বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিভিন্ন শখ ওঠে। আমার ছোটবেলা থেকেই শখ ছিলো ডায়রী লিখবো, এবং অনেকদিন পর সেই ডায়রীর লেখা পরে স্মৃতি রোমন্থন করবো। ডায়রী লেখা বেশ কয়েকবার শুরু করলেও আলসে হওয়ায় বেশিদিন চালানো হয়নি, কেবল আলসেমীই নয় অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও ভুলে গিয়েছি ডায়রীতে নতুন ঘটনা লেখার বিষয়। হঠাৎ করে এতোদিন পর আবারও সেই শখ মাথা চারা দিয়ে উঠলো। তবে এবার আর কাগজে কলম বুলিয়ে নয় কীবোর্ডে হাত চালিয়ে লেখার খায়েশ হলো। তাই খুলে ফেললাম শেষ পর্যন্ত “আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা”।
“আশাবাদীর দিনপঞ্জিকা” নামটি নেয়ার পিছনে কারণ হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবহার করে আসা আমার ছদ্মনামটি, জ্বি আশাবাদী বাংলা অনলাইন জগতে আমি ব্যবহার করছি বেশ কিছুদিন ধরে। আশাবাদী ছদ্মনামটি নেয়ার সময় তেমন কিছু চিন্তাভাবনা করা হয়নি।
তবে আমি আশাবাদী সুন্দর একটি পৃথিবীর, যেখানে সবাই বেঁচে থাকে অন্যের জন্য কাজ করে তো অন্যের উপকারের জন্য, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামগ্রিক স্বার্থ অনেক বড়। তবুও মাঝে মধ্যে চারপাশের দৃশ্য দেখল হতাশা ছেয়ে যায় আমাকে। অনেক সময়ই সব আশা নিরাশায় পরিনত হয়, মনে হয় মরিচিকার পিছনে ছুটে চলেছি। কিন্তু তারপরও আবার ভালো কোন খবরে আশায় বুক বাধি হয়তো পরিবর্তনের হাওয়া সবার গায়ে লাগলো, হয়তো সবাই নতুন করে আত্মউপলোব্ধী করতে শুরু করেছে। আশা ছাড়তে পারিনা তাই আশাবাদী রয়ে যাই শেষ পর্যন্ত।
উপরের কয়েকটি লাইন পড়ে মনে হতে পারে আমি একটু ভাবাবেগগ্রস্থ ব্যক্তি, হতেও পারে আবার নাও হতে পারে কখনও সেভাবে ভাবা হয়নি। আমি নিজের সম্পর্কে তেমন ভালোভাবে কিছু বলতে পারি না তবুও যেটুকু ভেবেছি তা খুব আশাব্যাঞ্জক নয়।
আমি খুবই অন্তর্মূখী, গল্পগুজব আড্ডা আমি তেমন ভালো জমাতে পারি না, নিজেও আড্ডায় চুপচাপ থাকি। বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা খুবই সীমিত হাতে গুনে বলতে পারবো, তাদের সাথেও যোগাযোগ ইদানিং কমে এসেছে। বাস্তবে অন্তর্মূখী হলেও ভার্চুয়াল অনলাইন জগতে একটু বেশিই কথা বলে ফেলি (হুহ: এতো বড় লেখা দেখে বুঝা উচিত)। কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয় কথা বলি কখনও কখনও অন্যকে না বুঝে বিরক্ত করি। প্রায়ই ঝোঁকের মাথায় কথা বলি, কখন কোনটা বলা উচিত আর কোনটা বলা উচিত না এটা খুব ভালোভাবে ভেবে দেখি না। কেবল কথা বলার ক্ষেত্রেই না কাজ করার সময়ও অধিকাংশ সময় ফলাফল কি হতে পারে তা চিন্তা করে দেখা হয়না। তবে হ্যাঁ একটা জিনিস হলো আমি যা মনে করি তা সবসময়ই বলি এবং তা মেনে চলার সর্বাত্তোক চেষ্টা করি। (এজন্য অনেকেই আমাকে ঘাঁড় ত্যাঁড়া বলে, সহজে অন্যের কথা মেনে নিতে চাই না বলে।) আরও একটি খারাপ বিষয় হচ্ছে রাগ উঠলে দিকবিদিকশূন্য কাজ করে ফেলি, ইদানিং এই স্বভাবটি কমেছে। গোপন কথা গোপন রাখা আমার জন্য অনেক কষ্টকর, প্রায়ই অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য আরেকজনকে দিয়ে দেই, এজন্য আমাকে বেশ কয়েকবার ভুগতে হয়েছে। এই একই কারনে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু শিমুলের সাথে চিরতরে ঝগড়া হয়েছে, আমি এখনও এজন্য মনে মনে কষ্ট পাই, এবং প্রায়ই মনে মনে ওর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। প্রতিনিয়ত এই খারাপ অভ্যাস ছাড়ার চেষ্টা করছি প্রায়ই ভুল হচ্ছে তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কিছুটা আলসে, অনেক বিষয়ে দায়িত্ব নিলেও একেবারে শেষ মূহুর্তে এসে সব কাজ না করলে হয় না। বিভিন্ন কাজে আগ্রহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হয় না।
হুমম এখন মনে হচ্ছে আমি খুবই খারাপ ব্যক্তি?? আমার ভালো কিছু দিকও আছে। আমি সহজে কাউকে কষ্ট দিতে বা আঘাত দিতে চাইনা। (সেজন্য অনেক সময় অন্যায় করতে দেখলেও বাধা দিতে পারি না, তখন খুবই অসহায় লাগে)। অযথা অপ্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলা এড়িয়ে চলি (কখনও কখনও মিথ্যা কথা ক্ষেত্র বিশেষে বলা লাগেই)। কারো সাহায্য লাগলে যথাসাধ্য সাহায্য করতে আগ্রহী। বন্ধুবান্ধব কম বলে বন্ধুদের প্রতি দায়িত্বশীল এবং বন্ধুদের মন রক্ষা করতে চাই সবসময় (তার মানে এই না যাই বলবে তাই করবো, অবশ্যই যৌক্তিকভাবে সাহায্য করবো)।
ভালো মন্দ সবমিলিয়ে আমি একজন সাধারণ মানুষ। যে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে, চায় একটি সুন্দর একটি পৃথিবীর এবং আশা করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।
এতো ধৈর্য্য ধরে পুরাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং একই সাথে আশাবাদীর দিনপঞ্জিকায় আপনাকে স্বাগতম
ব্লগটি তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ রাসেল ভাই ও এঞ্জেলের প্রতি
–আশাবাদী
ভালো।