উবুন্টু লিনাক্স নিয়ে প্রচার করার সময় প্রায়ই সমস্যার সম্মুক্ষিন হই যে নতুন ব্যবহারকারীরা একেবারে প্রাথমিক জিনিসগুলোও কিভাবে করতে হয় তা বুঝে উঠতে পারছেন না। অথবা বিভিন্ন সহায়িকা/লেখাগুলো যেখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার কারণে নতুন ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে বারবার বিভিন্ন সাইট/ফোরাম/ব্লগ ঘাটতে হয় যা কখনও কখনও বিরক্তির উদ্রেক করে। এই সব কারণ থেকেই উবুন্টু লিনাক্সের একটি সহায়িকা লেখার চিন্তা এসেছিলো মাথায়। যেই ভাবা সেই কাজ হিসেবে গত বছরের অক্টোবরে শুরুও করেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন কাজের মাঝে ও আলসেমীর কারণেও ধীরে ধীরে কাজ আগাতে থাকে। এপ্রিলে উবুন্টু লিনাক্স ৯.০৪ রিলিজ হওয়ার আগে আগে মনে হলো কাজটি শেষ করা উচিত। এরপর শাবাব মুস্তাফা, অয়ন খান, নির্ঝর, মানচুমাহারা, স্বপ্নচারীসহ লেখাটি বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার এলায়েন্স ডকুমেন্টেশন দলের বেশ কয়েকজনের পরামর্শ ও সহায়তায় শেষ পর্যন্ত উবুন্টু লিনাক্স ৯.০৪ সহায়িকা প্রকাশ করা হলো।
লেখাটি বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার এলায়েন্স ডকুমেন্টেশন দলের প্রকাশনা। প্রচারে সহায়তা করছে উবুন্টু বাংলাদেশ ও আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম।
বইয়ের লাইসেন্স ক্রিয়েটিভ কমন্স by-nc-sa
Monthly Archives: July 2009
বাংলায় উবুন্টু লিনাক্স ৯.০৪ সহায়িকা
বহুবছর পর জলাবদ্ধতা
ভিজতে পারলে ১৮ আনা আনন্দিত হতাম। এরপরও যা আছে খারাপ কি। এখন অল্প কয়েকটি ছবি তুলেছি সুযোগ পেলে আরও ঘুরে ছবি তুলবো।
ফেসবুক ব্যবহার করুন বাংলায়
কিছুদিন আগে কার প্রোফাইলে যেনো দেখলাম ফেসবুক বাংলা লোকালাইশেসনে আছে। চাইলেই বাংলায় ফেসবুক পাওয়া যায়। বিষয়টি কয়েকজনের মুছে শুনেছি করা যায়। কিন্তু আমি Settings>> Account Settings >> Language >> Primary Language এ গিয়ে বাংলা কোথাও দেখলাম না। এরপর গুগল করে এর সমাধান পেলাম। নিচে পদ্ধতিটি শেয়ার করছি যদি কেউ বাংলায় ফেসবুক ব্যবহার করতে চান তো।
Read more »
অনলাইন কন্টেন্টসের লাইসেন্স সম্পর্কে সচেতন হোন
অনলাইনে বিভিন্ন লেখাগুলোর লাইসেন্স মেনে লেখাগুলো ব্যবহার নিয়েও অনেকের মাঝে ভ্রান্ত কিছু ধারণা দেখা দিচ্ছে বা সমস্যায় পরে বুঝতে পারছেন না কি করনীয় বা কোনটা করা উচিত হবে না। আজকে জানা প্রয়োজন এমন কিছু বিষয় তুলে ধরছি।
-
১) কোন লাইসেন্স প্রকাশ করা নেই তাহলে এটা ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত
অনলাইনে কোন লাইসেন্স উল্লেখ করা না থাকলেও প্রকাশিত সকল লেখার স্বত্ত্ব মূল লেখক পাবেন। তাই আপনি অন্যের লেখা নিজের বলে চালাতে পারবেন না সেই সাথে কোন লাইসেন্স উল্লেখ করা নেই বলে অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করতে পারবেন না।
-
২) একটি লেখা আমি লিখেছি, অন্য কেউ একই বিষয়ে লিখতে পারবেন না
যদি একটি লেখার উপর ভিত্তি করে অপর একটি নতুন লেখা প্রকাশিত হয় (যা মূল প্রথম লেখার সাথে খুব কম মিল আছে অথবা প্রথম লেখা কেবল রেফারেন্স হিসেবে রয়েছে) তাতে কেউ বাঁধা দিতে পারবে না। এটি বেশিরভাগ দেখা যায় বিভিন্ন খবরের ক্ষেত্রে একই রকম খবর একই সূত্র থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তবে ভাষা ভিন্ন হয়ে থাকে।
-
৩) আমি একটি লেখা পড়লাম এবার আমি নিজের মতো করে লিখলে সমস্যা নেই
উপরের পয়েন্টের সম্পূর্ন বিপরীত পয়েন্ট বলতে পারেন এটাকে। একটি লেখার উপর ভিত্তি করে অপর একটি লেখা যাবে নাকি তা নির্ভর করবে লেখার ধরন ও লেখার বাণিজ্যিক মূল্যের উপর। যেমন, রিসার্চ পেপার অথবা কোন উপন্যাস আপনি এভাবে অন্যের লেখা থেকে আইডিয়া নিয়ে লিখতে পারবেন না।
-
৪) অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে উন্মুক্তভাবে শেয়ার করার জন্য তাই আমিও ব্যক্তিগতভাবে অথবা যেকোনভাবে ব্যবহার করতে পারবো
অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে সবার সাথে শেয়ার করার জন্য ঠিক, কিন্তু তারপরও লেখা সম্পর্কে সকল সিদ্ধান্ত ও স্বত্ত্বের মালিক মূল লেখক তাই লেখাটি কিভাবে ব্যবহার করবেন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন মূল লেখক।
-
৫) যতোক্ষন না আমি লেখা পরিবর্তন করছি ততোক্ষণ প্রকাশ করার সমস্যা নেই।
আপনি মূল লেখার ধরন একই রাখলেও যদি আপনি মূল লেখকের অনুমতি না নেন (এবং ক্ষেত্রবিশেষে মূল লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করেন) তাহলে তা কপিরাইট ভঙ্গ হবে।
-
৬) আমি কেবল অন্যকে জানানোর জন্য, অন্যকে আনন্দ দেয়ার জন্য লেখাটি ব্যবহার করছি
এরপরও কপিরাইট ভঙ্গ হবে যদি লেখকের অনুমতি বা সরাসরি বলা না থাকে কি কি কাজে ব্যবহার করা যাবে। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি লেখকের হয়ে প্রচার করছেন তবে লেখক হয়তো উক্ত প্রচারণা চান না, অথবা আপনার পদ্ধতি তার পছন্দ নয়। যেমন কোন মুভির কাহিনী সম্পর্কে লিখলে হয়তো কোন বাঁধা নেই কিন্তু মুভি-র ট্রেইলার হিসেবে ক্লিপ আপলোড করা দন্ডনীয় হতে পারে।
-
৭) আমি প্রকাশের সময় কোথাও উল্লেখ করিনি লেখাটি আমি লিখেছি, তাহলে আমাকে কপিরাইট ভঙ্গের জন্য ধরা যাবে না
কেউ নিজের নামে কোন লেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই তাকে মূল লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়। আপনি কোথাও যদি উল্লেখ না করে থাকেন এই লেখা অমুক লিখেছেন তাহলে আদালত ধরে নিবে আপনি বলছেন উক্ত লেখার মূল লেখক ও স্বত্ত্বাধিকারী আপনি।
-
৮) আমি ইংরেজী ভাষা থেকে লেখাটি অনুবাদ করে বাংলায় লিখেছি, যেহেতু আমার শ্রম গেছে এবং মূল লেখা ইংরেজীতে তাই আমি কপিরাইট ভঙ্গ করছি না
অনুবাদ যে ভাষায়ই করেন না কেনো মূল লেখার স্বত্ত্ব আরেকজনের এবং তার পূর্ব অনুমতি ছাড়া তার লেখা অনুবাদ করতে পারবেন না, অনুবাদ করে প্রকাশ তো পরের কথা।
-
৯) তাহলে কি কোন লেখা শেয়ার করতে পারবো না? প্রতিটির জন্য আলাদা করে অনুমতি দরকার হবে?
ভাগ্যক্রমে সকল লেখার লাইসেন্স চাবার প্রয়োজন নেই। যদি লেখাটি জ্ঞান আহরনের জন্য অথবা লেখাটির কোন বাণিজ্যিক মূল না থাকে তবে মূল লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে লেখাটি প্রকাশ করতে পারেন।
-
১০) কপিরাইট আইন মানার বাধ্যবাধকতা কি, সে পারলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক
এখানে আসলে মামলা করার কোন ব্যাপার না, এটা নৈতিকতার ব্যাপার। আপনি ধরা পরবেন না জেনেও যেমন চুরি করবেন না তেমনই অনলাইনের বৃহৎ জগতে ধরা পরবেন না ভেবে কপিরাইট মানবেন না তা নিশ্চয়ই নয়?
আইন মেনে চলতে বিশেষ কিছু লাগে না, একটু সচেতনতা একটু নৈতিকতা একটু কৃতজ্ঞতাবোধ। আসুন আমরা অন্যের কপিরাইট সম্পর্কে সচেতন হই, অন্যের লাইসেন্স মেনে চলি।
লেখাটি পূর্বে আমাদের প্রযুক্তিতে প্রকাশিত
উন্মুক্ত সংস্কৃতি….. কিছু একান্ত চিন্তাভাবনা
ইদানিং প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন পত্রিকা ওয়েবসাইট ফোরামে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা তর্ক বিতর্ক হয়। তার মধ্যে সবসময়ই আলাদা স্থান করে রেখেছে উন্মুক্তসোর্স প্রযুক্তি বা মুক্তসোর্স সফটওয়্যার (open source software-OSS)। অসংখ্য মানুষ এর পক্ষে আবার অগনিত মানুষ এর বিপক্ষে। এই তর্ক বিতর্ক টানাপোরেনের মাঝে দেখা যায় মূল বিষয়গুলো হারিয়ে যায়। মানুষ আরও বেশি দ্বিধান্বীত হয়ে পরে। আজকের এই লেখাটা আসলে মুক্তসোর্স (ব্যক্তিভেদে উন্মুক্তসোর্স) নিয়ে আমার ধারনা সম্পর্কে।
অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় মুক্তসোর্স বললে মানুষ মুক্তসোর্স সফটওয়্যারের কথা বুঝে থাকেন। তবে মুক্তসোর্স কেবল সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেই নয় বরং বিশ্বের প্রতিটি পন্যের সাথে প্রতিটি বিষয়ের সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। উন্মুক্তসোর্স, আরেকটু ভালো করে বললে উন্মুক্ত সংস্কৃতি (free or open culture) আসলে একটি দর্শন, একটি আদর্শ। উন্মুক্তসংস্কৃতি একটি উন্মুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দেখায়।
Read more »
ওপেনসোর্স, উবুন্টু, বিএলইউএ এবং আমি
ওপেনসোর্স আন্দোলন (open source movement/initiative) সারা বিশ্বের সফটওয়্যার জগতের একটি বহু আলোচিত/বিতর্কিত বিষয়। ওপেনসোর্স বলতে সফটওয়্যারের সোর্সকোডকে সহজে পর্যবেক্ষন, পরিমার্জন ও ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া বুঝানো হয়ে থাকে। ওপেনসোর্স আন্দোলনের মূল ফ্রি (উন্মুক্ত/স্বাধীনতা অর্থে) সফটওয়্যার আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান ১৯৮৫ সালে ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেন এবং সেই সাথে ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলনের সূচনা করেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ ফ্রি (উন্মুক্ত) সফটওয়্যারের সাথে ফ্রি (বিনামূল্যের) সফটওয়্যার গুলিয়ে ফেলতে থাকে বলে ১৯৯৮ সালে জন হল, লেরী আগাসটিন, এরিক রেমন্ড, ব্রুস পেরেন্স প্রমুখ ওপেনসোর্স আন্দোলনের কথা ঘোষণা দেন।ওপেনসোর্স আন্দোলনের ইতিহাস
এই ওপেনসোর্স আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোন সফটওয়্যার ব্যবহার, পরিবর্তন এবং (ক্ষেত্রবিশেষে) বিতরণের পূর্ণ ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। একটি সফটওয়্যারের সোর্স কোড যদি উন্মুক্ত হয় তাহলে
১) সফটওয়্যারের ক্রুটি (bug) দ্রুত দূর করা সম্ভব হবে
২) সফটওয়্যারের সাপোর্ট উন্নত মানের হবে (যেহেতু পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে যেকোন ডেভেলপারের সাহায্য পাওয়া যাবে)
৩) ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার কাস্টোমাইজেশন সহজ হয়ে ওঠা
৪) একটি সফটওয়্যারের কোড দেখে আরও উন্নত অপর একটি সফটওয়্যার তৈরি করা সহজ
৫) ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের বিভিন্ন ডিরাইভেটিভস থাকার কারনে ব্যবহারকারীরা যেকোন পরিস্থিতিতে তাদের চাহিদা মেটাতে পারেন
৬) অধিকাংশ ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত
Read more »
লেখার লাইসেন্স
সাধারনত ব্লগে কেউ পোস্টের লাইসেন্স করে না। তবে আমি যেহেতু সামনের দিনগুলোতে বেশ কিছু গাইড, টিউটোরিয়াল, প্রিভিউ/রিভিউ লিখতে চাই তাই আগে থেকেই লেখাগুলোর লাইসেন্স উল্লেখ করে রাখতে চাই। যাতে পরে ভুল বুঝাবুঝি না হয়।
এই ব্লগের ব্যক্তিগত ক্যাটাগরি ছাড়া সকল ক্যাটাগরির লেখা ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের by-nc-sa (By Attributes-Non Commercial-Share Alike) লাইসেন্সে প্রকাশ করছি। অর্থাৎ যেকেউ অবানিজ্যিক কাজে আমার লেখা প্রয়োজনে পরিমার্জন করে ব্যবহার করতে পারবেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত মূল কাজের জন্য আমার নাম উল্লেখ করবেন এবং সকল পরবর্তী সংস্করণ একই লাইসেন্সে প্রকাশ করবেন।

Writing by Shahriar (আশাবাদী) is licensed under a Creative Commons Attribution-Noncommercial-Share Alike 3.0 Unported License.
বকবকানির শুরু
বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিভিন্ন শখ ওঠে। আমার ছোটবেলা থেকেই শখ ছিলো ডায়রী লিখবো, এবং অনেকদিন পর সেই ডায়রীর লেখা পরে স্মৃতি রোমন্থন করবো। ডায়রী লেখা বেশ কয়েকবার শুরু করলেও আলসে হওয়ায় বেশিদিন চালানো হয়নি, কেবল আলসেমীই নয় অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও ভুলে গিয়েছি ডায়রীতে নতুন ঘটনা লেখার বিষয়। হঠাৎ করে এতোদিন পর আবারও সেই শখ মাথা চারা দিয়ে উঠলো। তবে এবার আর কাগজে কলম বুলিয়ে নয় কীবোর্ডে হাত চালিয়ে লেখার খায়েশ হলো। তাই খুলে ফেললাম শেষ পর্যন্ত “আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা”।
“আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা” নামটি নেয়ার পিছনে কারণ হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবহার করে আসা আমার ছদ্মনামটি, জ্বি আশাবাদী বাংলা অনলাইন জগতে আমি ব্যবহার করছি বেশ কিছুদিন ধরে। আশাবাদী ছদ্মনামটি নেয়ার সময় তেমন কিছু চিন্তাভাবনা করা হয়নি। Read more »
Recent Comments