<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা &#187; প্রিয় মানুষ</title>
	<atom:link href="http://ashabadi.com/tag/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://ashabadi.com</link>
	<description>অর্থহীন এই জগতে কিছু আশার ছটা</description>
	<lastBuildDate>Fri, 04 Nov 2011 08:14:55 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.3</generator>
		<item>
		<title>ভালোবাসার কিছু কথা</title>
		<link>http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 31 Jul 2010 16:17:55 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[আত্মকথা]]></category>
		<category><![CDATA[প্রিয় মানুষ]]></category>
		<category><![CDATA[ভালোবাসা]]></category>
		<category><![CDATA[ভালোবাসার কথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.ashabadi.com/?p=177</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/" title="ভালোবাসার কিছু কথা"></a>পরিচয় ও সম্পর্কের অগ্রসর তাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কলেজে থাকতে। না কোন নাটকীয়তা নেই, নেই কোন ঝনঝনানি। খুবই স্বাভাবিকভাবে পরিচয়। এমন কতোজনের সাথেই তো পরিচয় হয়, এরপরও কিছু কিছু পরিচয় জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। তার সাথে পরিচয় এমনই&#8230;. রাযি, মিঠু, &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/" title="ভালোবাসার কিছু কথা"></a><p><font size="4">
<p style="text-align:justify"><strong>পরিচয় ও সম্পর্কের অগ্রসর</strong></p>
<p>তাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কলেজে থাকতে। না কোন নাটকীয়তা নেই, নেই কোন ঝনঝনানি। খুবই স্বাভাবিকভাবে পরিচয়। এমন কতোজনের সাথেই তো পরিচয় হয়, এরপরও কিছু কিছু পরিচয় জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। তার সাথে পরিচয় এমনই&#8230;.<br />
<span id="more-177"></span></p>
<p>রাযি, মিঠু, আমি এই তিনজন তখন কম্পিউটার কোচিং করতে যাবো আমাদের কলেজের &#8216;কম্পিউটার শিক্ষা&#8217;র শিক্ষকের কাছে। তো তখন পুরো ব্যাচ না হলে শিক্ষকরা পড়াতে চাইতেন না। আমরা ব্যাচমেট খুঁজছি, এমন সময় একদিন রাযি বললো তার পরিচিত এক মেয়ে আছে নিউটন বি-তে সেও পড়তে চাচ্ছে কম্পিউটার কোচিং-এ। তো ভালোই হলো একদিন কলেজ ছুটির পর দেখা করার কথা হলো।</p>
<p>সেদিন ছুটির পর সে এলো, না বলবো না তাকে দেখে হৃদয়খানি ছলকে উঠেছে, বলবো না মনের ভিতর কুহুকুহু রব উঠেছে। ওকে আগেও কয়েকবার দেখেছিলাম আফরিনের সাথে তবে সেভাবে খেয়াল করা হয়নি (আমি মেয়েদের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাতাম কম)। সত্যি বললে প্রথমেই ভালো লেগেছে তাকে, বেশ ভালো লেগেছে। আময়িক, মিষ্টভাষী এক মেয়েকে কার না ভালো লাগবে। তবে আমি নিজেও অনেক চাপা স্বভাবের ছিলাম তাই বেশি কথা তার সাথে বলা হয়নি। কোচিং বিষয়ে যা কথা বলার রাযি আর মিঠুই বললো আমি শুধু শুনে গেলাম (আসলে ঠিক শুনি নাই, এক কান দিয়ে ঢুকলে আরেক কান দিয়ে বের হয়ে গেছে। কারণ আমার মনোযোগ কোনদিনই পড়ালেখার দিকে ছিলো না)।</p>
<p>যাই হোক কিছুদিন পর কোচিং শুরু হলো। কলেজের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, স্যার বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার পর আমরা যেতাম। এই অপেক্ষার সময়টা আমরা শাহীন কমপ্লেক্সে অপেক্ষা করতাম। মিঠু &#8216;আনন্দ&#8217;-এর সিঙ্গারা খুবই পছন্দ করতো। প্রায়ই আমরা সেখানে সিঙ্গারা খেতাম। মিঠু, রাযি, আমি একসাথে থাকলেও সে আসতো না, আমাদের সাথে খেতোও না (আসলে এভাবে খাওয়াটা তার পছন্দের ছিলো না, কারণ বিল পে করার সময় একজনই তা করতো সবাই শেয়ার করতো না, অধিকাংশ সময় দেখা যেতো সে আমাদের গেস্ট হিসেবে থাকতো, হোস্ট হিসেবে নয়)। সে অনেক পরে আসতো যখন সময় হতো তার কিছুক্ষণ আগে। আমরা গল্প করতে করতে হাঁটতাম। আমরা বলতে আসলে মিঠু রাযি আর সেই কথা বলতো, আমি সেভাবে কথা বলতাম না। এর কারণ আমি কিছুটা চাপা আবার কখনও কখনও তাদের কথা বুঝতে পারতাম না। আমি হাঁটতাম একটু দূরে দূরে, ওদের দেখতাম ওদের কথা শুনতাম, ওকে ছলখল করতে দেখেছি অনেকদিন ধরেই।</p>
<p>এভাবে ধীরে ধীরে সম্পর্ক বাড়ে আমাদের মাঝে। ভালো লাগাও বাড়ে। উহু এই ভালো লাগাকে প্রেম বলা যায় না। কেবলই নিছক আকর্ষণ পছন্দ করা, বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক প্রগাঢ় হওয়া। সেই মনে হয় প্রথম মেয়ে যার সামনে কথা বলার সময় আমাদের আলাদা অসংকোচ থাকেনি, কেবল নিছক বন্ধুই মনে হয়েছে মেয়ে বন্ধু বা বান্ধবী নয়। তার সঙ্গে কৌতুক করা, হাহাহিহি করা, শয়তানী করা, সিগারেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করা, ডাব খাওয়া, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা, কোনকিছুই বন্ধ হয়নি। মেয়েটি আমাদের কর্মকান্ড বিস্ময়ভরা চোখ দিয়ে দেখতো, আমাদের কথা মন দিয়ে শুনতো, মিষ্টি করে হাসতো। কোচিং শেষে আবার অনেকদিন কলেজ শেষেও আমরা ভলবোতে চড়ে ফিরতাম। সুযোগ হলেই দোতলায় উঠে যেতাম আর পাশাপাশি সিট দখল করে চিল্লাচিল্লি হাহাহিহি। মিঠু মাতিয়ে রাখতো মজার কথা বলে, রাযি নতুন নতুন ভাবগম্ভীর কথা বলতো, আর আমি রাযি সাথে অথবা মিঠুর পিছে লাগতাম। সে মিঠুর কথা শুনে হাসতো, আমাদের ঝগড়া থামাতো। হাসিখুশি থাকতাম আমরা সবাই।</p>
<p>তাকে দেখে দেখে তার প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে ওঠে কিন্তু তারপরও আলাদা কিছু মনে হয়নি। কলেজে আমাদের বয়স এমন থাকে যে কিছুদিন হয়েছে মাত্র ছেলেমেয়ের মাঝে যে আলাদা সম্পর্ক হতে পারে, ভালোবাসা বলে কিছু আছে তা নিয়ে বন্ধুবান্ধবের মধ্যে আলোচনা চলে। কখনও কখনও আমারও মনে হয়েছে &#8216;যদি কাউকে ভালোবাসতে পারতাম, কেউ আমাকে ভালোবাসতো&#8217;। কিন্তু তারপরও আমি ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিলাম না, একসময় আমার মনে হয়েছে ভালোবাসা কিছুই নয়, কিছু তীব্র অনুভূতি যা একজন আরেকজনকে কাছে টেনে নেয়। তাই ভালোবাসবো কাউকে, বিয়ে করবো, ঘর সংসার করবো এসব মনে হয়নি, মনে হবার বয়সও ছিলো না। আর তাই তাকে কেবল ভালো লাগে এটাই জানতাম।</p>
<p>এই ভালো লাগাটা বেড়ে যায় আরও বহুগুন এক বর্ষার দিনে। বৃষ্টি আমার অসম্ভব পছন্দের জিনিস। যখনই বৃষ্টি হয় যদি বাইরে থাকি আমি অবশ্যই ভিজবো, তাতে জামাকাপড় কাগজপাতি ভিজে গেলে যাবে। স্কুলে কলেজে তো এই জিনিসটা আরও বেশি ছিলো। যাই হোক যা বলছিলাম। কলেজ ছুটি হয়েছে বাসায় ফিরবো আমরা, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু। আমি সাথে সাথে ভেজার জন্য ছটফট, রাযি মিঠুকে বলায় রাজি ওরা, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ভিজবে নাকি। কিছুক্ষণ ভেবে আমাকে অবাক করে দিয়ে রাজি হয়ে গেলো সে। এরপর কি? ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা, কাঁদায় লাফালাফি, হাহাহিহি করা, একজন আরেকজনকে ধাক্কা দেয়া। হঠাৎই লক্ষ্য করলাম তাকে কতো সুন্দর লাগছে। মনে হলো মেয়েরা সহজে ভিজে না কারণ তাদের দিকে অনেকে খারাপ ভাবে তাকায়। কিন্তু যদি কেউ সাদা চোখে দেখে তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটাই দেখতে পারবে, মানুষ কতোটা সুন্দর হতে পারে তা বুঝতে পারবে। আমিও তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমার ইচ্ছে করেছে জড়িয়ে ধরি, একটু গালে হাত বুলিয়ে দেই। কিন্তু এরপরই লজ্জা লেগেছে এমন উদ্ভট চিন্তার জন্য। এরপর সারা রাস্তা সেভাবে কথা বলা হয়নি, বাসে সুযোগ হয়েছিলো তারপাশে বসার। না বসে রাযিকে বলি বসার জন্য। সেই দিনটির স্মৃতি অনেকদিন ধরে রয়ে গেছে, পরে অনেককিছু ঝাপসা হয়ে গেলেও তার বৃষ্টিতে নামা এবং বৃষ্টিতে ভিজে মুচকি হাসাটা এখনও মনে আছে এখনও চোখ বুজলে দেখতে পারি।</p>
<p>সেইদিনের পর তার পাশে যেতে ভালো লাগতো বেশ। আমরা সবাই রিক্সায় উঠলে আমি অথবা মিঠু উপরে উঠতাম।আমি উপরে উঠলে সে মাঝে বসতো আর তার চুলের ঘ্রাণ কখনও কখনও মাতিয়ে তুলতো। কিন্তু এগুলোকে হেসেই উড়িয়ে দিতাম।</p>
<p>এরপর আমরা টেস্ট পরীক্ষা দিলাম, দেয়ার পর সবাই উপলব্ধি করলো বাংলায় আমরা সবাই কাঁচা, ইন্টারে ভালো করতে হলে বাংলা কোচিং দরকার। আমরা আমাদের বাংলা শিক্ষিকার সাথে কথা বললাম। এবারও আমাদের গ্রুপে রাযি, মিঠু, সে ও আমি। সাথে মনে হয় আরও দুইএকজন ছিলো মনে নেই ঠিক। যাই হোক রাযি মিঠু সে ও আমি এক কাকলী মোড়ে আসতাম এসে হেঁটে হেঁটে শিক্ষিকার বাসায় যেতাম। ওনার বাসা খুব সুন্দর এলাকায় ছিলো, গাছগাছালি আর ছায়া ঘেরা। সেখান দিয়ে হাঁটতাম আমরা আর গল্প করতাম নানাবিষয় নিয়ে।</p>
<p>একসময় পরীক্ষা ঘনিয়ে আসলো। পরীক্ষা নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো। পরীক্ষাও দিলাম। কিন্তু কেনো জানি দূরত্ব তৈরি হলো। পরীক্ষা দিয়ে রাযি, মিঠু আমি বের হয়ে কথা বলতাম তার দেখা পেলেও তার সাথে কথা হতো না বেশি। সে চলে যেতো। পরীক্ষা শেষ হলো, রাযি মিঠু আমি একসাথে আসলেও তার সাথে যোগাযোগ ক্ষীন হতে থাকলো। পরীক্ষার ফলাফল দিলো, রাযি মিঠুর সাথে দেখা হলেও তার সাথে দেখা হয়নি। পরীক্ষার সময়ের আর পরের ক্ষীন যোগাযোগ আর ফলাফলের সময় না থাকায় মন খারাপ হলো। অভিমানও সৃষ্টি হলো। (পরে জেনেছি তার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় কষ্ট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে গিয়েছিলো)।</p>
<p>ফলাফলের পর যোগাযোগ নাই হয়ে গেলো। আমরা যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম। রাযি আর আমি এআইইউবিতে গেলাম, মিঠু প্রথমে তিতুমীর এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলো। জীবনে নানা ঘটনা ঘটে গেলো। কেবল তার বিষয়ে কিছুই জানা হতো না। কেবল তার জন্মদিন ঘনিয়ে আসলেই মিঠু ফোন দিতো, বলতো তার জন্মদিনে যেনো আমরা শুভেচ্ছা জানাই তাকে। শুভেচ্ছা জানানো হতো, কিন্তু তারপরও তেমন কোন নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। হঠাৎ একদিন উত্তরায় দেখা, ব্রীজের উপর মা আর বোনের সাথে যাচ্ছিলো কোথাও। সামান্য কথা হলেও ভালো লাগলো। এরপর এক ঈদে তার বাসায় গেলাম রাযি, মিঠু সাথে। এক বছরের নিরামিষি ব্রত ভাঙ্গলাম কেবল তার হাতের রান্না মাংস খাওয়ার জন্য। গল্প হলো নতুন করে সেতুবন্ধন হলো। কালেভাদ্রে তার সাথে ফোনে কথা হতো। মাঝে মধ্যে রাতে ফোন দিতো জানতে চাইতো কি করি কিন্তু বেশি কথা বলতো না রেখে দিতো (আসলে সে মন খারাপ করে ফোন দিতো বন্ধুদের গলা শুনে মন হালকা করার জন্য, যদি এটা জানতাম তাহলে কখনই মন খারাপ নিয়ে ফোন রাখতে দিতাম না তাকে)।</p>
<p><strong>ভালোবাসার শুরু</strong></p>
<p>গত বছরের জুলাইয়ে আমি রাযির সাথে দেখা করতে যাই। রাযি আর আমি নানা বিষয়ে গল্প করছিলাম একসময় বের হলাম উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটতে। রাস্তায় তাকে রিক্সা করে যেতে দেখলাম বোনের সাথে। আমি ফোন দিতে বললাম রাযিকে, রাযি প্রথমে বললো ধরবে না, আমিও পরে ভাবলাম ধরলেও হয়তো ফিরবে না। এরপরও আশা নিয়ে ফোন দিলো রাযি। আমাদের আনন্দে ভাসিয়ে দিয়ে সে হাজির। অনেক সময় ধরে গল্প করা হাঁটা, নিজেদের জীবনের নানা কথা ভাগ করে নেয়া। সে তার দুঃখের কথা বলছিলো, তার অতীতের এক সম্পর্কের কথা বলছিলো তারই মাঝে হঠাৎ সে বলে উঠে</p>
<blockquote><p>“দ্যাখ, আমরা এতো বড় হয়ে গেছি, ২৪/২৫ বছর আমাদের। দুদিন পর বুড়াবুড়ি হয়ে যাবো। কিন্তু এখনও কেউ আমাদের হাত নিয়ে বললো না &#8216;আমি তোমাকে ভালোবাসি&#8217; এটাতে খুব খারাপ লাগেরে। আমার খুব ইচ্ছে কেউ আমাকে বলুক &#8216;আমি তোমাকে ভালোবাসি&#8217;। কেউ আমাকে ভালোবাসে এই অনুভূতিটা আমি পেতে চাই!”</p></blockquote>
<p>জানি না তার এই কথাটা খুব নাড়া দিলো। খুব ইচ্ছে করলো তাকে জড়িয়ে ধরে বলি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। অনেকক্ষন হাঁটা হলো। রাযি আর সে অনেক বিষয়ে কথা বললো। আমি আপন মনে তার বোনের সাথে হাঁটলাম (পরে শুনেছিলাম তার বোন নাকি বলেছিলো আমাকে তার ভালো লেগেছে, আমি খুব শান্ত এবং ভাবুক প্রকৃতির)। এরপর আমরা তার বাসায় গেলাম রাযি তাকে অনেক কথা বললো কিভাবে শক্ত হতে হবে এগিয়ে যেতে হবে জীবন নিয়ে তা পরামর্শ দিলো। আমি কেবল দেখলাম তাকে, নিজের ভিতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি অনুভব করছিলাম যা আগে কখনও হয়নি, কেমন জানি কষ্টকর, কিছু বুক থেকে উঠে আসতে চাইছে কিন্তু মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। মনে তোলপাড় চললেও মুখে হাসি নিয়েই ফিরি। সেদিন রাত্রে রাযির বাসায় ছিলাম কিন্তু একটুও ঘুমাতে পারিনি। কেবল তার দুঃখের কথাই ভাবছিলাম, ভাবছিলাম সে যেভাবে ভালোবাসা চেয়েছে আমি যদি সেভাবে তাকে ভালোবাসা দিতে পারতাম তাহলে কেমন হতো? সারারাত জেগে থাকার পর সকালে তাকে একটা রাইম লিখি</p>
<blockquote><p>“while she waited for prince charming to fall for her</p>
<p>she overlooked the humble peasant (who always loved her) was standing near</p>
<p>I never had any clue,</p>
<p>how to tell her &#8220;I Love You&#8221;.</p>
<p>Words that I could not say were in my eyes,</p>
<p>she looked at me but could not hear my cries”</p></blockquote>
<p>এতে আমার আকুতি আর ভালো লাগাটাই প্রকাশ করতে চেয়েছি।</p>
<p>এরপর একদুই মাস কেঁটে গেলো, একদিন রাযি, জাহিদ, বাপ্পী আর আমি দেখা করলাম জাহিদের বাসায়। গল্প করে একসময় আমরা &#8216;ক্যাপ্টেনস&#8217;-এ কফি খাবো বলে অনেক্ষণ হেঁটে গেলাম নানা বিষয়ে কথা বলতে বলতে ভালোবাসা নিয়ে কথা উঠলো, সবাই তাদের মতামত দিচ্ছিলো আমিও দিলাম। কফি অর্ডার দিয়ে বসেও কমবেশি একই বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিলো।</p>
<p>আমার কথাবার্তায় হঠাৎ রাযি জিজ্ঞাসা করলো “কিরে কি হয়েছে তুই কাউকে ভালোবাসিস নাকি”।</p>
<p>আমি বলি “ওরকম কিছু না”।</p>
<p>তখন সবাই চেপে ধরে। হু হা করি।</p>
<p>একসময় রাযি অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ে “আমি মনে হয় জানি কাকে ভালোবাসিস”।</p>
<p>রাযি তার নাম বলায় আমি বললাম “হুমম কি করে বুঝলি?”</p>
<p>রাযি “বুঝা যায় বুঝা যায়, তো সমস্যা কি তাকে বলে ফ্যাল?”।</p>
<p>আমি “ধুর, ওকে ভালো লাগে সেটা ঠিক আছে, প্রচন্ড ভালো লাগে। কিন্তু ওকে যে ভালোবাসি সেটা বলতে পারি না।”</p>
<p>রাযি “তাহলে আর কি যদি তুই শিওর না হস, তাহলে তাকে তুই ভালোবাসিস বলে লাভ নাই। আগে শিওর হ”।</p>
<p>কথা সেখানে সেদিনের মতো শেষ হলেও রাযি পিছন ছাড়েনি। পরে নানা সময়ে কথা হয়েছে রাযির সাথে। রাযি আমাকে গুঁতাতে থাকে তাকে বলার জন্য।</p>
<p>এরপর তার সাথে আবার দেখা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কোন একদিন। সেদিন সে জানায় তার আগের সম্পর্কের সব স্মৃতি সে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। সে কিছুদিন মুক্ত থাকতে চায়। রাযি আবারও গুতায় তাকে বলার জন্য। সরাসরি বলার মতো অবস্থা বা ভাষা আমার ছিলো না। তাই সে যখন চলে যেতে থাকে তাকে বলি</p>
<blockquote><p>“তোমার জীবনে তো এখন কেউ নেই, তোমার খালি হৃদয়ে কি একটু জায়গা পেতে পারি?”</p></blockquote>
<p>সে আমার হেয়ালীপূর্ণ কথা বুঝতে পারেনি, রাযিকে জিজ্ঞাসা করে আমি কি বলছি। রাযি তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলে আমি তাকে ভালোবাসি কলেজ থেকে কখনও বলে ওঠা হয়নি।</p>
<p>জানি না তার মনে কি চলে। আমার মন যেনো নির্ভার হলো। কি হবে সে কি বলবে এই নিয়ে মনে সামান্য চিন্তা থাকলেও ফুরফুরে মেজাজেই বাসায় যাওয়া। রাতে সে ফোন দেয়। জিজ্ঞাসা করে আমি সন্ধ্যায় কি বলতে চেয়েছি আসলে। লাইনে সমস্যা হতে থাকায় তার কথা বুঝতে পারছিলাম না, সে রেখে দেয়। আমি আবার তাকে ফোন দেই। এরপর দীর্ঘ সময় আমাদের মাঝে কথা হয়। সে জানতে চায় আমি কেনো আগে তাকে বলিনি, আমি তার সম্পর্কে আসলেই সিরিয়াস কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকক্ষণ কথা শেষে সে বলে সে রাজি। আমার জীবনটাই বদলে যায় সেই সময় থেকে।</p>
<p><strong>ভালোবাসার দিনগুলো</strong></p>
<p>ভালোবাসা মানুষের জীবনকে রঙীন করে দেয়। কথাটা মিথ্যে নয়। তাকে ভালোবাসার পর আমার জীবনে নতুন রঙ লাগলো, পালে যেনো নতুন হাওয়া। তাকে শুরুতেই বলিনি ভালোবাসি, কেবল বলেছি ভালো লাগে। তাকে সেই কথাগুলো বলার পর থেকে নিয়মিত ফোনে কথা হতো, এরপর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তার সাথে দেখা করি। প্রথমবারের মতো ডেটিং, হুমমম কখনও মনে হয়েছি কী ডেটিং-এ যাচ্ছি? কেবল মনে হচ্ছিলো জীবন নামক নাটকের নতুন একটা অধ্যায়ের পর্দা উঠছে। তার সাথে দেখা হলো কোন এক ফাস্টফুড জয়েন্টে। নানা উদ্ভট কথা হলো। তাকে আমি ভরকে দিলাম এই কথা বলে,</p>
<blockquote><p>“শুনো একটা কথা পরিস্কার করে বলি, আমি তোমাকে ভালোবাসি আর যাই করি না কেনো ১০ বছরের আগে বিয়ে করতে পারবো না। আমার নিজের কিছু উপার্জনের ব্যবস্থা করতে হবে, আমার কিছু করার ইচ্ছে আছে সেগুলো পূরণ করতে হবে, এরপর কিছু টাকা জমাতে হবে তারপর বিয়ে করতে পারবো। তোমাকে সুখী করতে পারবো কিনা জানি না তবে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো তোমার মনের মতো হতে।”</p></blockquote>
<p>মনে আছে প্রথম ডেট-এ বিল পে করেছিলো সে (হুমমম এখনও আমি কিছু খাওয়াতে চাইলে সহজে খেতে চায় না বা তাকে কিছু কিনে দিতে পারি না সহজে, অনেক তালবাহানা করে। কয়জন প্রেমিক আমার মতো সৌভাগ্যবান(!!) হয়??)</p>
<p>এরপর দুইজনে হাঁটলাম রাস্তা ধরে এলোমেলোভাবে। হাঁটতে খুবই খুবই ভালো লাগছিলো, অনেকটা পুরোনো কলেজের দিনগুলোর মতো। হাঁটতে হাঁটতে ইচ্ছে হলো তাকে জড়িয়ে ধরি বুকের মাঝে শক্ত করে। যেই ভাবা সেই তাকে বলা। শুনে সে আঁতকে উঠে একটু ধীর হয়ে গেলো হাঁটায়, বললো “পরে কোন একসময় হবে কিন্তু এভাবে রাস্তাঘাটে না কখনই”।</p>
<p>এরপর বিদায়। মজার বিষয় এই পুরোটা সময়ের কোন মূহুর্তেই আমরা একে অপরকে বলিনি ভালোবাসি।</p>
<p>তাকে প্রথম &#8216;ভালোবাসি&#8217; কথাটি বলি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। মনের ভিতর একরাশ আবেগ নিয়ে বলেছিলাম</p>
<blockquote><p>“আমি এতোদিন বলিনি &#8216;তোমাকে ভালোবাসি&#8217;, কেবল বলেছি &#8216;তোমাকে ভালো লাগে&#8217;। আজ আমি বলতে পারি &#8216;আমি তোমাকে ভালোবাসি, প্রচন্ডভাবে ভালোবাসি! ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি&#8217;”।</p></blockquote>
<p>এরপর কতো দিন কতো রাতই না কেটে গেছে মুগ্ধতায় ভালোবাসায়।</p>
<p>এই বছরের জানুয়ারী অন্যরকম একটা ঘটনা ঘটে যা আমার জীবনে নতুন মোড় এনে দেয় ভালোবাসায় আনে নতুন মাত্রা। তাকে প্রথমবারের মতো চুম্বন করি। ঘটনাটা বেশ আকস্মিক, আমি নিজেও ভেবেচিন্তে কিছু করিনি।</p>
<p>আমরা দুজনে যথারীতি বাসায় ফিরার পথে হাঁটছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে হাহাহিহি করার এক সময় তার কানে কানে বলি “তোমাকে ভালোবাসি, প্রচন্ড ভালোবাসি!” সে বললো, “প্রমাণ কি”। কি জানি কি ভেবে অথবা কিছু না ভেবেই তার দিকে ঝুঁকে এসে তার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুইয়ে চুমু খাই। সারা শরীরে অসাধারণ একটি অনুভূতি ছড়িয়ে গেলো। আমি নিজেও বিব্রত সেও বিব্রত, কিন্তু তার মাঝেও হলো অন্য রকম এক সম্পর্কের সেতুবন্ধন।</p>
<p>সে প্রায়ই তার বাসার ছাদ নিয়ে গল্প করতো, তাই একদিন সন্ধ্যায় তাকে বাসায় দিয়ে আসার সময় ছাদে যাই। আধো অন্ধকার মায়াময় সেই সন্ধ্যায় আবার নতুন করে তার প্রেমে পড়ি, তার সৌন্দর্যে মোহিত হই।</p>
<p>এরপর বহুবার আমি তাকে আমার বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করেছি, বহুবার আমার ভালোবাসা নিবেদন করেছি। কিন্তু কখনই সেই অনুভূতি, সেই ভালো লাগা, সেই ঘোর কাটে না। আজও যখন তার সাথে দেখা করতে যাই তাকে দেখে হৃদয়ে দোলা লাগে, আবার যখন একান্ত একলা থাকি তখন প্রার্থনা করি যেনো এই ভালো লাগা, এই অনুভূতি, এই ঘোর কখনও কেটে না যায়। বিয়ের পর যতো ঝগড়াই হোক, যতো মনোমালিন্যই হোক না কেনো দিন শেষে যেনো আমরা একে অপরের বুকে শান্তি খুঁজে পাই।</p>
<p><strong>ভবিষ্যতের স্বপ্ন</strong></p>
<p>আমরা বলি ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত, কিন্তু মজার বিষয় ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত জেনেও আমরা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করি না। আর সব প্রেমিক/প্রেমিকার মতোই আমরা স্বপ্ন দেখি বিয়ে করার, ঘর সংসার করার, ঝগড়া করার, একে অন্যের রাগ ভাঙ্গানোর, অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন করার। আমরা আরও স্বপ্ন দেখি সুন্দর ফুটফুটে ছেলেমেয়ের। সেই সুন্দর স্বপ্নে আমাদের ছেলে মেয়ের নাম ঠিক করা হয়, তাদের কোথায় পড়াবো তা নিয়ে ঝগড়া হয়, দোষ করলে কে কিভাবে বকা দিবে, সান্তনা দিবে তা নিয়ে তর্ক হয়।</p>
<p>কিন্তু এসব স্বপ্ন দেখার সময়ও আমি মাটিতে পা রাখি। সবার আগে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমি তার বাবা মায়ের সামনে যোগ্য পাত্র হিসেবে মেয়ের হাত চেতে পারি। যাতে আমি তাকে নিরাপত্তা দিতে পারি, আশ্রয় দিতে পারি।</p>
<p>জানি না কতোটা সফল হবো তারপরও আশা করতে দোষ নেই স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। স্বপ্ন দেখি রঙীন দিনের, আশা করি সুন্দর ভবিষ্যতের।</p>
<p></font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2010/07/31/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>16</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো</title>
		<link>http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 03 May 2010 16:08:34 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আশাবাদী</dc:creator>
				<category><![CDATA[নিজের মনে কথা]]></category>
		<category><![CDATA[চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[প্রিয় গান]]></category>
		<category><![CDATA[প্রিয় মানুষ]]></category>
		<category><![CDATA[ভালো লাগা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.ashabadi.com/?p=147</guid>
		<description><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/" title="ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"></a>অভিধানের ভাষায় “চিঠির” সংজ্ঞা, “কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে প্রেরিত লিখিত বার্তা” হলেও আমার কাছে চিঠির মানে ভিন্ন। সামনে বসে যেসব কথা বলা যায় না সেই কথাগুলো নিজের মনের ডালপালা মেলে দিয়ে রঙীন সাজে সাজিয়ে মনের ভাব অন্যকে জানানো হয় &#8230;<p class="read-more"><a href="http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/">Read more &#187;</a></p>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<a href="http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/" title="ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"></a><p><font size=”4”>অভিধানের ভাষায় “চিঠির” সংজ্ঞা, “কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে প্রেরিত লিখিত বার্তা” হলেও আমার কাছে চিঠির মানে ভিন্ন। সামনে বসে যেসব কথা বলা যায় না সেই কথাগুলো নিজের মনের ডালপালা মেলে দিয়ে রঙীন সাজে সাজিয়ে মনের ভাব অন্যকে জানানো হয় চিঠিতে। কখনও কখনও আবার চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ অনুযোগ মান অভিমানও প্রকাশ করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে চিঠি লেখা যেনো হারিয়েই যাচ্ছে সবাই মোবাইল টেক্সট ম্যাসেজ, ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার, ইমেইল ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত তাদের বার্তা প্রাপকের কাছে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চান। কিন্তু তারপরও হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ রয়ে গেছেন যারা এখনও হাতে চিঠি লিখতে অসম্ভব ভালোবাসেন। আমি তাদের মধ্যে একজন। নিয়মিত চিঠি লিখতে না পারলেও মাসে একবার চিঠি লেখা তো হয়ই।<br />
<br /></br><br />
ছোটবেলায় যখন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের জন্য “বাবার কাছ থেকে টাকা চেয়ে চিঠি” অথবা “বিদেশে অবস্থানরত পত্রমিতালীকে চিঠি” লিখতে হতো তখন চোখে অন্ধকার দেখতাম সাথে চিঠি লেখার উপর বড়ই বিরক্তির উদ্রেক হতো। কিন্তু আমি বরাবরই একটু ভাবুক প্রকৃতির তাই মনে মনে আকাশ কুসুম অনেক কিছু ভাবতে ভালো লাগতো, দেখা যেতো এরকম আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতেই চিঠি লিখে ফেলেছি কাউকে। মনে মনে চিঠি লেখাটা হতো বেশি যখন বাবা মা অথবা বোনদের কারো উপর প্রচন্ড রাগ উঠলে রাগারাগি কান্নাকাটির পর।<br />
<span id="more-147"></span><br /></br><br />
যতো বড় হয়েছি স্বাভাবিকভাবেই এমন ভাবুক হয়ে বসে থাকা এমন মনে মনে চিঠি লেখা ধীরে ধীরে কমে আসতে আসতে প্রায় নাই হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে আমার মাঝে আবারও চিঠি লেখার বাতিক জাগিয়ে দিলো আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ।</p>
<blockquote><p>একদিন হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সে আমাকে বললো<br />
“একটা জিনিস চাবো কিন্তু তুমি হাসতে পারবে না”, <br /></br><br />
আমি: “শুনি কি জিনিস চাও”<br /></br><br />
সে: “আগে বলো দিবে? আর শুনে হাসবে না?”<br /></br><br />
আমি বরাবরই একটু হেয়ালি করি এবারও হেয়ালি করে বললাম<br /></br><br />
“বারে দিবো না কেনো? তবে চাঁদ সূর্য তারা চেতে পারবা না আমি এখন মহাকাশে যেতে পারবো না। আমার দেয়ার সামর্থ আছে এমন জিনিস চেতে হবে?”<br /></br><br />
সে: “ধুর ফাইজলামী না, এটা তোমার দেয়ার সামর্থের মধ্যেই আছে তবে হাসবে না”<br /></br><br />
আমি: “আচ্ছা ঠিক আছে বলো হাসবো না”<br /></br><br />
সে: “তুমি কি আমাকে চিঠি লিখবে? আমার খুব ইচ্ছা যে আমাকে ভালোবাসবে সে আমাকে দেখা হলেই একটা করে চিঠি দিবে, বিয়ের পরও দিবে। জানি এসএমএস, ইমেইলে তাড়াতাড়ি আসবে কথা কিন্তু তারপরও চিঠির জন্য অপেক্ষা করতে যে আনন্দ তা আমি পেতে চাই। অপেক্ষা করতে চাই তোমার চিঠির, তোমার মতো তোমার চিঠিকে ভালোবাসতে চাই।”<br /></br><br />
আমি গম্ভীর হয়ে: “হুমম লিখবো”<br /></br><br />
সে: “তোমার লিখতে ভালো না লাগলে লেখার দরকার নেই, আমি বলছি বলেও লেখার দরকার নেই। তোমার মন চাইলেই কেবল লিখবে”<br /></br><br />
আমি: “আমার নিজেরই লিখতে ভালো লাগবে, আগে শখ ছিলো লেখার ছোটবেলায় ডায়েরী লিখতাম। বদলে এখন নাহয় তোমাকেই চিঠি লিখবো”<br /></br><br />
সে উচ্ছ্বসিত হয়ে: “সত্যি?”<br /></br><br />
আমি: “হুমম সত্যি”<br /></br><br />
সে: “উফফফ! তুমি অনেক ভালো”<br /></br>
</p></blockquote>
<p>তারপর কিছুক্ষণ আমরা কথা বলি কিভাবে চিঠি লিখবো কি লিখবো এসব নিয়ে। সেসব বলে পাঠকদের বিরক্তির উদ্রেক করবোনা।<br />
<br /></br><br />
যাই হোক সেই থেকে এখন পর্যন্ত যখনই সময় পাই তখনই চিঠি লিখি আমার প্রিয় মানুষটাকে। আমার প্রিয় মানুষটাও আমাকে চিঠি লেখে বরং আমার চেয়ে অনেক বেশিই লেকে বেশ বড় সড় করে। ও প্রায়ই আমার কাছে অভিযোগ করে যে আমি ওকে নিয়মিত চিঠি দেই না অথবা খুব অল্প কয়েকটা কথা লিখি। আমার খুব বেশি দোষ নেই বেশিরভাগ সময় কাগজ কলম নিয়ে লিখতে বসে দেখা যায় আমি মনে মনে বিশাল বড় চিঠি লিখে ফেলেছি কিন্তু বাস্তবে কাগজে কলমে খুব সামান্যই লেখা হয়েছে, একারণে আফসোস হয় কেনো এখনও মনের ভাষা বুঝে নিজে নিজে লিখে ফেলার প্রযুক্তি এখনও আবিস্কার হয়নি (অথবা বাজারে নেই কেনো)। থাকলে আমার খুব সুবিধা হতো।<br />
<br /></br><br />
(আবারও কেবল নিজের কথায় চলে যাচ্ছি)।<br />
<br /></br><br />
যারা কখনও চিঠি লিখেননি তারা অন্তত একবার চিঠি লিখুন প্রিয় কোন মানুষকে, যাদের ভালোবাসার মানুষ আছেন তারা ভালোবাসার মানুষকে চিঠি লিখুন। এটা বাধ্যতামূলক না যে আপনি ভালোবাসায় ভরা চিঠি লিখবেন, সারাদিনে অনেক কিছুই তো দেখেন তার থেকে একটা মজার জিনিস নিয়েই নাহয় লিখুন, অথবা মন খারাপের কথাই জানান প্রিয় মানুষটাকে। অনেক কথাই হয়তো সামনে বসে বলতে পারবেন না মনের কোণে  জমে থাকে, সেই কথাগুলোই নাহয় চিঠিতে জানান। ভালোবাসার মানুষের চিঠি হাতে পেলে কেমন লাগে তা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয় কেবল অনুভব করাই সম্ভব। হয়তো বলবেন এসএমএস, ইমেইল থাকতে কেনো চিঠি লিখবো? এসএমএসে সব কথা বলা যায় না, ইমেইল চিঠির মতো হলেও চিঠি লিখার সময় মনের ডালা যেমন মেলে দেয়া যায় কম্পিউটারের মনিটরের সামনে বসে মনের ডালাটা সেভাবে খুলে দেয়া যায় না। তাই অন্তত একবার হলেও চিঠি লিখুন।</p>
<p></br><br />
শেষ করার আগে আমার প্রিয় একটা গান তুলে দিলাম পাঠকদের জন্য, এই গানটা মনে গুনগুন করছিলো বলেই এই লেখার অবতারনা (সাথে আমার প্রিয় মানুষটার জন্যও লেখা)। গানের কথা রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্-র, বলা হয়ে থাকে মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীকে দেয়া এটাই তার শেষ চিঠি। গানটি ছোটবেলায় একটা নাটকে শুনেছিলাম নাটকের নাম এখন আর মনে নেই বিটিভিতে হতো, এই গানটা টাইটেল সং হিসেবে ছিলো।<br />
<br /></br><br />
গানটি শুনুন (খালি একোস্টিক গিটার বাজিয়ে গাওয়া, আর ভিডিওতে গায়ক কিন্তু আমি নই আমাকে দাবড়ানি দিয়েন না)<br />
<br /></br><br />
<object width="480" height="385"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/rzq1v7GCxKo&#038;hl=en_US&#038;fs=1&#038;"></param><param name="allowFullScreen" value="true"></param><param name="allowscriptaccess" value="always"></param><embed src="http://www.youtube.com/v/rzq1v7GCxKo&#038;hl=en_US&#038;fs=1&#038;" type="application/x-shockwave-flash" allowscriptaccess="always" allowfullscreen="true" width="480" height="385"></embed></object><br />
<br /></br><br />
গানের কথা:<br />
<br /></br></p>
<blockquote><p>ভাল আছি, ভালো থেকো,<br />
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো॥<br />
দিও তোমার মালাখানি,<br />
বাউলের এই মনটা রে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে॥<br />
<br /></br><br />
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক,<br />
খোলসের আবরনে মুক্তর সুখ॥<br />
তেমনি তোমার নিবিড় ছোঁয়া॥<br />
হৃদয়ের নীল বন্দরে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে॥<br />
<br /></br><br />
ভাল আছি, ভালো থেকো,<br />
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো॥<br />
দিও তোমার মালাখানি,<br />
বাউলের এই মনটা রে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে॥<br />
<br /></br><br />
ঢেকে রাখে যেমন কুসুম,<br />
পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম॥<br />
তেমনি তোমার নিবিড় চলা<br />
মরমের মূল পথ ধরে।<br />
<br /></br><br />
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে<br />
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।<br />
<br /></br><br />
ভাল আছি, ভালো থেকো,<br />
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো॥<br />
দিও তোমার মালাখানি,<br />
বাউলের এই মনটা রে।
</p></blockquote>
<p></font></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://ashabadi.com/2010/05/03/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

