষের সাথে পরিচয় হলো প্রজন্ম ফোরাম, আমাদের প্রযুক্তির বদৌলতে। অন্তর্জালের অনেক ব্যক্তিকেই কোনদিন আমি দেখিনি হয়তো দেখবোও না তবুও তাদের সাথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা আমার বাস্তব জীবনে কখনই হয়নি। আলোকিত, সেভারাস, শিপলুদা, স্বপ্নচারী ভাই, শামীম ভাই, মুন ম্যাডাম, তারুণ্যদা, মুহাহাহা মানচুদা এদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও বন্ধু হিসেবে, পরিচিত আপনজন হিসেবে কতো গল্প/ঝগড়া/কান্নাকাটি/আবদার করেছি। এদের অনেকেই বড় ভাই হিসেবে ছায়া দিয়ে এসেছে অনেককেই আমি ব্যক্তিগতভাবে আদর্শ মনে করেছি। তাদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি নতুনভাবে কিছু নিয়ে বেঁচে থাকার রশদ দেয়ার জন্য। যে অল্প সময়টুকুও একসাথে সবাই ছিলাম/আছি তা আলাদাভাবে মনে থাকবে সারা জীবন। কারণ বন্ধুবান্ধবের মাঝে যেনো এ আমার নতুন জীবন।<br />
<br /></br></p>
<ul>নিজেকে ফিরে পাওয়া</ul>
<p>একই সাথে আমি আবার নিজেকে খুঁজে পেলাম সবার জন্য কিছু করার মাঝে। বাংলাদেশের ফ্রি সফটওয়্যার বা ওপেনসোর্স কমিউনিটির সাছে জরিত হয়ে। সেখানেও রাসেল জন, এঞ্জেলের মতো ভালো বন্ধু শুভাকাঙ্খী পেলাম। ওপেনসোর্স কমিউনিটি আমার সামনে নতুন একটি পৃথিবীর দরজা খুলে দিলো, সেখানে শুধু স্বপ্ন ছোট ছোট পদক্ষেপে পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দেয়ার, পৃথিবীকে আরও সুন্দর নির্মল করে তোলার। জানি এই কাজ সহজ নয়, জানি বহু বাধা বিপত্তি আসবে তবুও ইচ্ছে হয় লড়ে যাই। স্রোতের বিপরীতে আমরা কয়েকজন হাতে হাত রেখে স্রোতের দিকপ্রবাহ পরিবর্তন না করতে পারি, কিছুটা স্লথ তো করতে পারি? বড় আশা নিয়ে কাজে হাত দেই। কিছু ছোটখাটো লেখা লিখেছি, কয়েকটি অনুষ্ঠান করলাম, নতুন মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাত হলো। এতে আমার আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও বেড়েছে, নিজেকে নিয়ে এখন আর অতো হতাশা জাগে না। জানি সামান্য কিছু হলেও তো আমার মতো করে সাহায্য করছি। তাই নিজেকে আরও কিছুটা ব্যস্ত রাখতে চাই কাজের মাঝে, আরও বড় কিছু করার আশা করি।<br />
<br /></br><br />
এছাড়াও নির্ঝর, নাসেফ, মাহদী, লেনিন ভাইদের সাথে যোগাযোগ টুইটার, ফেসবুকের বদৌলতে। যারা ফেসবুককে গালমন্দ করেন তাদের জানা উচিত ফেসবুক অনেকের জীবন পরিবর্তনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে (তবে আমি মানি সবকিছুরই মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি খারাপ তাই ফেসবুক আসক্তিও খারাপ)।<br />
<br /></br></p>
<ul>জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া</ul>
<p>নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়া, কাজের মাঝে থাকার পরও জীবনে কিসের যেনো অভাব ছিলো। জীবনে নিজের জন্য বড় কোন স্বপ্ন আকাঙ্খা ছিলো না, ছিলো না কোন লক্ষ্য। জীবন চলে যাচ্ছে তাই কাটিয়ে যাচ্ছিলাম জীবন, একই তালে একই লয়ে, নেই উত্তেজনা নেই আবেগের আতিশয্য।  হুট করে তা আমার জীবনে এসে গেলো। আমার জীবনে হারিয়া যাওয়া পরিচিত একটি মূহুর্ত যেনো ফিরে এসেছিলো আর তাতেই আমার জীবনের অর্থ বদলে গেলো। জুলাই ৪, ২০০৯ সন্ধ্যাবেলা আমি প্রেমে পড়িলাম।<br />
উহু প্রথমেই মেয়েটার প্রেমে পড়িনি, পড়েছি তার আবেগের প্রেমে তার কথার প্রেমে। মেয়েটি আর কেউ ছিলো না আমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধু, কলেজে যার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি একসাথে। হঠাৎ করে সেই সন্ধ্যার পর থেকে অসম্ভব ভালো লাগা শুরু হলো, মনে হতো এমন ভালো সুন্দর আবেগ দিয়ে আমায় যদি কেউ ভালোবাসতো। বেশ কিছুদিন মনের মধ্যেই রেখে দেয়া লাগলো আমার ইচ্ছের কথা ভালো লাগার কথা পরে রাযিকে বলি। রাযি কিছুদিন ধরে চাপাচাপি করার পর মেয়েটাকে কিছুটা আভাস দিলাম। আমার আভাস মেয়েটা কতোখানি বুঝতো জানি না। দুই মাস পর সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ রাযি মেয়েটিকে বলে আমার ভালো লাগার কথাটা। মেয়েটি সেদিন রাত্রে ফোন দেয়, বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় এরপর দুজনের পথ চলা। প্রথমেই ভালোবাসি বলতে পারিনি, কিছুদিন সময় লেগেছে বলতে, কিন্তু বলার পর যেনো ভেসে চলছি। এখন নিত্য নতুন স্বপ্ন দেখে যাওয়া আর সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটি দিন (রাত) কাটে।<br />
<br /></br></p>
<ul>কিছু বেদনার ফোঁটা</ul>
<p>জীবনে সুখ আনন্দ যেমন আছে তেমনই আছে দুঃখ কষ্ট বেদনা। অসম্ভব সুখের জোয়াড়ে যখন মাত্র ভাসতে শুরু করেছি তখনই আমার জীবনে আরেকটি ধাক্কা। আমার বাবাকে হারালাম। মাথার উপর দিয়ে একটি ছায়া সরে গেলো। পৃথিবী কতোখানি কঠিন তা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। মানুষের সরুপও তখন ভালোভাবে বোঝা যায় কে আপন আর কে পর।<br />
<br /></br><br />
এরপরও দুঃখটা অনেকখানি কাটিয়ে উঠতে পারছি কারণ আমার পাশে সবসময় আমার ভালোবাসার মানুষকে পেয়েছি। সেই মানুষটিই অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে ভালো কিছু করার জন্য।<br />
<br /></br></p>
<ul>রঙীন দিনের পূর্বাভাস</ul>
<p>এদিকে বিবিএ কোর্স প্রায় শেষ, ইন্টার্নশীপ খুঁজছিলাম এতোদিন। চারপাচ জায়গায় আবেদন করে ইন্টারভিউ দেই। সবখানেই বলে ভালো হয়েছে পরে যোগাযোগ করবে, কেউ কেউ যোগাযোগ করেছে কিন্তু যে পজিশনে করে সেটা সুবিধাজনক না। মাঝে একটি ফার্মে জয়েন করেছিলাম ভালোই লাগছিলো কাজ করতে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করার জন্য সেক্রেটারী পোস্টে। কিন্তু বাধ সাধলো পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব যেটা এড়ানো সম্ভব ছিলো না। নতুন অফিসে জয়েন করেই দুই তিনদিন পরপর ছুটির আবেদন মানায় না তাই ছেড়ে দিতে হলো।<br />
এখন সামনে আরেকটি ফার্মে জয়েন করছি (খুব সম্ভবত) ১৫ তারিখে। এরা আমাকে ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দিবে তিন/চার মাসের জন্য। তবে সমস্যা এরা স্থায়ী চাকরী দিচ্ছে না কেবল প্রজেক্ট পিরিয়ডেই নিযুক্ত করছে।<br />
<br /></br><br />
হুমম জীবনটা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে এখন, এখন আর হতাশায় বেড়াজালে ঢাকা নয়। অনেক রঙীন স্বপ্নও দেখতে শিখেছি। আশা করি আমার জীবনটা যেনো এমন রঙীনই হয়।<br />
<br /></br><br />
(উৎসর্গ আমার ভালোবাসার মানুষটাকে। তাকে ছাড়া আমার জীবনটা অন্ধকার, দিশাহীন)।<br />
</font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2010/02/21/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8d%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বটগাছের সাথে এক আশাবাদীর(!!) কিছু কথা</title>
		<link>http://ashabadi.com/2009/09/12/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2009/09/12/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 11 Sep 2009 21:19:15 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[আত্মকথা]]></category>
		<category><![CDATA[বটগাছ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://blog.ashabadi.com/?p=106</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2009/09/12/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/" title="বটগাছের সাথে এক আশাবাদীর(!!) কিছু কথা"></a>বটগাছের সাথে পরিচয় বটগাছ তুমি কেমন আছ? মনে হয় তুমি আমাকে এখানে এসে কথা বলতে দেখে বিরক্ত হচ্ছ.. হঠাৎ করে তোমার কাছে এসে জিজ্ঞাস করছি কেমন আছ!! অনেকদিন ধরে তোমাকে এখানে মূর্তির মতো দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি&#8230;তুমিও নিশ্চয় আমাকে তোমার নিচ &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2009/09/12/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2009/09/12/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/" title="বটগাছের সাথে এক আশাবাদীর(!!) কিছু কথা"></a><p><font size="4"></p>
<ul>বটগাছের সাথে পরিচয়</ul>
<p>বটগাছ তুমি কেমন আছ? মনে হয় তুমি আমাকে এখানে এসে কথা বলতে দেখে বিরক্ত হচ্ছ.. হঠাৎ করে তোমার কাছে এসে জিজ্ঞাস করছি কেমন আছ!!<br />
অনেকদিন ধরে তোমাকে এখানে মূর্তির মতো দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি&#8230;তুমিও নিশ্চয় আমাকে তোমার নিচ দিয়ে অনেকবার যেতে দেখেছো তাই ধরে নিচ্ছি তুমি আমাকে চিনো।</p>
<p>আমি অনেককে তোমার সাথে কথা বলতে দেখেছি আর ভাবেছি তারা কত অবুঝ!! একটি বটগাছের সাথে কথা বলছে&#8230;কিন্তু আজ আমি বন্ধুহীন অবস্থায়। আমার কথা শুনার আর কেউ নেই তাই আমি তোমার কাছে এসেছি&#8230; তুমি শুনবে তো???</p>
<p>আমি জানিনা তোমার বয়স কত, কতদিন থেকে তুমি এখানে দাড়িয়ে আছ.. আমি এখানে আসার পর থেকেই তোমাকে দেখেছি&#8230; ধরে নিচ্ছি তুমি এই জায়গার মতনই প্রাচীন&#8230; অনেককে আসতে দেখেছ অনেককেই চলে যেতে দেখেছ&#8230; অনেকের অনেক মনের কথাও তোমার জানা.. কিন্তু তুমি কি কখনও আমার মত কাউকে দেখেছ যে কাঁদতে ভুলে গেছে? প্রতিদিন আমি চিৎকার করে কাঁদতে চাই কিন্তু পারিনা&#8230;আমার মন কেঁদে চলে কিন্তু শান্তি পাইনা।<br />
<span id="more-106"></span></p>
<ul>ছোটবেলা</ul>
<p>জীবনে সবাইই একা কিন্তু আমার মতো নি:সঙ্গ কয়জন&#8230;</p>
<p>ছোটবেলা থেকেই আমি বড় হয়েছি সবার চোখে চোখে একমাত্র ছেলে তাও আবার সবচেয়ে ছোট ছেলে বলে। আমি একটু মুখচোরা বলে বাইরে বের হতাম কম আমার বোনদের সাথেই খেলা করে সময় কাটাতাম&#8230; মানুষের সাথে আমি তখন মিশিনি এখনও মিশতে পারিনা&#8230;</p>
<ul>স্কুলবেলা</ul>
<p>একসময় স্কুলে যাওয়া শুরু করি, নতুন পরিবেশ অপরিচিত মুখ আমাকে আরও একলা করে দিল আমি কারও সাথে মিশতে পারতাম না। যখন ২য় শ্রেণীতে ১ম শ্রেনীর একটি মেয়ের সাথে বন্ধু হিসেবে খুবই ভালো সম্পর্ক হয় তার সাথেই আমি বেশি সময় কাটাতাম কিন্তু এটা নিয়ে সবাই হাসাহাসি শুরু করলে সেই মেয়েটি কথা বলা বন্ধ করে দেয় একসময় ট্রান্সফার হয়ে চলে যায়..আর আমি আবারও একা.. এরপর ৪র্থ শ্রেনীতে একটি ছেলের খালা আমাদের এলাকায় থাকতো বলে বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়&#8230; এলাকায় আসলেই আমরা গল্প করতাম..কিন্তু স্কুলে শিমুলের সাথে খুবই কম কথা হতো যেহেতু ও সবার সাথে মিশত আর আমি মুখচোরা ছিলাম.. একসময় পরিচিত ছেলেরা ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে পালায় দেখে আমিও পালাই কিন্তু পরে বাবা জেনে আরও কড়াকড়ি শাসনের মধ্যে পরি.. আমি এখন আরও মানুষের সাথে মিশা কমিয়ে দিলাম&#8230;</p>
<p>পড়ালেখায় আমি মোটামোটি মানের ছিলাম প্রথম পনেরতে সবসময় থাকতাম, পড়া বুঝতাম কিন্তু লিখতে পছন্দ করতাম না এখনও করিনা। এরজন্য শিক্ষকরা আমাকে শাস্তি দিত আর আমি তা মেনে নিতাম অন্যরা তা দেখে হাসতো&#8230;</p>
<p>৬ষ্ঠ শ্রেনীতে আমাদের এক নতুন ইংরেজী শিক্ষক আসলেন, হুমায়ুন স্যার&#8230; তিনি আর সবার মতো ছিলেন না&#8230; আমাদের সবার বন্ধু ছিলেন তারচেয়ে বড় কথা আমার বন্ধু ছিলেন&#8230; কিন্তু একসময় অন্য টিচারদের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় চলে যান..আরও একবার বন্ধু পেয়ে বন্ধু হারালাম&#8230;.</p>
<ul>অসুস্থতা</ul>
<p>এরপর ৭-৮ শ্রেনীতে আমি একটা বড় ধাক্কা খেলাম&#8230;  আমার ভাইরাল জ্বর হলো&#8230; নার্ভসিস্টেম আক্রান্ত হয়ে শ্রবণ শক্তি কিছুটা হারালাম&#8230;ক্লাসে আরও চুপচাপ হয়ে গেলাম&#8230;পড়ালেখায় মনযোগ হারিয়ে ফেললাম, ক্লাশ রোল হয়ে গেল ১৯৮। বাসা থেকে আরও চোখেচোখে রাখা শুরু করলো.. কোনকিছুই আমাকে একা করতে দেয়া হতো না&#8230;.</p>
<p>৯ম শ্রেনীতে এসে শিমুলের সাথে আবার কিছুটা ঘনিষ্ট হলাম.. তার মাধ্যমে তার বন্ধুদের সাথে পরিচয় হলো&#8230; কিছু নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হলো&#8230;</p>
<ul>বিদেশ ভ্রমণ</ul>
<p>৯ম শ্রেনীর অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার আগে অবস্থার অবনতি হতে থাকায় আমাকে দেশের বাইরে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো&#8230; আমাকে পরীক্ষা করে জানানো হলো আমার অবস্থা নন-রিকভারেবল&#8230; আমি ধীরে ধীরে বধির হয়ে যাব.. কেন জানি তেমন দু:খ পেলাম না&#8230;যেন জানতাম এমনই হবে&#8230;</p>
<ul>মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক</ul>
<p>মেট্রিকের টেস্ট পরীক্ষায় ফলাফল খুবই খারাপ হলো শিক্ষকরা কোনমতে পাস করান&#8230; বাবা জানালেন এরকম হলে কোনদিন নিজ থেকে কিছু করতে পারবোনা অন্যের দয়ায় বাঁচতে হবে&#8230;</p>
<p>এরপর মেট্রিক পাস করলাম কিন্তু তুলনামূলকভাবে তেমন ভালো ফলাফল হলোনা&#8230; কোনখানে চান্স পাচ্ছিলাম না সবারই একই রকম ফলাফল হওয়ায়। সবসময় ওয়েটিং লিস্টে নাম চলে আসত, এমনকি আমার পুরনো স্কুলেও চান্স পেলাম না, ওয়েটিং লিস্টে নাম.. বাবা এসময় হস্তক্ষেপ করলেন হেডমাস্টারের সাথে কথা বলে আমাকে পুরানো স্কুলেই ভর্তি করা হয় ওয়েটিং লিস্ট থেকে&#8230; আমার আবারও পরাজয় হলো, বুঝলাম আমার নিজের যোগ্যতা বলতে কিছুই নেই কোনদিন নিজে থেকে কিছু করতে পারবনা&#8230;মনটা ভেঙ্গে গেলো&#8230;..</p>
<p>কলেজে আমার পুরোন ক্লাশমেট রাজি আর জাহিদের সাথে আবারও দেখা হলো&#8230;  এবং সেই সাথে মিঠু নামে একটি অসাধারন ছেলের সাথে পরিচয় হলো যে আর্থিকভাবে কিছুটা সমস্যায় থাকে কিন্তু এভাবে নি:স্বার্থভাবে অন্যের জন্য কাজ করতে আমি এখনও কাউকে দেখিনি&#8230; আমার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলো&#8230;.আমি মূলত এই তিনজনের সাথেই চলাফেরা শুরু করি&#8230; কিন্তু ২য় বর্ষে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জন্য তাদের একজনের অন্যজনের সাথে ঝগড়া লাগে এবং কথা বলা বন্ধ করে দেয়..আমি মাঝখানে পরে দুজনকেই বন্ধু হিসেবে হারাই।</p>
<p>একই সাথে মনে পরে আরেকজনের কথা, যে আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মেয়ে। না সে আমার প্রেমিকা ছিলো না, তবে অসম্ভব ভালো বন্ধু ছিলো। অনেকদিন রাযি, মিঠু, সে ও আমি কোচিং করে একসাথে গল্প করতে করতে ফিরেছি। তাকে মাঝে মাঝে মনে পড়লেও যোগাযোগ হয়না, কোথায় জানি হারিয়ে গেছে। জানি না কি করে সেই দিনগুলো ফিরে পাবো।</p>
<p>এরপর ইন্টার পাস করলাম&#8230;মেট্রিকের চেয়ে ভালো করার জেদ ছিল বলে রেজাল্ট কিছুটা ভালো হলো কিন্তু তাও আশাহত হলাম ভেবেছিলাম আরও ভালো করবো।</p>
<ul>বিশ্ববিদ্যালয় জীবন</ul>
<p>কিছুদিন ছুটির আমেজে থাকলাম&#8230;.শিমুলের সাথে ঘোরাঘুরি করলাম&#8230; মিঠু চট্টগ্রাম চলে গেল পড়তে..</p>
<p>এরপর রাজি একদিন হঠাৎ ফোন করে জানালো ও বিভিন্ন ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বসছে&#8230; ওর সাথে বেশ কয়েক জায়গায় পরীক্ষা দিলাম কিন্তু ও চান্স পেলেও আমি পেলাম না আবারও ওয়েটিং লিস্ট&#8230; শেষপর্যন্ত এআইইউবি-তে চান্স পেলাম দুজনেই&#8230;কিন্তু আমি সিআইএস-এ আর ও বিবিএতে.. বিবিএ-তে যাবার এপ্লিক্যাশন করে বিবিএ-তে ঢুকে গেলাম&#8230; একটা বিষয়ে আনন্দ পেলাম যাক বন্ধু সাথে থাকলেও একটি কাজ আমি নিজে করতে পারলাম&#8230;</p>
<p>ভার্সিটিতে প্রথম কিছুদিন ভালই কাটলো&#8230; কিন্তু চাপের মাঝে আর কিছু করার সময় পাচ্ছিলাম না&#8230; আর মুখচোরা বলে সবাই মনে করতে শুরু করলো আমি সবসময় ভাব মেরে চলি তাই অনেকের সাথে পরিচয় হলেও বন্ধুত্ব হলোনা&#8230; এরপর মেজর ঠিক করার সময় আসলো&#8230; রাজি এবার চলে গেল একাউন্টিং-এ আর আমি মার্কেটিং-এ&#8230; আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেল&#8230; মাঝে মাঝে দেখা হলেও দীর্ঘ কথা হয়না&#8230;.. ও এখন খুবই ব্যাস্ত, ও দ্বিতীয় মেজর ইকনোমিক্সে নিয়েছে বলে।</p>
<ul>কিছু ভুল ও জীবনের মোড় পরিবর্তন</ul>
<p>এদিকে আমি একটি বড় ভুল করি.. আমি শিমুলের একটি গোপন কথা ভুল করে অন্যকে জানিয়ে দেই যা আমাদের স্কুলের ছেলেরা জানতে পারে এটা নিয়ে খুবই জলঘোলা হয় এখন শিমুল আমাকে ঘৃণা করে আমার ছায়াও ও দেখতে চায় না&#8230;. আমি অনুতপ্ত কিন্তু ক্ষমা চাইবার কোন উপায় নেই&#8230; এটা আমাকে মনে কষ্ট দিয়ে চলেছে..</p>
<p>গতবছর আরও একটি ধাক্কা খাই&#8230; আমার বাবার অসুস্থতা&#8230;. বাবা কোমায় চলে যান&#8230;. আমাকে তখন অফিস দেখতে হয়.. কিন্তু এত বড় কাজের জন্য আমি প্রস্তুত নই তাই তিনমাসের মধ্যেই সব কর্মচারীরা চলে যায় কার্যত অফিস বন্ধ হয়ে যায়&#8230; বাবা কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে আমাকে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেন আমি কোন কাজ ঠিক ভাবে করিনা বলে&#8230; মনটা শেষ বারের মতো ভেঙ্গে গেল।</p>
<p>ইদানিং আমার শরীর আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে&#8230; আমার নিজের উপর নিয়ন্ত্রন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি&#8230;. স্মৃতিশক্তি দ্রুত লোপ পাচ্ছে&#8230; কিছুই মনে রাখতে পারছিনা&#8230; মানুষের সাথে আরও দূরত্ব বাড়ছে&#8230;&#8230;.</p>
<p>মাঝে মাঝে মনে হয় কি হবে বেঁচে থেকে&#8230; কোন মানেই নেই এরকম ব্যর্থ জীবনের&#8230; আমি বাঁচলেও যেমন পৃথিবীর উপকার হবেনা তেমনই আমি মারা গেলে কারও মনে তেমন দু:খ আসবে না&#8230; পৃথিবী ধ্বংসের দিকে আপনার গতিতে এগিয়ে যাবে&#8230; তাই দুবার চেষ্টাও করেছি এজীবন শেষ করার&#8230; কথায় আছে দান দান তিন দান&#8230; হয়তো বা তৃতীয়বার মুক্তি মিলবে&#8230;</p>
<p>কিন্তু আবার মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনের অবসানই শেষ কথা??? তাই চেষ্টা করছি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে&#8230;</p>
<p>বটগাছ তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো এত কথা বলছি বলে?? তুমি তো সবই শুনলে&#8230; আমার জ্ঞান হবার পর থেকে কোন এমন বন্ধু পাইনি যে একটু বসে আমার কথা শুনবে.. আমার দু:খে কাঁদবে.. সান্তনা দিবে&#8230; তুমি কি হবে সেই বন্ধু???</p>
<p>আচ্ছা তবে বন্ধু আজ যাই হয়তো আরেকদিন কথা হবে&#8230;..</p>
<p>[এই লেখায় বটগাছ একটি কাল্পনিক চরিত্র/অঙ্গ যার কেউ নেই মনের কথা বলার জন্য সে এই বটগাছের কাছে এসে তার জীবনের কথা বলছে। লেখাটি প্রায় দেড় বছর আগের (৬ই মার্চ ২০০৮ এর) এর মাঝে কিছু পরিবর্তন হয়েছে আরও কিছু ভুল জীবনে আরও কিছু পরিবর্তন কিন্তু তবুও আশার প্রদীপ টিমি টিমি করে হলেও জ্বলছে (সেই অব্যক্ত অংশ নিয়ে পরে কোন এক সময়ে কথা হবে)]</p>
<p>লেখাটি প্রথম প্রকাশের পর কেউ কেউ মন্তব্য করেছিলেন তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো: </p>
<p><font size="3"></p>
<blockquote><blockquote>আলোকিত লিখেছেন (06-03-2008 23:09)<br />
আমি সাধারণত এত বড় লেখা পড়ি না, তবুও পুরাটাই পড়লাম।<br />
চমৎকার লিখেছেন, এভাবে সবার সাথে ভাগ করে নিলেই দুঃখ অনেকটা কমে আসবে </p></blockquote>
<blockquote><p>পৃথি লিখেছেন (07-03-2008 00:10)<br />
বটগাছ আপনার বন্ধু হোক আর না হোক আমরা আপনার বন্ধু হতে পারি..:D
</p></blockquote>
<blockquote><p>সুমন লিখেছেন (07-03-2008 00:22)<br />
আপনার নিক টা কে দিয়েছে? নিশ্চই আপনি নিজে?<br />
আমার আর কিছু বলার নেই।</p></blockquote>
<blockquote><p>আশাবাদী লিখেছেন 07-03-2008 00:34</p>
<blockquote><p>সুমন লিখেছেন:<br />
আপনার নিক টা কে দিয়েছে? নিশ্চই আপনি নিজে?<br />
আমার আর কিছু বলার নেই।</p></blockquote>
<p>হুমম&#8230; নিরাশার মাঝে কিছু আশা খুঁজে বেড়াই তাই আশাবাদী (আর জানিনা কেন বাংলা নাম চিন্তা করতে এটাই মাথায় প্রথম এসেছিল তাই দিয়ে দিয়েছিলাম)<br />
আমি আসলে চরম নৈরাশ্যবাদী&#8230; (পাগল কখনও নিজেকে পাগল বলে না তেমনই আমি নিজেকে আশাবাদী বলি)</p></blockquote>
<blockquote><p>সাকিব লিখেছেন 07-03-2008 00:58<br />
আমাকে দেখলে কেউ ইমোশোনাল ছেলে বলে মনে করবে না, কিন্তু আমি যথেস্ট ইমোশোনাল,<br />
আপনার লেখা পড়ে আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেছে, বটগাছ না হোক আমি আপনার বন্ধু হব, আপনি কি আমাকে বন্ধু ভাবতে পারেন?</p></blockquote>
<blockquote><p>স্বপ্নচারী লিখেছেন 07-03-2008 01:05<br />
মানুষের এত দুঃখ-কষ্ট ক্যান? ভাল্লাগে না!<br />
আশাবাদী হওয়াটাই তো মূল প্রেরণা। আশা আছে বলেই বেঁচে থাকা।
</p></blockquote>
<blockquote><p>আশাবাদী লিখেছেন 07-03-2008 01:14</p>
<blockquote><p>স্বপ্নচারী লিখেছেন:<br />
মানুষের এত দুঃখ-কষ্ট ক্যান? ভাল্লাগে না!<br />
আশাবাদী হওয়াটাই তো মূল প্রেরণা। আশা আছে বলেই বেঁচে থাকা।</p></blockquote>
<p>ভাই আমার দু:খ আছে বলেই আমি আশা করি, আমি আশাবাদী একটি সুন্দর দিনের জন্য</p></blockquote>
<blockquote><p>মুন লিখেছেন 23-03-2008 20:42<br />
এই পোস্টটা পড়ে কেন জানি বিশ্বাস হয় না, এটা আশাবাদীর নিজেরই জীবনের গল্প। কেন জানি!!<br />
পড়ে মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফোরামের সবাইকে মাতায় রাখা হাসি খুশি আড্ডাবাজ ছেলেটার বাস্তবে নি:সঙ্গ বন্ধুহীন জীবন, কষ্টময় &#8211; কে ভাবতে পারে?<br />
আশাবাদী ভাই, আপনি প্রশ্ন করলেন বলে এই কথাগুলো লিখলাম&#8230; নইলে হয়ত অন্যভাবে এটার উত্তর দিতাম। নদীর ঐ পারের গল্প দিতাম।<br />
আশাবাদীর সব পোস্ট, নিক কিংবা সিগনেচার, সবকিছুর মধ্যেই একটা প্রাণের ছোঁয়া আছে, কিন্তু </p>
<blockquote><p>কথায় আছে দান দান তিন দান&#8230;</p></blockquote>
<p>এ কোন আশাবাদী, একে যেন চেনা হয়নি এতোদিনেও&#8230; বিশ্বাস কেমনে করি বলেন আমার মনে হয়েছিল, ফোরামের আশাবাদী, বাস্তবেও পজিটিভ। নদীর ঐ পারের গল্প একদিন সময় করে শোনাব!</p></blockquote>
<blockquote><p>ধ্রুব লিখেছেন 27-03-2008 11:16<br />
আশাবাদী ভাই, একটা জিনিস কি জানেন ? আধার আছে বলেই আলো এত ভাল লাগে। মিথ্যা আছে বলেই সত্যের এত দাম। আপনার জীবনে দুঃখ আছে বলেই আনন্দের মুহুর্ত গুলো আপনার কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ন যা এক সাধারন মানুষের কাছে নয়। আমি এই কথা বলতেছি কারন আমার মনে হয় আপনার সাথে আমার জীবনের খুব একটা পার্থক্য নেই। কিন্তু তবুও আপনি যেমন আশাবাদী, আমিও তেমনি চেষ্টা করি জীবনকে পসিটিভ দিক থেকে চিন্তা করার, আপনার সেই কথাতার মত</p></blockquote>
<blockquote><p>মাইক্রোকাতার লিখেছেন 31-10-2008 21:34<br />
আজ আশাবাদীর লেখাটা সম্পূর্ন পড়লাম। দোয়া রইল, তার জীবনটা সুন্দর হউক। </p></blockquote>
<p></font></p></blockquote>
<p></font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2009/09/12/%e0%a6%ac%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বকবকানির শুরু</title>
		<link>http://ashabadi.com/2009/07/19/%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2009/07/19/%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 19 Jul 2009 08:45:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://ashabadi.com/?p=1</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2009/07/19/%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81/" title="বকবকানির শুরু"></a>বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিভিন্ন শখ ওঠে। আমার ছোটবেলা থেকেই শখ ছিলো ডায়রী লিখবো, এবং অনেকদিন পর সেই ডায়রীর লেখা পরে স্মৃতি রোমন্থন করবো। ডায়রী লেখা বেশ কয়েকবার শুরু করলেও আলসে হওয়ায় বেশিদিন চালানো হয়নি, কেবল আলসেমীই নয় অনেক সময় ইচ্ছা &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2009/07/19/%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2009/07/19/%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81/" title="বকবকানির শুরু"></a><p><font size="4">বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিভিন্ন শখ ওঠে। আমার ছোটবেলা থেকেই শখ ছিলো ডায়রী লিখবো, এবং অনেকদিন পর সেই ডায়রীর লেখা পরে স্মৃতি রোমন্থন করবো। ডায়রী লেখা বেশ কয়েকবার শুরু করলেও আলসে হওয়ায় বেশিদিন চালানো হয়নি, কেবল আলসেমীই নয় অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও ভুলে গিয়েছি ডায়রীতে নতুন ঘটনা লেখার বিষয়।  হঠাৎ করে এতোদিন পর আবারও সেই শখ মাথা চারা দিয়ে উঠলো। তবে এবার আর কাগজে কলম বুলিয়ে নয় কীবোর্ডে হাত চালিয়ে লেখার খায়েশ হলো। তাই খুলে ফেললাম শেষ পর্যন্ত <a href="http://ashabadi.com/" target="_blank"><em>&#8220;আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা&#8221;</em></a>।</p>
<p>&#8220;আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা&#8221; নামটি নেয়ার পিছনে কারণ হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবহার করে আসা আমার ছদ্মনামটি, জ্বি আশাবাদী বাংলা অনলাইন জগতে আমি ব্যবহার করছি বেশ কিছুদিন ধরে।  আশাবাদী ছদ্মনামটি নেয়ার সময় তেমন কিছু চিন্তাভাবনা করা হয়নি।<span id="more-11"></span><br />
তবে আমি আশাবাদী সুন্দর একটি পৃথিবীর, যেখানে সবাই বেঁচে থাকে অন্যের জন্য কাজ করে তো অন্যের উপকারের জন্য, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামগ্রিক স্বার্থ অনেক বড়। তবুও মাঝে মধ্যে চারপাশের দৃশ্য দেখল হতাশা ছেয়ে যায় আমাকে। অনেক সময়ই সব আশা নিরাশায় পরিনত হয়, মনে হয় মরিচিকার পিছনে ছুটে চলেছি। কিন্তু তারপরও আবার ভালো কোন খবরে আশায় বুক বাধি হয়তো পরিবর্তনের হাওয়া সবার গায়ে লাগলো, হয়তো সবাই নতুন করে আত্মউপলোব্ধী করতে শুরু করেছে। আশা ছাড়তে পারিনা তাই আশাবাদী রয়ে যাই শেষ পর্যন্ত।</p>
<p>উপরের কয়েকটি লাইন পড়ে মনে হতে পারে আমি একটু ভাবাবেগগ্রস্থ ব্যক্তি, হতেও পারে আবার নাও হতে পারে কখনও সেভাবে ভাবা হয়নি। আমি নিজের সম্পর্কে তেমন ভালোভাবে কিছু বলতে পারি না তবুও যেটুকু ভেবেছি তা খুব আশাব্যাঞ্জক নয়।</p>
<p>আমি খুবই অন্তর্মূখী, গল্পগুজব আড্ডা আমি তেমন ভালো জমাতে পারি না, নিজেও আড্ডায় চুপচাপ থাকি। বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা খুবই সীমিত হাতে গুনে বলতে পারবো, তাদের সাথেও যোগাযোগ ইদানিং কমে এসেছে। বাস্তবে অন্তর্মূখী হলেও ভার্চুয়াল অনলাইন জগতে একটু বেশিই কথা বলে ফেলি (হুহ: এতো বড় লেখা দেখে বুঝা উচিত)। কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয় কথা বলি কখনও কখনও অন্যকে না বুঝে বিরক্ত করি। প্রায়ই ঝোঁকের মাথায় কথা বলি, কখন কোনটা বলা উচিত আর কোনটা বলা উচিত না এটা খুব ভালোভাবে ভেবে দেখি না। কেবল কথা বলার ক্ষেত্রেই না কাজ করার সময়ও অধিকাংশ সময় ফলাফল কি হতে পারে তা চিন্তা করে দেখা হয়না। তবে হ্যাঁ একটা জিনিস হলো আমি যা মনে করি তা সবসময়ই বলি এবং তা মেনে চলার সর্বাত্তোক চেষ্টা করি। (এজন্য অনেকেই আমাকে ঘাঁড় ত্যাঁড়া বলে, সহজে অন্যের কথা মেনে নিতে চাই না বলে।) আরও একটি খারাপ বিষয় হচ্ছে রাগ উঠলে দিকবিদিকশূন্য কাজ করে ফেলি, ইদানিং এই স্বভাবটি কমেছে। গোপন কথা গোপন রাখা আমার জন্য অনেক কষ্টকর, প্রায়ই অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য আরেকজনকে দিয়ে দেই, এজন্য আমাকে বেশ কয়েকবার ভুগতে হয়েছে। এই একই কারনে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু শিমুলের সাথে চিরতরে ঝগড়া হয়েছে, আমি এখনও এজন্য মনে মনে কষ্ট পাই, এবং প্রায়ই মনে মনে ওর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। প্রতিনিয়ত এই খারাপ অভ্যাস ছাড়ার চেষ্টা করছি প্রায়ই ভুল হচ্ছে তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কিছুটা আলসে, অনেক বিষয়ে দায়িত্ব নিলেও একেবারে শেষ মূহুর্তে এসে সব কাজ না করলে হয় না। বিভিন্ন কাজে আগ্রহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হয় না।</p>
<p>হুমম এখন মনে হচ্ছে আমি খুবই খারাপ ব্যক্তি?? আমার ভালো কিছু দিকও আছে। আমি সহজে কাউকে কষ্ট দিতে বা আঘাত দিতে চাইনা। (সেজন্য অনেক সময় অন্যায় করতে দেখলেও বাধা দিতে পারি না, তখন খুবই অসহায় লাগে)। অযথা অপ্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলা এড়িয়ে চলি (কখনও কখনও মিথ্যা কথা ক্ষেত্র বিশেষে বলা লাগেই)। কারো সাহায্য লাগলে যথাসাধ্য সাহায্য করতে আগ্রহী। বন্ধুবান্ধব কম বলে বন্ধুদের প্রতি দায়িত্বশীল এবং বন্ধুদের মন রক্ষা করতে চাই সবসময় (তার মানে এই না যাই বলবে তাই করবো, অবশ্যই যৌক্তিকভাবে সাহায্য করবো)।</p>
<p>ভালো মন্দ সবমিলিয়ে আমি একজন সাধারণ মানুষ। যে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে, চায় একটি সুন্দর একটি পৃথিবীর এবং আশা করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।</p>
<p>এতো ধৈর্য্য ধরে পুরাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং একই সাথে আশাবাদীর দিনপঞ্জিকায় আপনাকে স্বাগতম</p>
<p>ব্লগটি তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ <a href="http://russelljohn.net/">রাসেল ভাই</a> ও এঞ্জেলের প্রতি</p>
<p>&#8211;আশাবাদী</font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2009/07/19/%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

